Published : 11 Jun 2026, 04:59 PM
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় আলাদা করে তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টর নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার বিষয় থাকলেও, অন্যান্য খাতের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের আলোচনাও এসেছে।
গোটা বাজেট বক্তৃতায় তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়ে সরকারের প্রবণতায় চোখ বুলানো যাক-
প্রযুক্তি খাতের বড় সিদ্ধান্ত
● স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
● স্টার্টআপ সংশ্লিষ্ট আমদানি করা সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব রয়েছে।
● স্টার্টআপের অফিস বা স্থাপনা ভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব রয়েছে।
● ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা, ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তাদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব এসেছে।
কম্পিউটার ও আইটি সরঞ্জাম
ভোক্তারা সম্ভবত এ খাতেই সবচেয়ে বেশি নজর রাখবেন। দেখা যাক এখানে কী আছে-
ডেস্কটপ কম্পিউটার আমদানিতে সব ধরনের আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে।
সার্ভার, কম্পিউটার মনিটর, কম্পিউটার প্রিন্টার ও মেমরি চিপ বা এসএসডি আমদানিতে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া অন্য সব শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে।
এর ফলে কম্পিউটার, মনিটর, স্টোরেজ ও অফিস আইটি সরঞ্জামের দাম কমতে পারে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি
পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ইলেকট্রিক গাড়ি ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে। এতে করে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানীর খরচ গ্রাহক পর্যায়ে কমবে।
মোবাইল ফোন শিল্প
মোবাইল ফোন উৎপাদন ও সংযোজন শিল্পের জন্য বিদ্যমান মূসক সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে স্থানীয়ভাবে তৈরি স্মার্টফোনের মূল্য প্রতিযোগিতামূলক থাকবে।
ডিজিটাল পেমেন্ট
পয়েন্ট অফ সেলস বা পস মেশিন আমদানিতে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে। এর ফলে খুচরা দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কার্ড ও ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ সহজ হতে পারে।
ব্যবসা সহজীকরণ
লাইসেন্স ও অনুমোদনের জন্য অনলাইনভিত্তিক সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করছে সরকার। পাশাপাশি অনলাইনে আবেদন থেকে লাইসেন্স প্রদান পর্যন্ত প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ খাতে অভিযোগ ও সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে আলাদা ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী।