২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বাজ অলড্রিনের চন্দ্রাভিযানের জ্যাকেট বিকালো ২৮ লাখ ডলারে

নিলামে ওঠা জিনিসপত্রের সঙ্গে দেওয়া নোটে অলড্রিন লিখে দিয়েছেন– স্পেসসুটের চেয়ে বেশি আরামদায়ক ছিল জ্যাকেটটি।

বাজ অলড্রিনের চন্দ্রাভিযানের জ্যাকেট বিকালো ২৮ লাখ ডলারে

ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2022, 02:39 PM

Updated : 27 Jul 2022, 02:45 PM

নিলামে ২৮ লাখ ডলার দামে বিক্রি হয়েছে এডুইন (বাজ) অলড্রিনের অ্যাপলো ১১ মিশনের স্পেস জ্যাকেট। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক মিশনে চাঁদে যাওয়া-আসার পথে অলড্রিনের গায়েই ছিল ওই জ্যাকেটটি।

৯২ বছর বয়সী এই কিংবদন্তী সব মিলিয়ে নিজের ব্যক্তিগত ৬৯টি জিনিসপত্র নিলামে তুলেছিলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা আর নাসার লোগো খোচিত স্পেস জ্যাকেটটিকে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে 'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ' স্মারকচিহ্ন।

চাঁদের বুকে প্রথম মানুষ হিসেবে পা দিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। কিন্তু ঠিক তার সঙ্গেই ছিলেন বাজ অলড্রিন। অ্যাপলো ১১ মিশনের লুনার মডিউল ‘ইগল’-এর পাইলট হিসেবে কমান্ড মডিউল ‘কলম্বিয়া’ থেকে চাঁদে অবতরণ আর ফেরত আসার গুরুদায়িত্বটি ছিল অলড্রিনের ঘাড়েই।

Image

ছবি: নাসা

অ্যাপলো ১১ মিশনে ইতিহাস গড়া তিন নভোচারীর মধ্যে এখন জীবিত আছেন কেবল অলড্রিন।

অ্যাপলো ১১ মিশনে ছয় দিনের মহাকাশযাত্রার সিংহভাগ সময়ে জ্যাকেটটি পরেছিলেন অলড্রিন। কেবল চাঁদে অবতরণের সময়েই পোশাক পাল্টে স্পেসসুট পরে নিয়েছিলেন তিনি। সেই জ্যাকেটটি বিক্রি করতে নিউ ইয়র্কে নিলাম ডেকেছিল প্রথমসারির নিলামঘর ‘সোথবি’।

আর্মস্ট্রং আর অলড্রিনের চাঁদে অবতরণ টেলিভিশনে ‘লাইভ’ দেখেছিলেন বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৫ কোটি মানুষ।

চাঁদে ২১ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় কাটানোর পর অ্যাপলোর কমান্ড মডিউলে ফিরে আসেন আর্মস্ট্রং এবং অলড্রিন। ফিরেই নিজের জ্যাকেটটি পরে নেন অলড্রিন। জ্যাকেটটি স্পেসসুটের চেয়ে বেশি আরামদায়ক ছিল বলে নিলামে ওঠা জিনিসপত্রের সঙ্গে দেওয়া নোটে লিখে দিয়েছিলেন তিনি।

Image

ছবি: রয়টার্স

বিবিসি জানিয়েছে, জ্যাকেটটির উপকরণ হিসেবে ছিল ‘বেটা ক্লথ’ নামের অগ্নি প্রতিরোধক কাপড়। ১৯৬৯ সালের অ্যাপলো মিশনে নভোচারীরা যে পোশাক পরেছিলেন তার মধ্যে কেবল অলড্রিনের জ্যাকেটটিই এতোদিনে বিক্রি করা হলো বলে জানিয়েছে বিবিসি।

নিলামে জ্যাকেটটির আগ্রহী ক্রেতাদের মধ্যে লড়াই চলেছে প্রায় ১০ মিনিট। শেষ পর্যন্ত নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফোন কলের মাধ্যমে নিলামে অংশ নেওয়া এক ক্রেতা জ্যাকেটটি জিতে নেন বলে সোথবির বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

নিলামে ওঠা অলড্রিনের ব্যক্তিগত জিনিসগুলোর মধ্যে আরও ছিল একটি ভাঙ্গা সর্কিট ব্রেকার সুইচ এবং একটি কালো কালির কলম।

নিলামে অলড্রিনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি করে সবমিলিয়ে ৮২ লাখ ডলার উঠেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। অ্যাপলো ১১ মিশনের ফ্লাইট প্ল্যানটি বিক্রি হয়েছে আট লাখ ১৯ হাজার ডলারে।