Published : 17 Aug 2025, 03:44 PM
শহরে মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতের জীবন বা বসবাসের ধারণাই বদলে দিচ্ছে কিছু শহর। এসব আধুনিক শহর কেবল উঁচু দালান নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এগুলো যেন পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতে চলে, ইন্টারনেটনির্ভর প্রযুক্তি বা আইওটির মাধ্যমে একে-অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে তেমন টেকসইভাবেই গড়ে তোলা হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতে চলে এমন আধুনিক ছয়টি শহর সম্পর্কে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট ‘হাওস্টাফওয়ার্কস’-এর প্রতিবেদনে থেকে জেনে নিন–
মাসদার সিটি, আবু ধাবি
‘মাসদার সিটি’ হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তৈরি পরিকল্পিত এক স্মার্ট শহর। এ শহর নির্মাণের লক্ষ্য হচ্ছে পরিবেশে শূন্য বর্জ্য ও শূন্য কার্বন নির্গমন।
শহরটিতে সৌর প্যানেল, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বা ইভি ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী ভবনের মতো পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস ব্যবহার করে শক্তি কম খরচ করা হয়। স্মার্ট স্ট্রিটলাইট ও চালকবিহীন গাড়ি শহরটিকে নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতেও সাহায্য করেছে।
স্মার্ট ফরেস্ট সিটি, মেক্সিকো
ইতালীয় স্থপতি স্তেফানো বোয়েরি’র নকশা করা কানকুনে প্রস্তাবিত এ শহরটি হবে বিশ্বের প্রথম স্মার্ট ফরেস্ট সিটি।
পরিবেশবান্ধব শক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে এই শহর, যেখানে থাকবে যথেষ্ট সবুজ এলাকা। পরিবেশ থেকে বছরে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার টন কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে শহরটিকে। এখানকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ ও গণপরিবহন সহজ করতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট অফ থিংস বা আইওটি একসঙ্গে কাজ করবে।
সোংডো, দক্ষিণ কোরিয়া
পুনরুদ্ধার করা জমিতে তৈরি করা হয়েছে সোংডো শহর। এটি পূর্ণাঙ্গ এক স্মার্ট শহর, যেখানে প্রতিটি ভবনে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি ব্যবহারের মতো নানা বিষয় রিয়াল টাইমে বা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ শহরের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে, যাতে শহরের বাসিন্দা ও ব্যবসা আরও সহজ ও উন্নত পরিষেবা পায়।
টেলোসা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তাবিত শহর
বিলিয়নেয়ার মার্ক লোরের ধারণায় তৈরি হতে যাচ্ছে টেলোসা শহরটি, যেটি একেবারে নতুন ধরনের এক ভবিষ্যতমুখী শহর। এর নকশা করেছে বিখ্যাত স্থাপত্য কোম্পানি ‘বিয়ারকে ইংলস গ্রুপ’ বা বিআইজি।
এ শহরের মূল পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে টেকসই জীবনধারা, সবার জন্য উন্মুক্ত জায়গা ও সমানভাবে জমির মালিকানা দেওয়ার মতো সামাজিক ন্যায়ের বিভিন্ন ধারণাকে।
প্রথম ধাপে গড়ে উঠবে পরিবেশবান্ধব ভবন, স্মার্ট শহরের জন্য প্রযুক্তি ও এমনভাবে বসবাসের ব্যবস্থা তৈরি করা হবে, যাতে ১৫ মিনিট হাঁটলেই প্রকৃতির ছোঁয়া মিলবে।
সিঙ্গাপুর
স্মার্ট সিটি উন্নয়নে এরইমধ্যে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শহর সিঙ্গাপুর। এখানে আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে গণপরিবহন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও শহরের পরিকল্পনা পরিচালনা করছে দেশটির সরকার।
এখানে চালু রয়েছে ইলেকট্রিক বাস, সৌর প্যানেল ও পরিবেশবান্ধব ভবনের মতো প্রকল্প। যাতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হলেও বাসিন্দাদের জন্য জায়াগাটি আরও আরামদায়ক ও বসবাসযোগ্য হয়ে ওঠে।
পেনাং দ্বীপ, মালয়েশিয়ার বায়োডাইভার্সিটি প্রকল্প
মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের পাশে তিনটি কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার নাম বায়োডাইভারসিটি। প্রকৃতি ও প্রযুক্তিকে একসঙ্গে মিলিয়ে গড়ে তোলা হবে এ শহর।
এ ভাসমান এ শহরগুলোয় সীমিত যানবাহন চলাচল করবে, ইভি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি থাকবে। প্রকল্পটির নকশায় কাজ করছে ‘বিআইজি’। এসব শহর পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব শক্তিতে চলবে ও টেকসই শহর জীবনের নতুন নজির স্থাপন করবে।
ভবিষ্যতের আধুনিক শহরের উদাহরণ এসব শহর, যেখানে উন্নত প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব নকশা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত, এ তিনটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করে গড়ে তুলছে আগামী দিনের জীবনযাত্রার নতুন পথ।