Published : 08 Sep 2025, 10:34 AM
বর্তমানে কুকি বিষয়ে নোটিস ছাড়া ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা যেন এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত একটি পপ-আপ আসে, যেখানে বলা থাকে ‘একসেপ্ট অল’ বা সব মেনে নিন ও ‘রিজেক্ট অল’ বা সব বাতিল করুন। কখনো কখনো তৃতীয় কোনো অপশনও থাকতে পারে বা পছন্দ অনুসারে সেটিং বদলানোর জন্য লিংকও থাকতে পারে।
ব্যবহারকারীদের জন্য এ ধরনের বিভিন্ন পপ-আপ ও ব্যানার সাধারণত বিরক্তিকর বিষয় হয়ে থাকে এবং প্রথম প্রতিক্রিয়া হয়ত এগুলোকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরিয়ে ফেলার চেষ্টাও করেন অনেকে। এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে সরাসরি ‘একসেপ্ট অল’ বাটনে ক্লিক করেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
কিন্তু কুকি আসলে কী? ব্যবহারকারীদের বারবার কেন এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়। আর যখন তারা কুকি ‘একসেপ্ট’ বা ‘রিজেক্ট’ করে তখন কী ঘটে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে গেলে বুঝতে হবে ব্যবহারকারীর প্রতিটি সিদ্ধান্তই তার অনলাইন প্রাইভেসির ওপর কিছু না কিছু প্রভাব ফেলেই।
কুকি কী?
কুকি হচ্ছে ছোট ফাইল, যা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে সংরক্ষণ করে। এসব ফাইলে এমন কিছু তথ্য থাকে যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে যেসব ওয়েবসাইট আপনি নিয়মিত ভিজিট করেন সেগুলোর বেলায়।
এতে ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য, পছন্দের খবরের বিভাগ বা লেখার সাইজ মনে রাখার বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত থাকতে পারে। আবার ব্যবহারকারীর আগে ঘাঁটাঘাঁটির ওপর ভিত্তি করে পণ্য সাজেস্ট করতেও কুকি ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন শপিং সাইট।
এ ছাড়া বিজ্ঞাপনদাতারা কুকির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং ট্র্যাক করে, যাতে আপনার জন্য নির্দিষ্ট ধরনের বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে তারা।
কুকির অনেক ধরন রয়েছে। তবে কুকি শ্রেণিবিন্যাসের উপায় হচ্ছে এগুলো কতদিন ব্যবহারকারীর ডিভাইসে থাকে, তার ভিত্তিতে। কুকি দুই প্রকার।
যেমন– একটি সেশন কুকি, এটি কেবল তখনই থাকে যতক্ষণ ব্যবহারকারী কোনো ওয়েবসাইটে থাকেন। ব্যবহারকারী ব্রাউজ করা বন্ধ করলেই কুকি মুছে যায়।
আরেকটি হচ্ছে পার্মানেন্ট কুকি। এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকে ও ব্যবহারকারীকে মনে রাখতে পারে, বিশেষ করে ব্যবহারকালীন লগইন তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে, যাতে ব্যবহারকারী সহজেই ইমেইলে প্রবেশ করতে পারেন। এসব কুকির মেয়াদ কয়েক দিন থেকে শুরু করে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।
কুকি ‘একসেপ্ট’ না কি ‘রিজেক্ট’ করা উচিত?
কুকি গ্রহণ করবেন না কি বাতিল করবেন তা পুরোপুরি ব্যবহারকারীর পছন্দের ওপরই নির্ভর করে।
ব্যবহারকারী যখন ‘একসেপ্ট অল’ বেছে নেন তখন তিনি ওয়েবসাইটকে সব ধরনের কুকি এবং ট্র্যাক করা ও সংরক্ষণের অনুমতি দিয়ে দেন। ফলে ব্যবহারকারী ওয়েবসাইটের সব সুবিধা পেতে পারেন। এর মাধ্যমে এমন সব ফিচারও চালু হয়ে যায় যেগুলো ব্যবহারকারীর সম্মতির জন্য অপেক্ষা করছিল।
যেমন– ওয়েবসাইটের বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের জায়গাতে ব্যবহারকারীর আগের ব্রাউজিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তাদেরকে থার্ড পার্টির কুকির মাধ্যমে ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপন দেখানো হতে পারে।
অন্যদিকে ব্যবহারকারী যদি ‘রিজেক্ট অল’ বেছে নেন বা কুকির ব্যানারটি উপেক্ষা করেন তবে ওয়েবসাইট কেবল প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কুকিই ব্যবহার করতে পারবে, যেগুলো ওয়েবসাইটের মূল ফিচার চালু রাখার জন্য দরকার। তবে ব্যক্তিগতকৃত কনটেন্ট, বিজ্ঞাপন বা থার্ড পার্টির সেবা দেখতে পাবেন না।
ব্যবহারকারী কুকি ‘একসেপ্ট’ না কি ‘রিজেক্ট’ করছেন সেই পছন্দটি ‘কনসেন্ট কুকি’তে সংরক্ষণ করা হয়। এ তথ্য সাধারণত ছয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত রাখে ওয়েবসাইট।
এ ছাড়াও ব্যবহারকারী চাইলে যে কোনও সময় নিজের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন। বেশিরভাগ ওয়েবসাইটের নিচের দিকে ‘কুকিজ সেটিংস’ নামের অপশনে গিয়ে গিয়ে নিজের পছন্দমতো কুকি অনুমোদন বা বাতিল করতে পারেন।
তবে কিছু ওয়েবসাইটে অপশনটি ‘কুকি নীতিমালা’ নামেও থাকতে পারে বা কোনো ওয়েবসাইটের ‘প্রাইভেসি পলিসি’র মধ্যেই এসব অপশন থাকতে পারে।
প্রাইভেসির সঙ্গে কুকির সম্পর্ক কি?
এখন প্রায় সব ওয়েবসাইটেই ‘কুকি কনসেন্ট’ পপ-আপ দেখা যায়। এর মূল কারণ হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাইভেসি বিষয়ক এক আইন, যা চালু হয়েছে ২০১৮ সালে। এ আইনটির নাম হচ্ছে ‘জেনারেল ডেটা প্রটেকশন রেগুলেশন’ বা জিডিপিআর। অনলাইনে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা যাবে সে বিষয়ে খুব কঠোর নিয়মকানুন রয়েছে আইনটিতে।
আইনের বিভিন্ন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেসব কুকি ব্যবহারকারীর পরিচয় বা আচরণ শনাক্ত করতে পারে সেগুলো ব্যবহার করতে হলে ওয়েবসাইটকে আগে তার অনুমতি নিতে হবে, যেটি জিডিপিআর আইনের আওতায় পড়বে। এ কারণেই এখন সব জায়গায় কুকি পপ-আপ দেখা যায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবহারকারীরাও অনেক ওয়েবসাইটেই প্রবেশ করেন। ফলে এ প্রাইভেসি আইনের সঙ্গে যাতে বিরোধে না পড়তে হয় সেজন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট তা ইউরোপে হোক বা না হোক তারা ইইউ’র জিডিপিআর আইন মেনে চলে।