Published : 15 Apr 2026, 03:59 PM
ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী স্টারলিংককে টেক্কা দিতে স্যাটেলাইট কোম্পানি গ্লোবালস্টারকে কিনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন ইকমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন।
এ ক্রয়ের মাধ্যমে নিজেদের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অ্যাপলের সঙ্গেও অ্যামাজন বিশেষ অংশীদারিত্ব ধরে রাখল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
মঙ্গলবার অ্যামাজন বলেছে, তারা ১১৫৭ কোটি ডলারে গ্লোবালস্টার কিনে নিচ্ছে।
এ খবর প্রকাশের পর প্রি-মার্কেট ট্রেডিংয়ে গ্লোবালস্টারের শেয়ারের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর আগে দুই কোম্পানির আলোচনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় গেল দুই সপ্তাহেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছিল।
এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং এ অধিগ্রহণের খবরের আগে এ বছরে এখন পর্যন্ত তা প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবার অ্যামাজনের শেয়ারের দামও প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে।
এ চুক্তির ফলে গ্লোবালস্টারের ২৪টি স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ পাবে অ্যামাজন। যার মাধ্যমে মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘স্টারলিংক’কে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল তারা।
বর্তমানে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্টারলিংকের প্রায় ১০ হাজার স্যাটেলাইট রয়েছে।
গ্লোবালস্টারের সঙ্গে অ্যামাজনের চুক্তির শর্ত অনুসারে, গ্লোবালস্টারের বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রতিটি শেয়ারের বিনিময়ে হয় ৯০ ডলার নগদ বা অ্যামাজনের দশমিক ৩২১০টি সাধারণ শেয়ার নিতে পারবেন।
অ্যামাজন ২০২৯ সালের মধ্যে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে প্রায় ৩ হাজার ২০০টি স্যাটেলাইট বসানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম অনুসারে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এ নির্ধারিত সংখ্যার প্রায় অর্ধেক স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাতে হবে।
কোম্পানিটি বর্তমানে দুইশোরও বেশি স্যাটেলাইটের এক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে এবং এ বছরের শেষদিকে তাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর বিপরীতে, এ খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি স্টারলিংক বিশ্বজুড়ে এরইমধ্যে ৯০ লাখেরও বেশি গ্রাহককে পরিষেবা দিচ্ছে।
অ্যাপলের ‘ইমার্জেন্সি এসওএস’ ফিচারে ব্যবহৃত প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিত লুইজিয়ানার কভিংটনভিত্তিক কোম্পানি গ্লোবালস্টার। বর্তমানে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে তাদের প্রায় ২৪টি স্যাটেলাইট চালু রয়েছে।
গত বছরের শেষদিকে গ্লোবালস্টার বলেছিল, অ্যাপলের সহায়তায় নতুন এক নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ চলছে, যা সম্পন্ন হলে তাদের স্যাটেলাইটের সংখ্যা ৫৪’তে পৌঁছাবে, যার মধ্যে কিছু ব্যাকআপ স্যাটেলাইটও থাকবে।
বিভিন্ন ব্যবসায়িক কোম্পানি, সরকারি সংস্থা ও সাধারণ গ্রাহকদের ভয়েস, ডেটা এবং সম্পদ ট্র্যাকিং পরিষেবা দিয়ে থাকে গ্লোবালস্টার।
একইসঙ্গে অ্যামাজন ও অ্যাপল একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীদের জন্য স্যাটেলাইটভিত্তিক বিভিন্ন নিরাপত্তা ফিচার, যেমন ইমার্জেন্সি এসওএস ও ফাইন্ড মাই চালু রাখা নিশ্চিত করা হবে। এরইমধ্যে গ্লোবালস্টারে প্রায় দেড়শ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে অ্যাপল।
মার্কিন বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনুমোদন ও গ্লোবালস্টারের স্যাটেলাইট বসানোর নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সাপেক্ষে এ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি আগামী বছর সম্পন্ন হতে পারে।