Published : 23 Oct 2025, 11:45 AM
এআই ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞসহ বিশ্বের শত শত মানুষ, যাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ ওজনিয়াক, ভার্জিন গ্রুপ-এর প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্র্যানসন ও এআই গডফাদার খ্যাত জিওফ হিন্টন।
তারা বলছেন, এআই ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির চেষ্টা এখনই থামানো উচিত। ভবিষ্যতে বিপজ্জনক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এই প্রযুক্তি, যা সমাজ, নিরাপত্তা ও মানব অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
বুধবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে এআই ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির কাজ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সাড়ে আটশরও বেশি মানুষ।
বিবৃতিতে কেবল ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তারা নন, বরং স্বাক্ষরকারীদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন আধুনিক এআইয়ের অন্যতম পথপ্রদর্শক ও বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী ইয়োশুয়া বেনজিও এবং ‘আধুনিক এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে বিবেচিত জিওফ হিন্টন। ‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে’-এর স্টুয়ার্ট রাসেলের মতো শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষকরাও এতে স্বাক্ষর করেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দুনিয়ায় এখন আলোচিত শব্দে পরিণত হয়েছে সুপারইন্টেলিজেন্স। ইলন মাস্কের এআই স্টার্টআপ এক্সএআই থেকে শুরু করে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই’সহ সব কোম্পানিই ধারাবাহিকভাবে আরও উন্নত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
এই দৌড়ে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটা এতটাই এগিয়ে থাকার চেষ্টায় রয়েছে যে, নিজেদের এলএলএম নিয়ে গবেষণা বিভাগের নামই রেখেছে ‘মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, সুপারইনটেলিজেন্স তৈরি হলে তা ‘মানুষের জন্য নানাবিধ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যেমন– মানুষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব হারানো, বিশেষ করে অনেক কাজেই মানুষকে আর প্রয়োজন হবে না, এআই হয়ত মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলবে, মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, অধিকার, সম্মান, নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে, জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে ও সবথেকে ভয়াবহ আশঙ্কা মানবজাতির বিলুপ্তিও ঘটতে পারে’।
বিবৃতিতে আহ্বান জানানো হয়েছে, সুপারইনটেলিজেন্স তৈরির উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হোক, যতক্ষণ না এই প্রযুক্তির পক্ষে জনগণের শক্ত সমর্থন মেলে এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত না হয় যে এটি নিরাপদভাবে তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এআই ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষেরা। যাদের মধ্যে আছেন ইউনিভার্সিটির গবেষক ও অ্যাকাডেমিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমের পরিচিত মুখ, ধর্মীয় নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল থেকে আসা সাবেক রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ’-এর সাবেক চেয়ারম্যান মাইক মুলেন ও সাবেক মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবশালী মিডিয়া মিত্র হিসেবে পরিচিত স্টিভ ব্যানন ও গ্লেন বেকও এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল এবং আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেরি রোবিনসন। বুধবার পর্যন্ত এই বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীর তালিকা বাড়ছিল।