Published : 24 Oct 2025, 04:35 PM
চ্যাটজিপিটি ও অন্যান্য জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট মানুষকে মানসিক ভারসাম্যহীনতা বা সাইকোসিসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।
যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস’ বা এনএইচএস-এর চিকিৎসক ও এই গবেষণার গবেষকরা যৌথভাবে সতর্ক করে বলেছেন, বিভিন্ন ধরনের লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএস ব্যবহার করলে ‘কিছু দুর্বল বা মানসিকভাবে সংবেদনশীল মানুষদের জন্য বাস্তব আর কল্পনার মধ্যে পার্থক্য বোঝা মুশকিল হয়ে যেতে পারে’ এবং তাদের ‘মানসিক সমস্যা, বিশেষ করে সাইকোসিসের মতো লক্ষণ শুরু বা বেড়ে যেতে পারে’।
গবেষণা বলছে, অনেক মানুষ এমন অভিজ্ঞতায় পড়েছেন, যেখানে তারা চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনের কারণে মানসিকভাবে এতটা বিভ্রান্ত বা সমস্যায় আছেন যে, এ বিষয়টিকে ‘চ্যাটবট সাইকোসিস’ বলা হচ্ছে।
এ গবেষণায় চ্যাটবট সাইকোসিসকে ‘সত্যিকারের এক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করে ‘কিংস কলেজ লন্ডন’-এর নিউরোসাইকিয়াট্রিস্ট হ্যামিলটন মোরিন বলেছেন, বিষয়টি আমরা কেবল বুঝতে শুরু করেছি।
এক লিংকডইন পোস্টে তিনি লিখেছেন, “এআই নিয়ে কেউ কেউ ভয়ের জায়গা থেকে কথা বলেন বা অতিরিক্ত শঙ্কিত হন। তবে আমাদের আসলে গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা দরকার যে, যেসব এআই মানুষের ভাব, কথা বা আচরণ অনুকরণ করে সেগুলো কীভাবে মানসিক অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত মানুষের চিন্তার দুর্বলতা বা বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে মেশা বা প্রভাব ফেলতে পারে।”
“আমরা হয়ত এমন সময় পেরিয়ে এসেছি, যেখানে মনগড়া ভুল ধারণা বা ভ্রান্তি কেবল যন্ত্রপাতি বা মেশিন নিয়ে হত। কারণ এখন আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি, যেখানে এসব ভুল ধারণা বিভিন্ন মেশিনের সঙ্গে যোগ হয়ে ঘটছে।”
এ গবেষণার সহ-লেখক ও ‘কিংস কলেজ লন্ডন’-এর টম পোল্যাক বলেছেন, মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি ‘হঠাৎ করে ঘটে না’, তবে এআই চ্যাটবট ব্যবহারের কারণে এ ‘অসুস্থতা শুরু বা বেড়ে যেতে পারে’।
বিভিন্ন এআই কোম্পানি যেন নিজেদের তৈরি টুলগুলোতে আরও বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখে ও এআইয়ের নিরাপত্তা দলে মানসিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে সে অনুরোধ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইন্ডিপেনডেন্টের অনুরোধে সাড়া দেয়নি চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই।
তবে এর আগেও, কোম্পানিটি বলেছিল, ‘এআইকে আরও নিরাপদ, ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুসারে ও সঠিকভাবে কাজেন জন্য গড়ে তুলতে’ চাইছে তারা।
‘ডিলিউশনস বাই ডিজাইন’ শিরোনামে গবেষণাপত্রটি প্রিপ্রিন্ট হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে ‘পিএসওয়াইআরক্সিভ’-এ।