Published : 27 Feb 2026, 12:19 PM
সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে পুরুষের প্রজনন সক্ষমতা বা ফার্টিলিটি গুরুত্বপূর্ণ। ঋতুভেদে শুক্রাণুর গুণমান পরিবর্তিত হয়, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বা জুন ও জুলাইয়ে শুক্রাণুর সাঁতার কাটার সক্ষমতা বা গতিশীলতা সবথেকে বেশি থাকে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
নতুন গবেষণা বলছে, বীর্যের গুণমান গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে বেশি থাকে ও শীতকালে সবচেয়ে কম থাকে।
বিবিসি লিখেছে, ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ১৫ হাজার ৫৮১ জন পুরুষের বীর্যের নমুনা পরীক্ষা করেছেন যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ডেনমার্কের গবেষকরা। এ পুরুষরা ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বাসিন্দা।
গবেষণার ফলাফল বলছে, শুক্রাণুর গতিশীলতা বা সাঁতার কাটার সক্ষমতা, যা গর্ভধারণের জন্য জরুরি তা বিশ্বের উভয় প্রান্তেই জুন ও জুলাইয়ে সবথেকে বেশি।
ঋতুভেদে বীর্যের এ পরিবর্তন সম্পর্কে জানলে প্রজনন চিকিৎসার উন্নতি করা সম্ভব। ফলে দম্পতিরা বছরের কোন সময়ে চিকিৎসা নিলে বা পরীক্ষা করালে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি সে বিষয়ে চিকিৎসকরা আরও ভালো পরামর্শ দিতে পারবেন।
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘রিপ্রোডাক্টিভ বায়োলজি অ্যান্ড এন্ডোক্রিনোলজি’তে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, শুক্রাণুর গতিশীলতা জলবায়ু বা আবহাওয়ার ওপর নয়, বরং ঋতু পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে। ফ্লোরিডায় সারা বছর বেশ গরম থাকলেও সেখানেও শুক্রাণুর গতিশীলতা ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ছিল সবচেয়ে কম।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বীর্যের ঘনত্ব বা বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা, অর্থাৎ একবার নির্গত বীর্যের মোট আয়তনের কোনো পরিবর্তন হয় না। যার মানে, বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে শুক্রাণুর সাঁতার কাটা বা চলাচলের ক্ষমতায় তারতম্য ঘটলেও, শুক্রাণু তৈরির সংখ্যার ওপর ঋতুর কোনো প্রভাব নেই।
গবেষণার এসব ফলাফল থেকে ইঙ্গিত মেলে, পুরুষের প্রজনন সক্ষমতার ওপর কেবল তাপমাত্রার পার্থক্যের চেয়েও ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের প্রভাব বেশি গভীর।
সাধারণত, অণ্ডকোষ বা যেখানে শুক্রাণু সংরক্ষিত থাকে তার আদর্শ তাপমাত্রা শরীরের গড় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২ থেকে ৪ ডিগ্রি কম থাকা উচিত।
তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি বা কম হলে তা শুক্রাণুর গতিশীলতা বাধার মুখে পড়তে পারে, যা সরাসরি প্রজনন সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ গবেষণার অন্যতম লেখক ও ‘ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানচেস্টার’-এর অধ্যাপক অ্যালান পেসি বলেছেন, “দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জলবায়ু হওয়ার পরও ডেনমার্ক ও ফ্লোরিডার ঋতুভিত্তিক এই মিল দেখে আমরা সত্যিই অবাক হয়েছি।
“ফ্লোরিডায়, যেখানে তাপমাত্রা সারা বছরই উষ্ণ থাকে সেখানেও শুক্রাণুর গতিশীলতা গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ ও শীতকালে সর্বনিম্ন ছিল, যা আমাদের বলছে, কেবল পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রার পরিবর্তন দিয়ে এই তারতম্য ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
“আমাদের এ গবেষণা বীর্যের গুণমান মূল্যায়নের সময় ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। গবেষণায় আরও ইঙ্গিত মেলে, উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলেও শুক্রাণুর গতিশীলতায় ঋতুভেদে পরিবর্তন ঘটে।
“এসব ফলাফল পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে আরও গভীর এবং প্রজনন সংক্রান্ত চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।”