Published : 03 Jul 2025, 04:24 PM
চীনের হুয়াওয়ে’কে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে বলে রায় দিয়েছেন মার্কিন একজন বিচারক।
মঙ্গলবার ‘হুয়াওয়ে টেকনোলজিস’-এর এক আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্রুকলিন শহরের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক অ্যান ডনেলি। এ আবেদনে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগের বেশিরভাগ অংশ বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছিল হুয়াওয়ে।
চীনের এই টেলিকম কোম্পানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন কোম্পানির প্রযুক্তিগত গোপন তথ্য চুরি করার চেষ্টা ও ইরানে তাদের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাংকগুলোকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
৫২ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক ডনেলি বলেছেন, ১৬টি অভিযোগওয়ালা এ মামলায় হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, নিজেদের ব্র্যান্ডের পরিসর বাড়াতে জালিয়াতি করেছে কোম্পানিটি, যেখানে ছয়টি কোম্পানির বাণিজ্যিক গোপন তথ্য চুরি ও ব্যাংক প্রতারণা করেছে হুয়াওয়ে।
হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে ইরান সংক্রান্ত অভিযোগে রয়েছে, হুয়াওয়ে ‘স্কাইকম’ নামের এক হংকংভিত্তিক কোম্পানিকে গোপনে নিয়ন্ত্রণ করত, যেটি ব্যবসা করত ইরানে। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করার বিষয়টি নিষিদ্ধ, যা ব্যাংক ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন রেখেছিল হুয়াওয়ে।
বিচারক ডনেলি বলেছেন, মার্কিন সরকারি আইনজীবীরা প্রমাণ দেখাতে পেরেছেন, “স্কাইকম আসলে পরোক্ষভাবে হলেও হুয়াওয়েরই ইরানের শাখা কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং সিস্টেম ব্যবহার করে ১০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে স্কাইকম ব্যবহার করে লাভের চেষ্টা করেছে হুয়াওয়ে”।
তবে নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ১৩টি বাতিলের আবেদন জানায় কোম্পানিটি। তারা বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে টার্গেট করে মামলা করেছে, যেন কোনো একটি অপরাধ খুঁজে বের করে মামলা করা যায়।”
মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৪ মে। মামলাটি কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি হুয়াওয়ে বা তার আইনজীবীরা। এদিকে, ব্রুকলিনের অন্তর্বর্তীকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলারের একজন মুখপাত্রও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ফৌজদারি মামলা শুরু হয় ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ চলাকালীন। একই বছর চীনের মেধাস্বত্ত চুরির অভিযোগ ঠেকাতে ‘চায়না ইনিশিয়েটিভ’ নামে এক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
তবে ২০২২ সালে ‘চায়না ইনিশিয়েটিভ’ বন্ধ করে দেয় ওই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। কারণ, সে সময় সমালোচকরা বলেছিলেন, জাতিগত বৈষম্যের মতো বিষয় এটি এবং এতে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়, যা দেশটির বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।
চীনের শেনজেনে অবস্থিত হুয়াওয়ে একশ ৭০টিরও বেশি দেশে কাজ করছে এবং প্রায় দুই লাখ আট হাজার কর্মী রয়েছে তাদের।
জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে মার্কিন সরকার ২০১৯ সাল থেকে আমেরিকান প্রযুক্তিতে হুয়াওয়ের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে হুয়াওয়ে বলেছে, তারা কোনো হুমকি নয়।