Published : 28 May 2026, 02:51 PM
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের অতিগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জনগণের আস্থাকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ‘একনাগাড়ে’ সাইবার হামলা ও নাশকতা চালাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান।
একইসঙ্গে চীনকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন এক মহাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউ-এর প্রধান অ্যান কিস্ট-বাটলার বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন বৈশ্বিক নিরাপত্তার সমীকরণ বদলে দিচ্ছে।
এ পরিস্থিতি ঠেকাতে তিনি সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সাইবার নিরাপত্তা ১০ গুণ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবিদেনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
বুধবার ‘জিসিএইচকিউ’-এর উদ্বোধনী বার্ষিক বক্তৃতায় এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন সংস্থা প্রধান, সেখানে তিনি বলেছেন কীভাবে রাশিয়া ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে তাদের দৈনন্দিন ‘হাইব্রিড’ বা বহুমুখী তৎপরতা বাড়িয়ে চলেছে।
তিনি এ সংস্থটির বিভিন্ন সফল প্রচেষ্টার কথাও বক্তৃতায় তুলে ধরেছেন; যার মধ্যে রয়েছে, ‘পশ্চিমাদের প্রযুক্তি পাচার করার রুশ প্রচেষ্টা নস্যাৎ করা, সাইবার হামলা ঠেকানো এবং রাশিয়ার বেপরোয়া নাশকতা ও গুপ্তহত্যার চেষ্টা রুখে দেওয়া’ মতো বিষয়।
তিনি বলেছেন, “আমরা ইউক্রেইনের প্রতি আমাদের সমর্থনে অবিচল আছি, আর পুতিন যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন।”
উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, রাশিয়া ‘একনাগাড়ে অতিগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সরবরাহ ব্যবস্থা ও জনগণের আস্থাকে নিশানা করছে’। সেইসঙ্গে প্রযুক্তির এ দ্রুত অগ্রগতির যুগে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্রদের সবার চেয়ে এগিয়ে থাকার জন্য ‘সময় ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে’ বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
কিস্ট-বাটলার বলেছেন, “চীন এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এক মহাশক্তি, যাদের গোয়েন্দা, সাইবার ও সামরিক শাখাগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ। এ ছাড়া এআইয়ের দ্রুত উন্নতি হওয়ার কারণে আমাদের পায়ের তলার মাটি ক্রমাগত সরে যাচ্ছে।”
তিনি প্রযুক্তি শিল্প ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ‘যৌথভাবে এ অগ্রগতির পূর্বাভাস পান ও প্রযুক্তির এ চরম উৎকর্ষের যুগে একসঙ্গেই এগিয়ে চলেন।”
সাইবার নিরাপত্তা বাড়াতে কর্পোরেট অফিসের ‘বোর্ডরুম থেকে শুরু করে বাসার লিভিংরুম’ পর্যন্ত সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন কিস্ট-বাটলার।
“ব্যক্তিগত পর্যায়ে এর মানে হচ্ছে, অনতিবিলম্বে পাসওয়ার্ডের বদলে আরও নিরাপদ ‘পাসকি’ ব্যবহার শুরু করা। সার্বিক সমাজের জন্য এর মানে, নতুন বিভিন্ন প্রযুক্তিতে শুরু থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা যোগ করা, সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখা ও সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বকে ১০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া।”
এ বছরের শুরুতে জিসিএইচকিউ-এর একটি অংশ ‘ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার’-এর প্রধান ড. রিচার্ড হর্ন সতর্ক করে বলেছিলেন, ব্রিটেনের ওপর জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বেশিরভাগ সাইবার হামলা চীন, ইরান ও রাশিয়ার মতো শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলো চালিয়েছে।
কিস্ট-বাটলার বলেছেন, এ সংস্থাটিকে প্রতি সপ্তাহে এই ধরনের প্রায় চারটি হামলা ঠেকাতে হয়। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে বলেছেন, কোনো আন্তর্জাতিক সংঘাতে যদি যুক্তরাজ্য জড়িয়ে পড়ে তবে দেশটি ‘ব্যাপক পরিসরে’ সাইবার হামলার শিকার হতে পারে।
ফলে মুক্তিপণ দেওয়ার সুযোগ না রেখেই কোম্পানিগুলোর উচিত যে কোনো সাইবার হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা।