Published : 31 Aug 2025, 04:39 PM
টেইলর সুইফট, স্কারলেট জোহানসন, অ্যান হ্যাথওয়ে ও সেলেনা গোমেজের মতো বহু তারকার নাম ও চেহারা ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়াই কয়েক ডজন ফ্লার্টি বা রোমান্টিক স্বভাবের চ্যাটবট তৈরি করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মেটা।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনেক ব্যবহারকারীই মেটার চ্যাটবট তৈরির টুল ব্যবহার করে নিজেদের মতো চ্যাটবট বানিয়েছেন। মেটার একজন কর্মী নিজে অন্তত তিনটি চ্যাটবট বানিয়েছেন। এর মধ্যে দুটো চ্যাটবট ছিল টেইলর সুইফটকে নিয়ে বিদ্রূপ করে বানানো ‘প্যারোডি’ চ্যাটবট।
ওইসব ব্যবহারকারীকে শিশু সেলিব্রিটিদের নিয়েও গণ ব্যবহারযোগ্য চ্যাটবট তৈরি করতে দিয়েছে মেটা। যার মধ্যে ছিল ১৬ বছর বয়সী চলচ্চিত্র অভিনেতা ওয়াকার স্কোবেল। চ্যাটবটির কাছে যখন ওই টিনএজার অভিনেতার সমুদ্রতীরের একটি ছবি চাওয়া হয় তখন তার প্রাণবন্ত এক শার্টবিহীন ছবি তৈরি করে দিয়েছিল বটটি।
এমনকি ছবিটির নীচে চ্যাটবটটি লিখেছিল, “দারুণ কিউট, তাই না?”
সেলিব্রিটিদেরই বট দিয়ে তৈরি সব ভার্চুয়াল ছবি মেটার ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়েছে। রয়টার্সের পক্ষ থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে এসব বটের আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য পরীক্ষা চালানো হয়।
পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এসব চ্যাটবট প্রায়ই জোর দিয়ে বলেছে যে, এদের তৈরি এসব ছবি আসল অভিনেতা বা শিল্পীর। এসব বট নিয়মিতভাবে যৌন প্রস্তাবও দিচ্ছিল, এমনকি এরা ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বাস্তবে সাক্ষাৎ করার প্রস্তাবও দিয়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, কিছু এআই দিয়ে তৈরি সেলিব্রিটি কনটেন্ট ছিল বেশ আপত্তিকর। যখন ব্যবহারকারীরা এসব বটদের নিজেদের ঘনিষ্ঠ বা ব্যক্তিগত ছবি দিতে বলেছিল তখন বড়দের জন্য তৈরি ওইসব চ্যাটবট তাদের আসল সেলিব্রিটি চরিত্রের মতো দেখতে খুব বাস্তবধর্মী ছবি তৈরি করেছিল। যেমন– বাথটাবে পোজ দেওয়া বা অন্তর্বাস পরে পা ছড়িয়ে বসা ছবি।
মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন বলেছেন, কোনো বিখ্যাত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ বা ব্যক্তিগত ছবি বা কোনো শিশু সেলিব্রিটির এ ধরনের আপত্তিকর ছবি তৈরি করা মেটার বিভিন্ন এআই টুলের উচিত হয়নি।
তিনি আরও বলেছেন, কিছু নারী সেলিব্রিটির অন্তর্বাস পরা ছবি তৈরি হওয়ার পেছনে মেটার নিজস্ব নীতিমালার প্রয়োগে গাফিলতি ছিল। কারণ ওই নীতিমালায় এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
“অন্যদের মতো আমরাও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ছবি তৈরির অনুমতি দিই। তবে আমাদের নীতিমালা নগ্ন, ঘনিষ্ঠ বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরির বিষয়টি একেবারেই নিষিদ্ধ।”
মেটার নিয়ম অনুসারে, ‘সরাসরি কাউকে অনুকরণ করা’ নিষিদ্ধ। তবে মুখপাত্র স্টোন বলেছেন, কোনো সেলিব্রিটি চরিত্রকে যদি ‘প্যারোডি’ বা ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয় তাহলে তা মেনে নেওয়া যায়।
তবে রয়টার্সের খুঁজে পাওয়া তথ্যে দেখা গিয়েছে, অনেক এআই চরিত্রে ‘প্যারোডি’ লেখা থাকলেও সবগুলোতে তা লেখা ছিল না।
রয়টার্সের এ প্রতিবেদন প্রকাশের ঠিক আগে প্রায় এক ডজন বট মুছে ফেলেছে মেটা। যার মধ্যে কিছু ছিল ‘প্যারোডি’ বলে ট্যাগ করা, আর কিছুতে কোনো ট্যাগ ছিল না।
তবে এসব বট কেন মুছে ফেলা হয়েছে সে বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি মেটার মুখপাত্র স্টোন।