০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

বর্ষায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর খাবার

দামি কোনো বিদেশি ফল নয়, দেশীয় খাবারেই বর্ষায় মিলবে রোগমুক্তি।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2026, 04:04 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

গরমের পর বৃষ্টিতে স্বস্তি মেলে। আবার সেই সঙ্গে বাড়ে সর্দি, জ্বর, গলাব্যাথা, পানিবাহিত সংক্রমণ, শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতা এবং হজমের সমস্যা।

কারণ উচ্চ আর্দ্রতা, তাপমাত্রার ওঠানামা এবং পানিবাহিত রোগের সম্মিলিত প্রভাবে পানি দূষণে জীবাণুর বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, যা অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

বর্ষাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কোনো একটি ‘সুপারফুড’ বা ‘সাপ্লিমেন্ট যথেষ্ট’ নয়। এজন্য প্রয়োজন ঋতুভিত্তিক, গোটা পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

বর্ষাকালে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় এমন সবজি ও ফলে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, ‘কে’, খাদ্যআঁশ, আয়রন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো ঋতুজনিত অসুস্থতার বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করার পাশাপাশি হজমশক্তি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

মৌসুমি সবজি ও ফল খাওয়ার উপকারিতা

বর্ষাকালে যেসব সবজি ও ফল স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় সেগুলোর জৈবিক গঠন, পরিবেশ উপযোগী হিসেবে গড়ে ওঠে। মানে সর্বোচ্চ সতেজতা, পুষ্টিগুণ এবং প্রাকৃতিক স্বাদে থাকে ভরপুর।

ঋতু অনুযায়ী খাওয়া শুধু ঐতিহ্য নয়, এটি সময় উপযোগী রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক বর্ষাকালে খাওয়া উপকারী এমন কয়েকটি খাবারের নাম।

করলা

এই সবজি তিতা স্বাদের জন্য বেশিরভাগ মানুষ পছন্দ করেন না। তবে এতেই রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘সি’, আয়রন, ‘চ্যারান্টিন’ এবং ‘মোমরডিসিন’-এর মতো উদ্ভিদ যৌগ, যা বর্ষাকালের মতো ঋতুজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে রক্ষা করতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

এছাড়া এই সবজি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। যা প্রদাহ কমায়।

ঢেঁড়শ

ওকরা বা ভেন্ডি নামে পরিচিত এই সবজিতে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, ‘কে’, ফোলেইট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবেলা করতে এবং সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

এছাড়া, এতে থাকা আঁশ হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে। রান্না করার পর এর পিচ্ছিলভাবটি পরিপাকতন্ত্রকে শান্ত রাখতে পারে।

লাউ

বর্ষা মৌসুমের একটি সেরা সবজি। এতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় দুই প্রকারের খাদ্য আঁশ রয়েছে, যা পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

আয়রন এবং ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’ সমৃদ্ধ, এগুলোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়া এই সবজিতে ক্যালরি কম থাকায় সহজে যেমন বেশি গ্রহণ করা যায়, তেমনি এতে থাকা পানি শরীরকে রাখে সতেজ ও আর্দ্র।

শসা

পানি-ভিত্তিক এই সবজিতে রয়েছে পটাসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এবং ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘কে’। এসব পুষ্টি উপাদান বর্ষার অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

পটল

বর্ষাকালে জ্বর, সর্দি কমাতে পটল উপকারী সবজি। এই সবজিতে থাকা ‘হেপাটোপ্রোক্টেভ’, ব্যাকটেরিয়ারোধী এবং প্রদাহরোধী গুণ রয়েছে। যা যকৃতের প্রদাহ এবং শরীরের অন্যান্য সমস্যা থেকেও রোধ করবে।

মেথি শাক

হজমকারক এবং শরীর উষ্ণ রাখার জন্য ঐতিহ্যগতভাবে বর্ষাকালে এটি খাওয়া হয়। মেথি সামান্য তিক্ত স্বাদের হয়। আর এতে খাকা উদ্ভিজ্জ উপাদান ‘অ্যালকালয়েড’, হজম সহায়ক।

এছাড়াও রয়েছে আয়রন, ফোলেইট, ভিটামিন ‘কে’ এবং খাদ্যআঁশ- যা বর্ষাকলে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ঝিঙা

বর্ষা মৌসুমের সবজি হিসেবে পুষ্টিকর। এই সবজিতে পর্যাপ্ত আঁশ রয়েছে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। যাদের মুখে রুচি নেই, এর মিষ্টি স্বাদ রুচি ফিরিয়ে আনতে ভালো কাজ করে।

কুমড়া

প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন থাকে যা শরীর ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়। ফলে চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এই সবজি স্যুপ, শুকনো সবজি ও তরকারি করে খাওয়া যায়।

যেসব ফল বর্ষাকালে খাওয়া উপকারী    

লটকন

রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘সি’ যা খাবারের অরুচি দূর করার পাশাপাশি বর্ষাকালে সর্দি-কাশি, ফ্লু এবং বিভিন্ন মৌসুমি সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভুমিকা রাখে।।

এছাড়া এ ফলে ক্যালরি ও চর্বি কম থাকায় ডায়াবেটিস ও ওজনাধিক্য ব্যক্তিরা সহজেই খেতে পারেন।

পেয়ারা

উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ‘সি’ থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।

ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, কম ক্যালরি, ভালো পরিমাণে পটাসিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং আঁশ। এসব শরীরের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

পেঁপে

কাঁচা অবস্থায় সবজি আর পাকা অবস্থায় ফল হিসেবে পরিচিত পেঁপেতে প্যাপাইন নামক পাচক এনহাইম থাকে। যা প্রোটিন ভাঙ্গতে ও পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে। মানে খাবারটি হজম-সহায়ক।

এছাড়া ভিটামিন ‘এ’র মতো অ্যাটিঅক্সিডেন্ট রয়েছে- যা ত্বক, চুল ও চোখ ভালো রাখতে উপকারী ভূমিকা রাখে।

নাশপাতি

বর্ষাকালে সর্দি, কাশি ও জ্বর দূরে রাখতে সাহায্য করে। রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেলস বা খনিজ, পানি ও খাদ্যআঁশ।

লেখক: পুষ্টিবিদ লিনা আকতার। রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।

আরও পড়ুন

ফল খাওয়ার উপযুক্ত সময়

ওজন কমাতে সহায়ক সবজি

বৃষ্টিতে ভিজে ফেরা: ঝটপট ৫ কাজ না করলে ধরতে পারে সর্দি-জ্বরে!