Published : 22 Feb 2026, 11:53 AM
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের অন্যতম বড় ও প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে উন্নত বাহিনীগুলোর একটি। তাদের কাছে অসাধারণ সব সরঞ্জাম রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী ফাইটার জেটগুলো পরিচালনা করছে মার্কিন বিমান বাহিনী, যা সাধারণ মানুষ কখনো চালানোর সুযোগ পাবেন না।
একইভাবে এমন কিছু সাধারণ বা অসামরিক প্রযুক্তি রয়েছে, যা মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্যদের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় ব্যবহারের অনুমতি নেই। বর্তমান বিশ্বে স্মার্ট চশমার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হলেও সদস্যদের জন্য ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় স্মার্ট চশমার ব্যবহার সংস্থাটি নিষিদ্ধ করেছে বলে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
স্মার্ট চশমার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশনের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের সফল সমাপ্তির পর ২০২৫ সালের জুলাই নাগাদ বাজারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দখলে নিয়েছে মেটার ‘রে ব্যান’-এর দ্বিতীয় প্রজন্মের চশমা।
তবে এ স্মার্ট চশমার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে প্রাইভেসি ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আর সংগত কারণেই মেটার এআই চশমার মতো মডেলগুলো ব্যবহার না করার পেছনে শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মার্কিন বিমান বাহিনী এ ধরনের ডিভাইস পরা নিষিদ্ধ করেছে।
এ বছরের ৯ জানুয়ারি ‘পোশাক ও ব্যক্তিগত পরিপাটি’ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছেন মার্কিন বিমান বাহিনীর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স প্রধান। সেই নীতিমালায় রয়েছে, “ফ্রেম ও লেন্সের রং অবশ্যই নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে হতে হবে। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় এমন কোনো স্মার্ট গ্লাস বা চশমা পরা যাবে না যেটিতে ছবি তোলা, ভিডিও করা ও এআই ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। আয়নার মতো লেন্স ব্যবহার করাও এখন নিষিদ্ধ।”
এ মেমোর অন্যান্য অংশে ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে ‘ডিউটি আইডেন্টিফায়ার প্যাচ’ বা দায়িত্ব নির্দেশক ব্যাজ পুনরায় ফিরিয়ে এনেছে সংস্থাটি। এসব ব্যাজ একই ধরনের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার প্রতি গর্বের এক শক্তিশালী প্রতীক।
তবে, এ একই দলগত সংহতির মানে বিমান বাহিনীর যে কোনো একজন সদস্যের স্মার্ট গ্লাস ব্যবহারের কারণে তার সহকর্মীরাও বিপদে পড়তে পারেন। এ সার্বিক নিরাপত্তার খাতিরেই স্মার্ট গ্লাস নিষিদ্ধ করেছে মার্কিন সংস্থাটি।

বিমান বাহিনীর জন্য স্মার্ট চশমার সম্ভাব্য ঝুঁকি
মার্কিন বিমান বাহিনীর কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হচ্ছে ‘অপসেক’, যার পূর্ণরূপ ‘অপারেশনাল সিকিউরিটি’ বা সামরিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা।
সৈন্যদের চলাচল থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট যানবাহন বা অস্ত্রের খুঁটিনাটি তথ্য পর্যন্ত এমন অনেক সংবেদনশীল বিষয় থাকে, যা ফাঁস হয়ে গেলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে। স্মার্ট চশমা ব্যবহারের সুযোগ থাকলে এ ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনা অসাবধানতাবশত ঘটে যেতে পারে। যার মাধ্যমে তথ্যটি ফাঁস হচ্ছে তিনি নিজেও হয়ত জানতে পারবেন না যে বড় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এ নিষেধাজ্ঞার পেছনে মূল যুক্তিটি দিয়েছেন মার্কিন বিমান বাহিনীর ১০৪তম ফাইটার উইংয়ের তথ্য সুরক্ষা প্রধান ডেনা থেয়ার। এক বিবৃতিতে তিনি এ ডিভাইসের ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেছেন।
থেয়ার সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের ডিভাইস পরিধানকারী নির্দেশ না দিলেও নিজে থেকেই রেকর্ডিং চালিয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতেও তা করবে। যেমন, আপনি হয়ত লক্ষ্য করেছেন কোনো নির্দিষ্ট পণ্য আপনি অনলাইনে খুঁজছেন না, কেবল মুখে তা নিয়ে কথা বলছেন, অথচ হঠাৎ করেই আপনার ফোনে সেই পণ্যের অজস্র বিজ্ঞাপন আসতে শুরু করল। স্মার্ট চশমার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই।
যে কোনো জায়গায় যখন এআই বা এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় তখন তার কিছু ঝুঁকি থাকে। ঠিক তেমনই অনেক বড় বড় সুবিধাও থাকে। যেমন, স্মার্ট চশমা কম্পিউটারের মনিটরের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে, যা কর্মক্ষেত্রে কাজ করার ধরনকে আরও সহজ ও বহুমুখী করে তোলে।
তবে এর পাশাপাশি এর বিভিন্ন বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকাও জরুরি। মার্কিন বিমান বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিলেও মার্কিন সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী এখনও পর্যন্ত ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় স্মার্ট চশমা ব্যবহারের ওপর এ ধরনের কোনো ঢালাও নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে হয়ত তারাও ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।