Published : 04 Oct 2025, 04:05 PM
মহাকাশে ডেটা স্টোর বানানো সম্ভব বলে মনে করেন মার্কিন ই-কমার্স ও ক্লাউড কম্পিউটিং কোম্পানি অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান জেফ বেজোস।
শুক্রবার তিনি বলেছেন, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে গিগাওয়াট-সক্ষমতার ডেটা সেন্টার মহাকাশে নির্মিত হবে। এসব মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার একসময় পৃথিবীর বিভিন্ন ডেটা সেন্টারের চেয়ে ভালোভাবে কাজ করবে। কারণ, মহাকাশে রয়েছে অফুরন্ত ও নিরবচ্ছিন্ন সৌরশক্তি, যা এসব কেন্দ্র চালাতে বড় ধরনের সুবিধা দেবে।
বড় আকারের বিভিন্ন ডেটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গোটা বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহারও দিন দিন বেড়ে চলেছে। ফলে বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদাও ব্যাপক হারে বাড়ছে। কারণ এসব ডেটা সেন্টারের সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পানি ও শক্তির প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
ইটালির তুরিন শহরে অনুষ্ঠিত ‘ইটালিয়ান টেক উইক’-এ ‘ফেরারি’ ও ‘স্টেলান্টিস’-এর চেয়ারম্যান জন এলকানের সঙ্গে এক খোলামেলা আলাপে বেজোস বলেছেন, “আমার ধারণা, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে মহাকাশে গিগাওয়াট-সক্ষমতার বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণ শুরু করব আমরা।”
মহাকাশে ডেটা সেন্টার বসানোর ধারণাটি এখন বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানির মধ্যে জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে। কারণ পৃথিবীতে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদা দ্রুত বেড়ে চলেছে।
বেজোস বলেছেন, “বড় আকারের বিভিন্ন ডেটা সেন্টার মহাকাশে তৈরি করাই ভালো হবে। কারণ সেখানে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সৌরশক্তি পাওয়া যায়। ওখানে মেঘ নেই, বৃষ্টি নেই, আবহাওয়ার কোনো ব্যাঘাত নেই।
“আমরা আগামী এক-দুই দশকের মধ্যেই মহাকাশে ডেটা সেন্টার তৈরি করে পৃথিবীর চেয়ে কম খরচে তা চালাতে পারবো।”
বেজোস আরও বলেছেন, মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোর দিকে এই পরিবর্তন বড় এক প্রবণতারই অংশ, যার লক্ষ্য মহাকাশের নানা সুবিধা কাজে লাগিয়ে পৃথিবীতে মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করা।
“আসলে আবহাওয়া স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এমইমধ্যে এমনটি ঘটেছে। যোগাযোগ স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রেও তা বাস্তবায়িত হয়েছে। পরবর্তী ধাপ হবে মহাকাশে ডেটা সেন্টার বসানো। তারপর মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা।”
তবে রয়টার্স লিখেছে, মহাকাশে ডেটা সেন্টার বসানোর কিছু বড় চ্যালেঞ্জও আছে, যার মধ্যে রয়েছে জটিল রক্ষণাবেক্ষণ, আপগ্রেড করার সীমিত সুযোগ, রকেট উৎক্ষেপণের উচ্চ ব্যয় ও উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হওয়ার মতো ঝুঁকি।