Published : 29 Jun 2026, 09:13 PM
‘আমার বন্ধু নিরঞ্জন’ খ্যাত কবি ও কথাসাহিত্যিক আশরাফুল ইসলাম ভাস্কর চৌধুরীকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দাফন করা হয়েছে।
সোমবার বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ভবানীপুরে গ্রামের বাড়িতে তৃতীয় জানাজা শেষে চাঁনহাজিপাড়া পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয় বলে জানান তার ছোট ভাই চক্ষু বিশেষজ্ঞ জিয়াউল আহসান মুক্তা।
রোববার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ভাস্কর চৌধুরী।
ওই রাতেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা এবং সোমবার ভোরে ঢাকার উত্তর আদাবরের ঢাকা হাউজিং জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা হয়।
বাদ আসর গ্রামের বাড়িতে তৃতীয় জানাজায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আলমগীর স্বপন, সাহিত্য সংগঠক, আত্মীয়-স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৫ জুন অসুস্থ হয়ে ভাস্কর চৌধুরী হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। পরীক্ষায় তার খাদ্যনালিতে টিউমার ধরা পড়ে। পাশাপাশি ফুসফুসে পানি জমা এবং দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ভবানীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ভাস্কর চৌধুরী। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চা শুরু করেন তিনি। সরকারি চাকরির পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখি করেছেন।
১৯৮৪ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘রক্তপাতের ব্যাকরণ’ প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যাঙ্গনে পরিচিতি পান তিনি। গল্প, কবিতা, উপন্যাস মিলিয়ে তার ৪০টিরও মতো বই রয়েছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি, মানুষ, লোকজ সংস্কৃতি এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম তার লেখার প্রধান বিষয় ছিল। সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জীবন নিয়ে লেখা ‘ধনসা মাতি ও তার জীবনবৃক্ষ’ এবং ‘লালমাটি কালো মানুষ’ তার উপন্যাস।
২০১২ সালে প্রকাশিত দীর্ঘ কবিতা ‘নিরঞ্জন আমার বন্ধুর নাম’ তাকে দুই বাংলার আবৃত্তি অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আরও পড়ুন: