Published : 18 Jan 2026, 01:04 PM
প্লেন চলাচল খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, যা এখন কারো অজানা নয়। তবে অধিকাংশ এয়ারলাইনের ক্ষেত্রে তাদের পুরানো ব্যবস্থায় এ নতুন প্রযুক্তি যোগের বিষয়টি বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী বলে প্রমাণ করল রিয়াদ এয়ার।
বিশ্বের প্রথম ‘এআই-নেটিভ’ এয়ারলাইন হিসেবে নিজেদেরকে তুলে ধরছে সৌদি আরবের প্লেন কোম্পানিটি। যাত্রার শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এআই প্রযুক্তিকে গেঁথে নিয়েছে তারা।
২০২৩ সালে সৌদি আরবের ‘পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠা করেছে রিয়াদ এয়ার। ২০২৬ সালের প্রথম দিকেই নিজেদের বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করবে তারা। রিয়াদ এয়ারের প্রযুক্তিগত অংশীদার আইবিএম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, আধুনিক এই এআইভিত্তিক এয়ারলাইনসে যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কেমন হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, রিয়াদ এয়ারের কার্যক্রমের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কোনো না কোনোভাবে এআই ব্যবহৃত হবে। এর বিশেষ দিকগুলো হচ্ছে, গ্রাহক সেবা। যেমন যাত্রীদের সহায়তায় থাকবে এআই ভয়েস বট। মানব কর্মীদের কাজে দ্রুততা ও নির্ভুলতা আনতে পেছন থেকে কাজ করবে এআই সিস্টেম।
আরও থাকছে কর্মীদের ডিজিটাল কর্মক্ষেত্র, যাকে আইবিএম বলছে ‘পার্সোনালাইজড ডিজিটাল ওয়ার্কপ্লেস’। যার মাধ্যমে নিজেদের দৈনন্দিন কাজ ও এইচআর সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন এআই এজেন্টের সহায়তায় নিমিষেই সেরে ফেলতে পারবেন কর্মীরা।
বিমানবন্দরে রিয়াদ এয়ারের কর্মীদের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে তাদের এআই সিস্টেম, যা কর্মীদের পরামর্শ দেবে কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সঙ্গে তারা কী ধরনের কথা বলতে বা কী সেবা দেবেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
যেমন কোনো যাত্রী বিমানবন্দরে আসতে দেরি করে ফেললে এআই সিস্টেম তাৎক্ষণিকভাবে কর্মীকে সংকেত দেবে যেন তিনি ওই যাত্রীকে দ্রুত যাতায়াত সেবা নেওয়ার প্রস্তাব দেন, যাতে যাত্রী সঠিক সময়ে বোর্ডিং গেটে পৌঁছাতে পারেন।
রিয়াদ এয়ারের এআই প্রযুক্তির ব্যবহার কেবল গ্রাহক সেবাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এয়ারলাইনটির ব্যবসায়িক কৌশলেরও প্রাণকেন্দ্র। নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাপকভাবে এআই ব্যবহার করবে তারা। কোন রুটে প্লেন চালানো সবচেয়ে লাভজনক ও কীভাবে প্রতিটি ফ্লাইটকে আরও সাশ্রয়ী করা যায়, সেইসব সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সাহায্য করবে এআই।
এয়ারলাইনটির মূল লক্ষ্য, তাদের পরিচালনা ব্যয় কম রাখা। ফলে দুটি সুবিধা পাবে কোম্পানিটি, যেমন টিকিটের দাম কমিয়ে প্রতিযোগীদের টেক্কা ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের মুনাফার হার বাড়িয়ে নেবে তারা। এআই ব্যবহারের মাধ্যমে বাজারের অন্যান্য এয়ারলাইনের চেয়ে সাশ্রয়ী দামে টিকিট দিয়ে আরও বেশি যাত্রী আকর্ষণ করতে চাইছে রিয়াদ এয়ার।
নতুন কোম্পানি হলেও কম্পিউটার ইতিহাসের অন্যতম পথিকৃৎ ‘আইবিএম-এর সঙ্গে পার্টনারশিপের ফলে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে রিয়াদ এয়ার।
সংস্থাটির চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার অ্যাডাম বুকাডিডা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, রিয়াদ এয়ার ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে, যেটি বিশ্বের অন্যান্য এয়ারলাইনসের জন্য নতুন পথ তৈরি করবে।
রিয়াদ এয়ারের মতো অন্যান্য এয়ারলাইনসগুলোও এই ‘এআই-ফার্স্ট’ মডেল অনুসরণ শুরু করে তবে অনেক প্রচলিত এয়ারলাইনসে মানুষের পরিবর্তে এআই কাজ করবে। ফলে কর্মসংস্থান কমার ঝুঁকি থেকেই যায়। কারণ, এআই প্রযুক্তি প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রাখা আইবিএমও এই কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।
২০২৫ সালের শুরুতে প্রায় আট হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে আইবিএম। কোম্পানির একজন নির্বাহী কর্মকর্তা দাবি করেছেন, শেষ পর্যন্ত তাদের কর্মীর প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা দখল করে নিতে পারে এআই।