Published : 29 Jan 2026, 12:12 PM
মহাকাশের অসীম রহস্য উন্মোচনে এবার মানুষের সহযোগী হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। নতুন এআই টুল ব্যবহার করে হাবল টেলিস্কোপের পুরানো নথিপত্র থেকে আটশরও বেশি সম্পূর্ণ নতুন ও বিরল মহাজাগতিক বস্তুর খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি বা ইএসএ-এর দুজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ‘নিউরন নেটওয়ার্ক’ নামের নতুন এক এআই সিস্টেম তৈরি করেছেন, যা মহাকাশের বিভিন্ন ছবি বিশ্লেষণ করে বিরল বস্তু খুঁজে বের করতে পারে।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, কেবল আড়াই দিনে প্রায় ১০ কোটি ছবি নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করে মহাকাশে এক হাজার ৪০০টি বিরল বস্তু খুঁজে পেয়েছে এ সিস্টেম।
এআই মডেলটির উদ্ভাবক ডেভিড ও’রিয়ান ও পাবলো গোমেজ এর নাম রেখেছেন ‘অ্যানোমালি-ম্যাচ’। মডেলটিকে ‘হাবল লিগ্যাসি আর্কাইভ’-এর বিশাল তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তারা, যেখানে হাবল টেলিস্কোপের গত ৩৫ বছরের ইতিহাসের হাজার হাজার ডেটাসেট রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইএসএ বলেছে, “প্রশিক্ষিত বিজ্ঞানীরা মহাকাশের অসংগতি খুঁজে বের করায় দক্ষ হলেও হাবল থেকে পাওয়া তথ্যের পরিমাণ এতই বিশাল যে মানুষের পক্ষে প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয় হাতেনাতে পরীক্ষা করা প্রায় অসম্ভব।”
তিন দিনেরও কম সময়ে পুরো মহাকাশ স্ক্যানের পর ‘অ্যানোমালি-ম্যাচ’ সম্ভাব্য অসংগতিপূর্ণ বিভিন্ন বস্তুর একটি তালিকা তৈরি করেছে। তবে শেষ পর্যায়ে এসে এতে মানুষের ছোঁয়ার প্রয়োজন পড়েছে।
গোমেজ ও ও’রিয়ান স্বয়ং প্রতিটি তালিকাভুক্ত বস্তু পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করেছেন, এসব বস্তু আসলেই কতটা বিরল। তাদের যাচাইকৃত এক হাজার ৪০০টি মহাজাগতিক বস্তুর মধ্যে ৮০০টিরও বেশি ছিল একেবারেই নতুন, যা আগে কখনও নথিবদ্ধ হয়নি।
অনুসন্ধানে পাওয়া অধিকাংশ ফলাফল থেকেই দেখা মেলে, মহাকাশে বিভিন্ন ছায়াপথ একে অপরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বা সংঘর্ষ ঘটছে। ফলে তারা আর গ্যাসের দীর্ঘ লেজ অদ্ভুত সব আকারের তৈরি করেছে।
এ ছাড়া কিছু রয়েছে ‘গ্র্যাভিটেশনাল লেন্স’, এ ঘটনায় সামনের কোনো ছায়াপথের মহাকর্ষ বল মহাকাশকে এমনভাবে বাঁকিয়ে দেয় যে, পেছনের অন্য কোনো ছায়াপথের আলো বৃত্ত বা ধনুকের মতো দেখায়।
অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে রয়েছে গ্রহ তৈরির চাকতি, যেখানে পাশ থেকে দেখা যাচ্ছে বড় আকারের তারাপুঞ্জওয়ালা ছায়াপথ ও বিচিত্র ‘জেলিফিশ গ্যালাক্সি’।
তবে রহস্যের মোড়ক আরও বাড়িয়ে দিয়ে সেখানে এমন কিছু বস্তুও মিলেছে, যা ‘কোনো চেনা সংজ্ঞাতেই পড়ে না’, অর্থাৎ এগুলো আসলে কী তা এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্য।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গোমেজ বলেছেন, “হাবল আর্কাইভের বৈজ্ঞানিক তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এআইয়ের এক অনবদ্য প্রয়োগ এই মডেল।
“হাবলের তথ্যের ওপর দীর্ঘদিন গবেষণা হয়েছে। ফলে, অনেকে হয়ত ভেবেছিলেন সব বিরল বস্তু আগেই খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। তবে সেখান থেকেও এত বিপুল সংখ্যক নতুন বস্তুর খোঁজ পাওয়া সত্যিই বিরাট এক সাফল্য। এর থেকে ইঙ্গিত মেলে, ভবিষ্যতে অন্যান্য বড় ডেটাসেট বা বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হতে পারে এ প্রযুক্তি।”