১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লঞ্চপ্যাডে দুর্ঘটনায় বন্ধ হল রাশিয়া থেকে নভোচারী পাঠানোর পথ

ওই উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে একটি রকেট মহাকাশে পাঠিয়েছে রাশিয়া। রকেটটি ঠিকঠাক উড়ে গেলেও লঞ্চ প্যাডটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্রু সদস্যরা আহত হননি।

লঞ্চপ্যাডে দুর্ঘটনায় বন্ধ হল রাশিয়া থেকে নভোচারী পাঠানোর পথ
উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি সারানো না পর্যন্ত কোনো রকেট উৎক্ষেপণ পরিচালনা করতে পারবে না রাশিয়া। ছবি: রসকসমস

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Nov 2025, 01:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:13 PM

রকেট উৎক্ষেপণের পর রাশিয়ায় নভোচারী পাঠানোর একমাত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বা লঞ্চ প্যাডটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস বলেছে, কাজাখস্তানের ‘বাইকোনুর কসমোড্রোম’ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি সারানো না পর্যন্ত কোনো রকেট উৎক্ষেপণ করতে পারবে না তারা। ফলে কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম মহাকাশে নভোচারি পাঠানোর সক্ষমতা হারাল রাশিয়া।

ওই উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ‘সয়ুজ এমএস-২৮’ রকেট আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস পাঠায় দেশটি। রকেটটি ঠিকঠাক উড়ে গেলেও লঞ্চ প্যাডটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রকেটে থাকা কোনো ক্রু সদস্য আহত হননি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।

তিন সদস্যের ওই দলে আছেন নাসার নভোচারী ক্রিস উইলিয়ামস ও দুই রুশ সহযোগী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিরাপদে আইএসএসে পৌঁছেছেন তারা।

উৎক্ষেপণের যে ভিডিও রসকসমস প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গিয়েছে, রকেটের তীব্র ধাক্কার ফলে লঞ্চপ্যাডের কিছু অংশ নীচের এক নিষ্কাশন খাদে ধসে পড়েছে।

মহাকাশ সংস্থাটি বলেছে, উৎক্ষেপণের পর ‘লঞ্চপ্যাডের বেশ কয়েকটি অংশে ক্ষতি শনাক্ত’ করেছেন তারা।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে রসকসমস বলেছে, “লঞ্চ প্যাডের অবস্থা বর্তমানে পরীক্ষা করা হচ্ছে। লঞ্চপ্যাডটি ঠিক করার জন্য দরকারি বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমাদের কাছে রয়েছে এবং এসব ক্ষতি শিগগিরই কাটিয়ে উঠতে পারব আমরা।”

এ বিষয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি রসকসমস।

তবে লঞ্চপ্যাড সারানোর সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা, লঞ্চপ্যাডের গুরুত্বপূর্ণ তার, সেন্সর ও অন্যান্য অংশ ধ্বংস হয়েছে এই দুর্ঘটনায়।

এদিকে, মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে রুশ মহাকাশ বিশেষজ্ঞ ভিটালি এগরভ লিখেছেন, “এটিই একমাত্র লঞ্চপ্যাড, যা আইএসএসে বিভিন্ন রকেট পাঠানোর জন্য ব্যবহার করে রসকসমস। আর ভবিষ্যতে ‘রাশিয়ান অর্বিটাল স্টেশন’ প্রোগ্রামের জন্যও এই উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি ব্যবহারের কথা ছিল।

“কার্যত এদিন থেকে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে রাশিয়া। আর এমন ঘটনা ১৯৬১ সালের পর প্রথমবার ঘটল। এখন এই লঞ্চপ্যাড দ্রুত সারানো বা অন্য কোনো লঞ্চপ্যাড আধুনিকীকরণ করা প্রয়োজন।”

‘সয়ুজ এমএস-২৮’ ক্রুরা আইএসএসে আট মাস সময় কাটাবেন এবং ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তাদের পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা রয়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে ‘রাশিয়ান অরবিটাল সার্ভিস স্টেশন’ বা রস নামে নিজেদের মালিকানাধীন এক স্টেশন তৈরি করছে রাশিয়া। ২০৩০ সালে আইএসএস বন্ধ হয়ে গেলে রাশিয়ার নভোচারীরা সেই নতুন স্টেশন ব্যবহার করবে।

প্রথম রস মডিউলটি ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে রাশিয়ার।