Published : 24 Apr 2026, 02:04 PM
মহাকাশে অরিগামি স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে জাপান, যা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে গিয়ে খুলে ২৫ গুণ বড় হবে। নতুন প্রজন্মের এ স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা চালিয়েছে জাপানি মহাকাশ সংস্থা জাক্সা।
১০ সেন্টিমিটারের এক ছোট কিউব আকৃতির স্যাটেলাইটটি খুললে ২.৫ মিটার আকারের হতে পারে, যা পরবর্তী প্রজন্মের জাপানের ‘অরিগামি’ স্যাটেলাইটের সফল পরীক্ষা বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
ছোট স্যাটেলাইটটি বা ‘কিউবস্যাট’ জাপানি মহাকাশ সংস্থা জাক্সার একটি মিশনের অংশ। এ মিশনের উদ্দেশ্য, বিভিন্ন স্টার্টআপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি আধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তি পরীক্ষা করা।
বৃহস্পতিবার নিউ জিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ড থেকে ‘রকেট ল্যাব’-এর মহাকাশযানে করে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপিত হয়। উৎক্ষেপণের প্রায় এক ঘণ্টা পর তা কক্ষপথে পৌঁছায়।
MISSION SUCCESS! Payload deployment confirmed for "Kakushin Rising" on our 87th Electron launch.
Congratulations @JAXA_en and welcome to orbit once again 🛰️ pic.twitter.com/JzGc037OoL
— Rocket Lab (@RocketLab) April 23, 2026
‘কাকুশিন রাইজিং’ নামের এ মিশন সম্পর্কে রকেট ল্যাব বলেছে, এতে এমন অ্যান্টেনা রয়েছে, যা জাপানি কাগজ ভাঁজ করার শিল্প বা ‘অরিগামি’ পদ্ধতিতে ভাঁজ করে রাখা যায় এবং মহাকাশে যাওয়ার পর তা নিজের আকারের চেয়ে ২৫ গুণ বড় হয়ে খুলে যেতে পারে।
এ মিশনে আরও ছিল শিক্ষার্থীদের তৈরি ছোট স্যাটেলাইট, সমুদ্র পর্যবেক্ষণের স্যাটেলাইট এবং ক্যামেরা প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য খুব ছোট এক ডেমো স্যাটেলাইট।
১০ সেন্টিমিটারের এ কিউবটিকে মহাকাশের জন্য ‘অভূতপূর্ব হালকা ও সহজে প্যাক করার উপযোগী অ্যান্টেনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাক্সা। এর অ্যান্টেনার বিভিন্ন অংশ দুই স্তরের এক পর্দার সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা অরিগামি কৌশলে ভাঁজ করা সম্ভব।
মহাকাশে স্যাটেলাইট বসানোর জন্য গত কয়েক বছর ধরে অরিগামির বিভিন্ন কৌশল পরীক্ষা করছে জাক্সা, যার মধ্যে জনপ্রিয় ‘মিউরা ফোল্ড’ অন্যতম।
১৯৭০ সালে প্রথম উদ্ভাবিত এ ‘মিউরা ফোল্ড’ বড় কাগজের মানচিত্র ভাঁজ করার জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
১৯৯৫ সালে প্রথমবারের মতো এ অরিগামি কৌশল ব্যবহার করে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছিল। এখন গবেষকরা আরও জটিল ও উন্নত অরিগামি ভাঁজ নিয়ে কাজ করছেন।
জাক্সার বর্তমান মিশনে স্যাটেলাইটটি একটি ‘ফ্ল্যাশার প্যাটার্নে’ ভাঁজ করা হয়েছে, যা অনেকটা সর্পিল বা পেঁচানোভাবে খোলে ও বন্ধ হয়।
এ মিশনটি জাক্সার পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত দুটি ‘ইলেকট্রন’ উৎক্ষেপণের মধ্যে দ্বিতীয়, যার প্রথমটি সম্পন্ন হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে।
উৎক্ষেপণ পরবর্তী এক বিবৃতিতে ‘রকেট ল্যাব’ এর প্রধান নির্বাহী পিটার বেক বলেছেন, “কয়েক মাসের ব্যবধানে দুটি সফল মিশন এবং সেগুলোকে কক্ষপথের সঠিক স্থানে বসানো থেকেই ইঙ্গিত মেলে, কেন ইলেকট্রন জাতীয় বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থার কাছে ছোট রকেট হিসেবে সবচেয়ে পছন্দের।
“মহাকাশ গবেষণায় বিশ্বজুড়ে নেতৃস্থানীয় নাম জাক্সা। জাপানের অ্যারোস্পেস অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পর পর এ দুটি মিশনের দায়িত্ব পাওয়া আমাদের জন্য সম্মানের বিষয়।”