Published : 03 Jan 2026, 11:47 AM
কলেজ শেষ না করেও সফল হয়েছেন অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, প্রযুক্তি গুরু স্টিভ জবস, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং সামাজিক মাধ্যম জায়ান্ট ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের মতো বিখ্যাত উদ্যোক্তারা, যা আমাদের সকলের জানা।
তবে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, অধিকাংশ সফল স্টার্টআপ বা নতুন ব্যবসার প্রতিষ্ঠাতাদেরই স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে।
এতসব তথ্য থাকার পরও পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া উদ্যোক্তাদের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ এখনও রয়ে গেছে অনেকের। ডিগ্রিহীন প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ সব সময় একরকম থাকে না। এ বিশেষ প্রবণতা সময়ের সঙ্গে কখনো জনপ্রিয় হয়, আবার কখনো হারিয়ে যায়। তবে বর্তমানের ‘এআই বিপ্লবের’ মধ্যে আবারও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই প্রবণতা।
এ প্রবণতা ‘ওয়াই কম্বিনেটর ডেমো ডেইস’-এর সময় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, যেখানে নতুন ব্যবসার প্রতিষ্ঠাতারা নিজেদের কেবল এক মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যেও পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া বা ড্রপআউট হওয়ার বিষয়টি গর্বের সঙ্গে প্রচার করেন।
‘মোক্সি ভেঞ্চার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও জেনারেল পার্টনার কেটি জেকবস স্ট্যানটন বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি না যে, ড্রপআউট হওয়াটাকে এখন আর পড়াশোনায় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয় না। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে সম্প্রতি লক্ষ্য করেছি, অনেক প্রতিষ্ঠাতা বেশ গুরুত্ব দিয়ে বলছেন, তারা কলেজ, গ্রাজুয়েট স্কুল, এমনকি হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন।
“ড্রপআউট হওয়া এখন নিজের যোগ্যতার একটি প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ব্যবসার প্রতি তাদের গভীর একাগ্রতা ও সংকল্পকে ফুটিয়ে তোলে। আমার ধারণা, এ বিষয়টিকে বিনিয়োগকারীদের জগতে এখন বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।”
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া অনেক প্রতিষ্ঠাতা তরুণ হলেও তাদের মধ্যে বেশিরভাগই কিন্তু পড়াশোনা শেষ করে ডিগ্রি নেওয়াটাকেই বেছে নিয়েছেন। যেমন ‘কার্সর’-এর সিইও মাইকেল ট্রুয়েল এমআইটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং ‘কগনিশন’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্কট উ হার্ভার্ড থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন।
তবে এসব উদাহরণ থাকার পরও অনেক নতুন উদ্যোক্তা ভয় পাচ্ছেন যে, পড়াশোনা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে হয়ত এআই বিপ্লবের এই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু হারিয়ে ফেলবেন তারা। আর এ ভয় থেকেই অনেকে নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দিচ্ছেন। যেমন ব্রেন্ডন ফুডি নিজের স্টার্টআপ ‘মার্কর’ গড়ে তোলার জন্য জর্জটাউনের মতো নামী ইউনিভার্সিটির পড়াশোনা ছেড়েছেন।
ওয়াই কম্বিনেটর কেন্দ্রিক বিনিয়োগ কোম্পানি ‘ফসফর ক্যাপিটাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা কুলবীর তাগার বলেছেন, “বর্তমানে উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের তাড়াহুড়ো ও পিছিয়ে পড়ার ভয় বা ফোমো কাজ করছে। তাদের মধ্যে এখন ‘আমি কি আমার ডিগ্রি শেষ করব, না কি এখনই কাজ শুরু করে দেব?’ এমন হিসাব-নিকাশ চলছে।”
এ ভয় বা আশঙ্কা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক নামী ইউনিভার্সিটির একজন অধ্যাপক সম্প্রতি বলেছেন, তার এক ছাত্র একদম শেষ সেমিস্টারে এসে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। সেই ছাত্রের দৃঢ় বিশ্বাস, হাতে একটি ডিগ্রি থাকলে তা বরং বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে।
যেখানে কিছু উদ্যোক্তা ভয় পাচ্ছেন যে ডিগ্রি থাকাটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে সেখানে ‘জেনারেল ক্যাটালিস্ট’-এর সিড স্ট্র্যাটেজি প্রধান ইউরি স্যাগালভ ভিন্ন সুরে বলেছেন, বিনিয়োগকারীরা ‘ড্রপআউট’ তকমা নিয়ে অতটা মাথা ঘামান না, বিশেষ করে যারা গ্রাজুয়েশনের খুব কাছাকাছি থাকেন।
“চতুর্থ বর্ষে থাকা অবস্থায় কেউ পড়াশোনা ছেড়ে দিলেন না কি শেষ করলেন তা নিয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই বদলায়নি।”
স্বশিক্ষিত প্রযুক্তি প্রতিভানরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই স্টার্টআপ গড়ে তুলতে পারেন।
তবে সাগালভ যুক্তি দিয়েছেন, ইউনিভার্সিটির সামাজিক নেটওয়ার্ক ও ব্র্যান্ড ভ্যালুর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে, এমনকি প্রতিষ্ঠাতা যদি সেখান থেকে ডিগ্রি শেষ নাও করেন তবুও।