Published : 09 May 2026, 01:45 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও প্রাইভেসি রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে কানাডার কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে।
দেশটির প্রাইভেসি কমিশনারদের এক তদন্তে সম্প্রতি এ তথ্য উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
কানাডার প্রাইভেসি কমিশনার ফিলিপ দুফ্রেসনে বলেছেন, এআই মডেল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ওপেনএআই দেশটির কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক প্রাইভেসি আইন ‘মেনে চলেনি’।
আলবার্টা, কুইবেক ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কমিশনারদের সঙ্গে নিয়ে পরিচালিত এ তদন্তের পর তিনি বলেছেন, তথ্য সংগ্রহ ও সম্মতির বিষয়ে ওপেনএআইয়ের পদ্ধতি কানাডার একাধিক আইন লঙ্ঘন করেছে। যার মধ্যে কানাডার ‘পার্সোনাল ইনফরমেশন প্রোটেকশন অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ডকুমেন্টস অ্যাক্ট’ অন্যতম, যা ব্যবসায়িক কাজে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করে।
তদন্তে অংশগ্রহণকারী কমিশনাররা ওপেনএআইয়ের কার্যপদ্ধতিতে বেশ কিছু প্রাইভেসি সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। তাদের মতে, কোম্পানিটি ‘তাদের মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই বড় সংখ্যার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে’ এবং সেগুলো ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেয়নি।
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সময় সতর্কবার্তায় দেওয়া থাকে, ব্যবহারকারীদের আলাপ প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে ওপেনএআই থার্ড পার্টির কাছ থেকে যেসব তথ্য কিনেছে বা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করেছে তার মধ্যে এমন অনেক ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে, যা সম্পর্কে মানুষ সম্ভবত সচেতনও নয়।
তদন্তে কমিশনারদের নজরে আসা অন্যতম সমস্যা হচ্ছে, ব্যবহারকারীরা চাইলেও তাদের এসব ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে, ভুল থাকলে সংশোধন করতে বা মুছে ফেলতে পারছেন না। পাশাপাশি চ্যাটজিপিটির দেওয়া কিছু ভুল উত্তরের সত্যতা স্বীকারের ক্ষেত্রে ওপেনএআইয়ের ‘নিস্পৃহ বা দায়সারা প্রচেষ্টার’ বিষয়টিকেও সামনে এনেছেন তারা।
কানাডার প্রাইভেসি কমিশনারের মতে, তদন্তের সময় ওপেনএআই বেশ সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখিয়েছে এবং তারা কানাডার প্রাইভেসি আইন মেনে চলতে চ্যাটজিপিটিতে বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কমিশনার বলেছেন, ওপেনএআই এরইমধ্যে তাদের আগের বিভিন্ন মডেল সরিয়ে নিয়েছে যেগুলো কানাডার নীতিমালা লঙ্ঘন করছিল। বর্তমানে তারা ‘ইন্টারনেটে থাকা উন্মুক্ত তথ্য ও লাইসেন্সকৃত ডেটাসেট থেকে নাম বা ফোন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য শনাক্ত ও আড়ালের জন্য ফিল্টারিং টুল’ ব্যবহার করছে।
কোম্পানিটি পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে চ্যাটজিপিটির ‘সাইন-আউট’ বা লগ-ইন না করে ব্যবহারযোগ্য সংস্করণে নতুন এক বিজ্ঞপ্তি যোগ করতে রাজি হয়েছে, যেখানে জানানো হবে, ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন আলাপ এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে এবং তাদের কোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করার পরামর্শও দেওয়া হবে। পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে ওপেনএআই আরও কিছু পদক্ষেপ নেবে। যেমন–
● তাদের ডেটা এক্সপোর্ট টুলগুলোকে আরও সহজবোধ্য ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলা এবং চ্যাটজিপিটির দেওয়া তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে ব্যবহারকারীরা কীভাবে আপত্তি জানাতে পারবেন সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।
● প্রাইভেসি কমিশনারদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করা যে, যেসব পুরানো ডেটাসেট বাদ দেওয়া হয়েছে সেগুলোর জন্য শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে, যাতে সেগুলো আর সক্রিয় উন্নয়নে ব্যবহৃত হতে না পারে।
● জনপ্রতিনিধি বা জনপ্রিয় ব্যক্তিদের অপ্রাপ্তবয়স্ক আত্মীয়দের (যারা নিজেরা জনপরিসরের ব্যক্তি নন) তথ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা যাচাই করা, যাতে বিভিন্ন এআই মডেল তাদের নাম বা জন্ম তারিখ দেওয়ার অনুরোধ সরাসরি বাতিল করে।
কানাডার প্রাইভেসি কমিশনারের এ তদন্ত ২০২৩ সালে শুরু হলেও সম্প্রতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাম্বলার রিজে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের এক গোলাগুলির ঘটনার প্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ওপেনএআই।
২০২৫ সালে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে বাস্তব পৃথিবীতে সহিংসতা ঘটানোর আশঙ্কাজনক বার্তা শনাক্ত করেছিল ওপেনএআই। তবে কোম্পানিটি সেই উদ্বেগের বিষয়টি কানাডার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানায়নি।
এ ঘটনার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কোম্পানিটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার দাবি জানায়। শেষ পর্যন্ত ওপেনএআই ভবিষ্যতে কানাডার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সহযোগিতা করার বিষয়ে একমত হয়েছে।