Published : 22 Jan 2026, 03:37 PM
আইরিশ প্লেন কোম্পানি রায়ানএয়ার-এর প্রধান মাইকেল ও’লিয়ারির সঙ্গে ইলন মাস্কের বাকযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। বিরোধ এতটাই গড়িয়েছে যে এখন ঠাট্টার ছলে পুরো এয়ারলাইনটিই কিনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মাস্ক।
গত সপ্তাহে এ দুই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। ‘লুফথানসা’ ও ‘ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ’-এর মতো রায়ানএয়ারও নিজেদের ৬৫০টি প্লেনে মাস্কের স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করবেন কি না– এমন প্রশ্ন করা হয় ও’লিয়ারিকে। তিনি সরাসরি তা নাকচ করে দেন।
ও’লিয়ারির দাবি, প্লেনের ছাদে স্টারলিংকের অ্যান্টেনা বসালে বাতাসের ঘর্ষণে জ্বালানি খরচ ২ শতাংশ বেড়ে যাবে। এতে তাদের বছরে ৫০০ কোটি ডলারের তেলের খরচের সঙ্গে আরও অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ কোটি ডলার খরচ বেড়ে যাবে।
তার এ যুক্তি শুনে চটে যান মাস্ক। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ মার্কিন এই ধনকুবের লিখেছেন, ও’লিয়ারি এ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানেন না এবং তিনি ‘ভুল তথ্য দিচ্ছেন’। এরপর শুরু হয় একে অপরকে ‘ইডিয়ট’ বলে গালি দেওয়া। এক পর্যায়ে মাস্ক দাবি করেন, ও’লিয়ারিকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা উচিত।
শেষ পর্যন্ত ও’লিয়ারিকে এক হাত নিতে মাস্ক এখন গোটা রায়ানএয়ার কোম্পানিটিই কিনে ফেলার পরিকল্পনা করছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। দুই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর এ ব্যক্তিগত লড়াই এখন করপোরেট দুনিয়ায় আলোচনার মূল বিষয়ে পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান।
শুক্রবার এক্স-এ মাস্ক অনুসারীদের কাছে জানতে চান, ইউরোপের অন্যতম বড় এ এয়ারলাইনটি তার কেনা উচিত কি না। বর্তমানে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ৩০০০ কোটি ইউরো।
মাস্ক রসিকতা করে পোস্টে লিখেছেন, “আমার কি রায়ানএয়ার কিনে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত যার আসল নামই ‘রায়ান’?”
এরপর পোল বা ভোট চালু করেন মাস্ক, যার বিষয় ছিল, “রায়ানএয়ার কিনে নিয়ে ‘রায়ান’ নামধারী কাউকে কি এর সিংহাসনে বসানো উচিত?” ভোট শেষ হওয়ার তিন ঘণ্টা আগেই প্রায় ৯ লাখ মানুষের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশই ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দেন। টনি রায়ান নামে যে আইরিশ ধনকুবের ১৯৮৪ সালে এ এয়ারলাইনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তিনি ২০০৭ সালেই মারা গেছেন।
তবে পাল্টা খোঁচা দিতে ছাড়েনি রায়ানএয়ার-ও। গত সপ্তাহে আমেরিকায় এক্স পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে মাস্ককে ট্যাগ করে কোম্পানিটি লেখে, “আপনার কি একটু ওয়াইফাই লাগবে @elonmusk?” এর জবাবে মাস্ক সরাসরি প্রশ্ন করেন, “তোমাদের কিনতে কত টাকা লাগবে?”
অনেকে একে নিছক মজার ছলে করা আলাপ মনে করলেও মাস্কের ইতিহাস কিন্তু ভিন্ন কথা বলে।
২০১৭ সালে মাস্ক টুইটারে লিখেছিলেন, প্ল্যাটফর্মটিকে ভালোবাসেন তিনি। তখন এক সাংবাদিক মজা করে তাকে টুইটার কিনে নিতে বললে মাস্ক পাল্টা জিজ্ঞেস করেছিলেন, “এর দাম কত?” এর ঠিক পাঁচ বছর পর ৪ হাজার চারশ কোটি ডলারে তিনি সত্যিই টুইটার কিনে নেন এবং পরে এর নাম বদলে এক্স রাখেন।
তবে মঙ্গলবার রায়ানএয়ার-এর শেয়ার বাজারের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে মাস্কের এই কেনার ঘোষণাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। কারণ, এদিন কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।
এ ছাড়া মাস্ক চাইলেই এ এয়ারলাইনটি কিনতে পারবেন না। কারণ কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুসারে, এ অঞ্চলের কোনো এয়ারলাইনের মালিকানার বড় অংশ অবশ্যই ইউরোপীয় নাগরিক বা নির্দিষ্ট কিছু দেশের (সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ইত্যাদি) নাগরিকদের হাতে থাকতে হবে। মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নিলেও এখন তিনি আমেরিকার নাগরিক।
এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি রায়ানএয়ার।