Published : 20 Jun 2026, 12:31 AM
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে আজীবন সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেছেন।
“তার মৃত্যুতে আমাদের সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, যা সহজে পূরণ হবার নয়।”
কবির আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ষাটের দশকের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।
“তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা এবং আল্লাহর দরবারের তার মাগফিরাত কামনা করছি।”
আল মুজাহিদী ছিলেন একধারে কবি, গবেষক ও সম্পাদক। গত শতকের ষাটের দশকের বাংলা কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি বিবেচিত। শুক্রবার দুপুরে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়; বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
বাবার নাট্যচর্চা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে তার রাজনৈতিক দর্শন আল মুজাহিদীকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল। ষাটের দশকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে তাকেও বেশ কয়েকবার কারাগারে যেতে হয়। একাত্তরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
পেশাজীবনে তিন দশকের বেশি সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন আল মুজাহিদী। ২০১২ সালে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন যায়যায় দিন পত্রিকায়। সবশেষ তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হত ষান্মাষিক সাহিত্যপত্র ‘নতুন এক মাত্রা’।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০০৩ সালে কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া ‘জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার’, ‘কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার’, ‘মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার’, ‘শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার’ ও ‘জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন তিনি।