Published : 18 Jun 2026, 02:40 PM
পুরানো মোটা অংকের আর্থিক লোকসান ও ব্যর্থতা কাটিয়ে প্রায় এক দশক পর নতুন প্রযুক্তির স্মার্ট চশমা বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে স্ন্যাপচ্যাটের মূল কোম্পানি স্ন্যাপ।
‘স্পেক্স’ নামের তারহীন এ নতুন ‘অগমেন্টেড রিয়ালিটি’ বা এআর চশমাটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা চোখের সামনেই ডিজিটাল দুনিয়া উপভোগ করার পাশাপাশি ভিডিও দেখা, গেইম খেলা ও এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের সাহায্য নিতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
আগামী শরৎকাল থেকে এ চশমার সরবরাহ শুরু হবে। যুক্তরাজ্যে এর দাম নির্ধারণ হয়েছে ১ হাজার ৯৯৫ পাউন্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ১৯৫ ডলার।
দামটি অ্যাপলের ‘ভিশন প্রো’ মিক্সড-রিয়ালিটি হেডসেটের ৩ হাজার ৪৯৯ ডলারের চেয়ে কম হলেও মেটার ২২৪ ডলাররের স্মার্ট চশমার তুলনায় অনেক বেশি।
স্ন্যাপ ইনকরপোরেটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইভান স্পিগেল বলেছেন, এ চশমা ‘কম্পিউটিংয়ের দুনিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা’।
তবে বাজার বিশ্লেষক কোম্পানি ‘এফডিএম সিসিএস ইনসাইট’-এর বেন হ্যাটন বলেছেন, চড়া দামের কারণে প্রযুক্তিটি ‘খুব দ্রুত সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম’।
স্ন্যাপচ্যাটের মূল ব্যবহারকারী তরুণ প্রজন্ম, যাদের পক্ষে একটি গ্যাজেটের পেছনে এত অর্থ খরচ করা সাধারণত সম্ভব না-ও হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
চশমাটি প্রি-অর্ডার বা আগাম বুকিংয়ের জন্য ২০০ ডলার ফেরতযোগ্য জামানত দিতে হবে। প্রাথমিকভাবে চশমাটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে সরবরাহ করবে স্ন্যাপ।
কোম্পানিটির দাবি, চশমাটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে, যা ‘দৈনন্দিন জীবনে সহজেই ব্যবহার করা যাবে’। তবে একবার চার্জ দিলে এর ব্যাটারি গড়ে কেবল চার ঘণ্টা চলে। অবশ্য এর সঙ্গে থাকা চার্জিং কেসটি চশমাটিকে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি লাইফ দেবে।
মেটার রে-ব্যান বা ওকলি মডেলের চশমাগুলোর মতো স্ন্যাপের নতুন চশমা ব্যবহার করতে স্মার্টফোনের সঙ্গে কোনো সংযোগ বা টিথারের প্রয়োজন নেই। চশমাটি স্বাধীনভাবেই কাজ করতে পারবে।
অ্যাপল ভিশন প্রো ঘরে বসে ব্যবহারের জন্য তৈরি এবং চালানোর জন্য এটিকে আলাদা ব্যাটারি প্যাকের সঙ্গে তার দিয়ে যোগ রাখতে হয়। তবে স্ন্যাপের চশমাটির ক্ষেত্রে এমন কোনো তার বা বাহ্যিক ব্যাটারি প্যাকের প্রয়োজন পড়ে না।
বিশ্লেষক বেন হ্যাটন বলেছেন, তারহীন এ ডিজাইনের কারণে ব্যবহারকারীর জন্য চশমাটি ‘পরা ও চলাফেরা করা সহজ’ হলেও এর বিনিময়ে ‘ব্যাটারির ব্যাকআপ কমেছে’।
“স্পেক্স-এ দারুণ সব ফিচার ও অভিজ্ঞতা থাকার পরও কেবল চার ঘণ্টার ব্যাটারি লাইফ ও কিছুটা স্থূল ডিজাইনের এ চশমা এখনই স্মার্টফোনের বিকল্প হয়ে উঠতে পারবে না।”
ব্যবহারকারীরা এ চশমার এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন কাজ করতে পারবেন। যেমন, কোথাও যাওয়ার রাস্তা খুঁজে নেওয়া বা সামনে থাকা কোনো বস্তু সম্পর্কে সরাসরি প্রশ্ন করা।
এ ছাড়া, এর মাধ্যমে ভিডিও দেখা, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা, এআর গেইম খেলা ও চোখের সামনে যা দেখছেন তা রেকর্ড করার সুবিধাও থাকবে।
তবে স্মার্ট চশমা নিয়ে প্রাইভেসি লঙ্ঘনের বড় ধরনের সমালোচনা রয়েছে। এর আগে জনসমক্ষে নারীদের সম্মতি ছাড়া ভিডিও রেকর্ড করার কাজে মেটার স্মার্ট চশমা ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘অগমেন্টেড ওয়ার্ল্ড এক্সপো’ কনফারেন্সে চশমাটি উন্মোচনের পর মঙ্গলবার বাজারে স্ন্যাপ ইনকরপোরেটের শেয়ারের দাম প্রায় ৯ শতাংশ পড়েছে।
স্মার্ট চশমা বাজারে আনার ক্ষেত্রে স্ন্যাপের এটাই প্রথম প্রচেষ্টা নয়। এর আগে ২০১৬ সালে কোম্পানিটি ‘স্পেক্টাকলস’ নামে ক্যামেরাওয়ালা সানগ্লাস বাজারে এনেছিল, যার দাম ছিল ১২৯ পাউন্ড এবং এ দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ডের ছোট ভিডিও ক্লিপ রেকর্ড করা যেত।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালে কোম্পানিটি বলেছে, চশমাটির অতিরিক্ত মজুদ ও অর্ডার বাতিলের কারণে তাদের প্রায় চার কোটি ডলার লোকসান হয়েছে।
এরপর ২০১৮ ও ২০১৯ সালে স্পেক্টাকলস-এর আরও কিছু আপডেটেড সংস্করণ বাজারে নিয়ে আসে স্ন্যাপ। আগের চেয়ে উন্নত ক্যামেরা রেজুলিউশনওয়ালা এসব চশমার দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এর পর থেকে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বড় পরিসরে কোম্পানিটি আর কোনো পণ্য বাজারে আনেনি।
পরবর্তীতে স্ন্যাপ অগমেন্টেড রিয়ালিটি’র দিকে নজর দিতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে এ খাতের বিশ্বমানের নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরের জন্য তারা নতুন ‘স্পেক্টাকলস’ নিয়ে আসে। এরপর এখন এল ‘স্পেক্স’।