১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চীনের কাছে ‘নেতৃত্ব হারানোর ভয়ে’ ট্রাম্পের এআই নীতি বাতিল

মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ ও এক্সএআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের তরফ থেকে আসা চাপের মুখে এ পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

চীনের কাছে ‘নেতৃত্ব হারানোর ভয়ে’ ট্রাম্পের এআই নীতি বাতিল
পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির প্রতি বেশ নরম মনোভাব দেখিয়ে আসছেন ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 May 2026, 01:00 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:18 PM

চীনের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নেতৃত্ব হারানোর আশঙ্কায় নতুন এআই মডেলের সুরক্ষামূলক নীতিমালার নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

নতুন এআই মডেলগুলোর জন্য সুরক্ষামূলক নীতিমালা বা ‘সেইফটি গার্ডরেইল’ জারির কথা ছিল মার্কিন প্রশাসনের। তবে চীনের কাছে এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য হারানোর আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ আদেশে স্বাক্ষর করার কথা ছিল।

মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ ও এক্সএআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের তরফ থেকে আসা চাপের মুখে তিনি এ পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, “আমার মনে হয় এ নিয়মকানুন আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে। আপনারা জানেন, আমরা চীনসহ বিশ্বের সবার চেয়ে এগিয়ে আছি। আর আমি এমন কিছু করতে চাই না, যা আমাদের এই শীর্ষস্থান ধরে রাখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”

এ বিষয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মেটা ও এক্সএআই।

সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, এ নির্বাহী আদেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি স্বেচ্ছামূলক রূপরেখা তৈরি করা। ফলে, যে কোনো উন্নত এআই মডেল সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট ডেভেলপারদের মার্কিন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বা আলোচনার সুযোগ তৈরি হত।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি যে নির্বাহী আদেশের কোন কোন ধারা বা অংশের বিষয়ে আপত্তি উঠেছে বা তার মনভাব বদলেছে।

প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষক ও আইনজীবীরা আশঙ্কা করছেন, এ আদেশের নিয়মকানুনগুলো যদি নতুন মডেল বাজারে চালুর গতি কমিয়ে দেয় বা নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে কোম্পানিগুলোকে তাদের মডেলের কার্যপদ্ধতি পরিবর্তন করতে বাধ্য করে তবে তা সার্বিকভাবে এ শিল্পের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্য আরেকটি সূত্রের তথ্য অনুসারে, প্রেসিডেন্টের আরেকটি পরিকল্পনাও ছিল।

ট্রাম্প মার্কিন সরকারকে নির্দেশ দিতে চেয়েছিলেন যেন তারা এ উন্নত এআই মডেলগুলো ব্যবহার করে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাংক ও হাসপাতালের মতো দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে তোলে।

মার্কিন এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক-এর তৈরি ‘মিথোস’-এর মতো নতুন ও শক্তিশালী বিভিন্ন এআই সিস্টেমের কারণে তৈরি হওয়া সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

অ্যানথ্রপিক সতর্কবার্তায় বলেছে, ‘মিথোস’ জটিল ও বড় ধরনের সাইবার হামলাকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা রয়টার্সকে বলেছেন, এআই দিয়ে অবাধে হ্যাকিং করার এই যে ভয় বা আশঙ্কা, তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির প্রতি বেশ নরম মনোভাব দেখিয়ে আসছেন, যা তার পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের চেয়ে অনেকটাই আলাদা।

তবে ট্রাম্পের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সমর্থক এ প্রযুক্তির সুরক্ষায় আরও বেশি নিয়মকানুন বা ‘সেইফটি গার্ডরেইল’ আরোপের দাবি জানাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে, ট্রাম্পের ‘চিফ অফ স্টাফ’ সুজি ওয়াইলস ও ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট উভয়েই নতুন বিভিন্ন এআই মডেলের জন্য আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন তার কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন।

চিঠিতে ব্যানন নতুন প্রজন্মের মডেলগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক পরীক্ষার নিয়ম চালুর অনুরোধ জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লিখেছেন, “নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে আমরা এসব কোম্পানির ওপর ভরসা করতে পারি না।”