সার্চ ইঞ্জিন ডিফল্ট রাখায় অবশ্যই আমাদের স্বার্থ রয়েছে: গুগল সিইও

মামলার অভিযোগ, ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনে নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন ডিফল্ট হিসেবে রাখতে বিভিন্ন নির্মাতা কোম্পানিকে বছরে শত শত কোটি ডলার অর্থ দিচ্ছে গুগল।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 Oct 2023, 09:27 AM
Updated : 31 Oct 2023, 09:27 AM

ব্যবহারকারী ধরে রাখার ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিনকে ডিফল্ট রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, মার্কিন আদালতে গুগলের বিরুদ্ধে চলমান অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এমনই বলেছেন কোম্পানির সিইও সুন্দার পিচাই। 

গুগলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি সম্পর্কে বলা হচ্ছে, এক প্রজন্মে এমন মামলা একবারই হয়। মামলার অভিযোগ, ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনে নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন ডিফল্ট হিসেবে রাখতে বিভিন্ন নির্মাতা কোম্পানিকে বছরে শত শত কোটি ডলার অর্থ দিচ্ছে গুগল।

আরও পড়ুন

Also Read: গুগলের অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সিইও সুন্দার পিচাই

গুগল নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিনকে ডিফল্ট হিসেবে রাখার উদ্দেশ্যে এই অর্থ পরিশোধ শুরু করেছিল ২০০৫ সালে। এমনকি এক সময় অ্যাপলের কাছে শঙ্কা প্রকাশ করে গুগল বলেছে, তাদের সাফারি ব্রাউজার অ্যামাজনের মতো কোম্পানিতে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন পাঠাতে পারে, বিশেষ করে যেগুলো লাভজনক।

“আমরা গুগল সার্চ ইঞ্জিনকে ডিফল্ট রাখার লক্ষ্যেই চুক্তি করেছি।” --বলেন পিচাই।

মার্কিন আদালত গুগলের অর্থ পরিশোধের বিষয়ে জেরা করলে পিচাই বলেন, “এতে অবশ্যই আমাদের স্বার্থ রয়েছে।”

অনলাইন সার্চ ও বিজ্ঞাপনী খাতে একচেটিয়া রাজত্বের লক্ষ্যে গুগল অনৈতিক উপায় অবলম্বণ করেছে কি না, তা নির্ণয়ের জন্য মার্কিন সরকার এই মামলা করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

সরকার এই মামলায় জয়ী হলে, গুগলকে নিজেদের কয়েকটি এমন ব্যবসায়িক অনুশীলন বন্ধ করতে হবে, যা কোম্পানিকে বাজারের শীর্ষে অবস্থান করতে সাহায্য করেছে।

সোমবার সকালে দেওয়া সাক্ষ্যে অ্যাপল’সহ অন্যান্য মোবাইল ফোন  কোম্পানি ও স্মার্টফোন নির্মাতার ডিভাইসে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন ডিফল্ট হিসেবে রাখার ফি হিসাবে আর্থিক লভ্যাংশ ভাগাভাগির উদাহরণ তুলে ধরা হয় পিচাইয়ের সামনে।

“আমরা বিভিন্ন ডিভাইসের বিশেষত্বের ওপর ভিত্তি করে অর্থ পরিশোধ করি।” --মার্কিন বিচার বিভাগের প্রশ্নের জবাবে বলেন পিচাই।

এ ছাড়া, পিচাইয়ের গুগল সিইও হয়ে ওঠার আগে ২০০৭ সালে কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে এক আলোচনার কথাও জিজ্ঞেস করেছেন বিচার বিভাগের এক আইনজীবি, যেখানে ব্যবহারকারীদেরকে সাফারি ব্রাউজারের নতুন সংস্করণে গুগলের সার্চ ইঞ্জিনকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয় অ্যাপলকে। ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন পিচাই নিজেও।

সে সময়ের এক নথিতে উল্লেখ করা হয়, ৭৫ শতাংশ ব্যবহারকারীই ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন বদলায় না। আর ‘ডিফল্ট হওয়ার বিষয়টি বড় প্রভাব ফেলে’।

মামলার শুনানিতে প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক্রোসফটের বিলুপ্ত ব্রাউজার ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার নিয়েও পরোক্ষভাবে খোঁচা দিয়েছেন পিচাই।

“সে সময় ব্রাউজারের বাজারও খুব স্থবির ছিল।” --ক্রোম ব্রাউজার উন্মোচনের আগে গুগলকে মাইক্রোসফটের যেসব পণ্যের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হতো, সে সম্পর্কে বলেন পিচাই।

“তাদের (মাইক্রোসফট) নিজস্ব ব্রাউজার উন্নত করার তাগিদও ছিল না।”

এর পাশাপাশি, ২০০৮ সালে চালু করা ক্রোম ব্রাউজারকে ‘বড় অগ্রগতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন পিচাই।

সার্চ ইঞ্জিন খাতে গুগলের রাজত্বের বড় প্রভাব রয়েছে বিজ্ঞাপনী বাজারেও, যা কোম্পানির আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস।

গুগলের যুক্তি, কেউ যদি এই ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে অসন্তুষ্ট হন, তারা চাইলে অন্যান্য সার্চ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারেন। কোম্পানি আরও যুক্তি দেখিয়েছে, তাদের আর্থিক লভ্যাংশ ভাগাভাগির চুক্তিটি বৈধ ও নিজেদের সার্চ ও বিজ্ঞাপনী ব্যবসা প্রতিযোগিতামূলক রাখতে ব্যপক অর্থ বিনিয়োগ করেছে গুগল।

গুগলের নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্পর্শকাতর নথিকে ভুলভাবে ‘বিশেষাধিকার’ হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ সম্পর্কেও শুনানিতে পিচাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বিচার বিভাগ। আর মামলার অংশ হিসেবে সেগুলো সংরক্ষণ করা উচিৎ কি না, তা নির্ধারণ না করেই বিভিন্ন বার্তা নিয়মিত মুছে ফেলার অভিযোগ তোলা হয় কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

“আমি এ বিষয়ে মনযোগ দেইনি।” --বলেন পিচাই।