Published : 03 Jan 2026, 01:20 PM
শেয়ারহোল্ডার বা বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা চালু করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশাল।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল সম্পদের দুনিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরদার করল ট্রাম্প পরিবার।
বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পের সামাজিক প্ল্যাটফর্মটির মূল কোম্পানি ‘ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ’-এর এই ডিজিটাল টোকেন ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। তাদের এসব ক্রিপ্টো উদ্যোগ থেকে এরইমধ্যে কোটি কোটি ডলার আয় হয়েছে, যা একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।
বুধবার নতুন টোকেনটি উন্মোচন করে ট্রাম্প মিডিয়া বলেছে, বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে একটি করে টোকেন পাবেন। ট্রাম্প নিজেই এই কোম্পানির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার এবং ক্রিপ্টো খাতের জন্য শিথিল বা সহজ নিয়মনীতি তৈরির পক্ষে নিজের সমর্থনও জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘোষণার পর বুধবার ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ারের দাম বেড়েছে।
ট্রাম্প মিডিয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ক্রিপ্টোডটকম এক্সচেঞ্জ’-এর সঙ্গে পার্টনারশিপের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে এই টোকেন বিতরণ করবে তারা। ‘ক্রোনোস’ ব্লকচেইন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে এই টোকেন।
নতুন টোকেনকে ‘এই ধরনের টোকেনের প্রথম বিতরণ’ বলে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী ডেভিন নুনস। তিনি বলেছেন, টোকেনটি ‘ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ারহোল্ডারদের পুরস্কৃত করবে এবং বাজারে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা বাড়াবে’।
বর্তমানে হোয়াইট হাউসে ‘ইন্টেলিজেন্স অ্যাডভাইজরি বোর্ড’-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক প্রতিনিধি ডেভিন নুনস। এই পদে থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন তিনি।
কোম্পানিটি বলেছে, ‘অদূর ভবিষ্যতে’ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে এসব টোকেন বিতরণ করবে তারা। টোকেন মালিকদের জন্য ‘বিভিন্ন পুরস্কারের’ ব্যবস্থাও থাকবে, যেমন ট্রাম্প মিডিয়ার পণ্য কেনাকাটায় বিশেষ ছাড়।
সম্প্রতি ক্রিপ্টো শিল্পের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও আর্থিক সেবার ক্ষেত্রেও নিজেদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ট্রাম্প মিডিয়া। তবে এত কিছুর পরও এ বছর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৬০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি, ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ও এই শিল্পের অন্যান্য খাতের জন্য আরও অনুকূল বা সহজ নিয়মকানুন তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন ট্রাম্প।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লাখ লাখ ডলার ব্যয় করে ট্রাম্পসহ অন্যান্য প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছে একসময় মূলধারার বাইরে থাকা এই ক্রিপ্টো শিল্প।
এদিকে, ট্রাম্প ও তার পরিবারের চালু করা বিভিন্ন ক্রিপ্টো ব্যবসা নিয়ে ‘স্বার্থের সংঘাত’ হওয়ার বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা।
একসময় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ‘স্ক্যাম’ বা জালিয়াতি বলে বর্ণনা করেছিলেন ট্রাম্প। বর্তমানে ক্রিপ্টো শিল্প ঘিরে নেওয়া তার বিভিন্ন উদ্যোগ থেকেই মোটা অংকের মুনাফা পাচ্ছেন তিনি।