Published : 16 Mar 2026, 03:05 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের পেছনে বিনিয়োগের খরচ সামলাতে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে মেটা। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে কম কর্মী দিয়ে বড় লক্ষ্য পেতে এমন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে কোম্পানিটি।
রয়টার্সকে তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এ বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে মেটার ২০ শতাংশ বা তারও বেশি কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। এআইয়ের পেছনে মোটা অংকের খরচ সামাল দিতে এবং এআই ব্যবহার করা কর্মীদের মাধ্যমে কাজের দক্ষতা বাড়াতে এমন পদক্ষেপ মেটার।
সূত্রগুলো বলেছে, ছাঁটাইয়ের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঠিক হয়নি এবং ঠিক কতজন কর্মীকে বাদ দেওয়া হবে সেই সংখ্যাটিও চূড়ান্ত নয়।
তবে দুইজন ব্যক্তি বলেছেন, মেটার শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্প্রতি অন্যান্য উর্ধ্বতন নেতাদের এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এবং খরচ কমানোর প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব কথা বলেছেন তারা।
এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মেটা।
তবে মেটা শেষ পর্যন্ত ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা হবে ২০২২ সালের শেষ ও ২০২৩ সালের শুরুর দিকে তাদের করা ‘ইয়ার অফ এফিসিয়েন্সি’ বা ‘দক্ষতার বছর’ নামের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার পর সবচেয়ে বড় ছাঁটাই।
সর্বশেষ হিসাব অনুসারে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটিতে প্রায় ৭৯ হাজার কর্মী কর্মরত ছিলেন।
এর আগে, ২০২২ সালের নভেম্বরে মেটা তাদের মোট জনশক্তির প্রায় ১৩ শতাংশ বা ১১ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল। এর ঠিক চার মাস পর কোম্পানিটি আরও ১০ হাজার কর্মীকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ।
গত এক বছর ধরে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ মেটাকে জেনারেটিভ এআইয়ের লড়াইয়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিতে জোর দিচ্ছেন।
নতুন এক ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ দল গঠনের জন্য শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষকদের আকৃষ্ট করতে কোম্পানিটি মোটা অংকের বেতনের প্রস্তাব দিচ্ছে, যার কোনোটি চার বছরে কয়েকশ কোটি ডলার পর্যন্ত।
এর বাইরে, ২০২৮ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টার তৈরির পেছনে মেটা প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে মেটা।
এ সপ্তাহের শুরুর দিকে ‘মোল্টবুক’ নামের সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম অধিগ্রহণ করেছে মেটা, যা এআই এজেন্টদের জন্য তৈরি। পাশাপাশি চীনা এআই স্টার্টআপ ‘ম্যানাস’ কেনার জন্য মেটা ২০০ কোটি ডলার খরচ করছে বলে আগেই জানিয়েছিল রয়টার্স।
জাকারবার্গ এ মোটা অংকের বিনিয়োগ থেকে কাজের দক্ষতা বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জানুয়ারিতে তিনি বলেছেন, তিনি এমন সব প্রজেক্ট দেখতে পাচ্ছেন, যা আগে সম্পন্ন করতে বড় দলের প্রয়োজন হলেও এখন একজন দক্ষ ব্যক্তিই তা করে ফেলতে পারছেন।
মেটার এ পরিকল্পনাটি এ বছরে মার্কিন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলা সাধারণ এক ধারারই প্রতিফলন। অনেক প্রধান নির্বাহী বলেছেন, এআই সিস্টেমের সাম্প্রতিক উন্নতির কারণে এসব পরিবর্তন আনছেন তারা।
গেল জানুয়ারিতে অ্যামাজনও নিশ্চিত করে, তারা প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে, যা সে সময়ে তাদের মোট জনশক্তির প্রায় ১০ শতাংশ ছিল।
গত মাসে ফিনটেক কোম্পানি ‘ব্লক’ তাদের প্রায় অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করেছে।
কোম্পানির সিইও জ্যাক ডরসি সরাসরি এআই টুলের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এ প্রযুক্তির সাহায্যে এখন ছোট দল নিয়েই বড় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে।
মেটার এই বিশাল এআই বিনিয়োগের পরিকল্পনাটি গেল বছর তাদের ‘লামা ৪’ মডেল নিয়ে বেশ কিছু বিপর্যয়ের পর নেওয়া হয়েছে। ওই সময় মডেলটির শুরুর দিকের বিভিন্ন সংস্করণে ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে মেটা সমালোচনার মুখে পড়েছিল। ‘বেহেমথ’ নামে তাদের সবচেয়ে বড় মডেলটি এ গ্রীষ্মে বাজারে চালুর কথা থাকলেও তা বাতিল করেছে তারা।
মেটার ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ দলটি এ বছর ‘অ্যাভোকাডো’ নামে নতুন একটি মডেল তৈরির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে এ মডেলটির পারফরম্যান্সও প্রত্যাশা অনুসারে হচ্ছে না।