Published : 14 Jun 2026, 03:24 PM
পানি সংকটের সমাধানে এবার বাতাস থেকেই তৈরি হবে বিশুদ্ধ খাবার পানি।
গবেষকেরা এমন এক বিশেষ কাপড় তৈরি করেছেন, যা দিয়ে তৈরি জ্যাকেট বা পোশাক পরিধান করলেই আশপাশের বায়ুমণ্ডল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি সংগ্রহ করা যাবে বলে দাবি তাদের।
সহজে বহনযোগ্য এ প্রযুক্তিটি প্রত্যন্ত অঞ্চল, জরুরি উদ্ধারকাজ বা হাইকিংয়ের মতো রোমাঞ্চকর অভিযানের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানির অভাব মেটাতে নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
আশপাশের বাতাস থেকে পানি সংগ্রহের বেশ কিছু পদ্ধতি বর্তমানে প্রচলিত থাকলেও সেগুলোর বেশিরভাগই আকারে বেশ বড় বা ব্যবহার করা ঝামেলার।
তবে ‘ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস, অস্টিন’-এর সাম্প্রতিক গবেষণা এ ধারণাটিকে সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছেন। বিজ্ঞানীদের দাবি, তাদের তৈরি প্রযুক্তিটি যে কোনো সময় সঙ্গে রাখা যাবে। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে, প্রযুক্তিটি সবসময় ব্যবহারকারীর পিঠেই থাকবে।
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সায়েন্টিফিক অ্যাডভান্সেস’-এ।
গবেষণায় বিশেষ ধরনের কাপড় ব্যবহার করে জ্যাকেটটি তৈরি করেছে গবেষক দলটি, যা বায়ুমণ্ডল থেকে পানি সংগ্রহ করতে পারে।
এ গবেষণার অন্যতম লেখক ও ইউটি অস্টিনের অধ্যাপক গুইহুয়া ইউ বলেছেন, “আমরা এ প্রযুক্তির অবয়ব বা রূপটি নিয়ে নতুন করে ভাবতে চেয়েছিলাম। কাপড় নিজেই বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ করতে পারলে তা ব্যক্তিগত ও সহজে বহনযোগ্য পানি পাওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন দুয়ার খুলে দেবে।”
জ্যাকেটটি বাতাস থেকে আর্দ্রতা সংগ্রহের জন্য যে কাপড় ব্যবহার করে তা পানি শুষে নেওয়ার পরিবর্তে সেটিকে আলাদা করা যায় এমন বিশেষ সংগ্রহকারী ইউনিটে জমা করে।
ইউটি অস্টিনের গবেষক ও এ গবেষণার সহ-লেখক কিথ জনস্টন বলেছেন, “আমাদের এ বহনবান্ধব ডিজাইনের কারণে প্রযুক্তিটি কেবল ছোট কোনো ল্যাব টেস্টে সীমিত না থেকে পরিধানযোগ্য সিস্টেমে রূপ নিয়েছে।”
এরপর এসব সংগ্রহকারী ইউনিটকে ভাঁজ করা যায় এমন যন্ত্রের ভেতরে রেখে উত্তপ্ত করলেই তা থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি পাওয়া সম্ভব।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে জ্যাকেটটি প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৯০০ মিলিলিটার সুপেয় পানি তৈরি করতে পারে।
এ গবেষণার জন্য অবয়ব হিসেবে জ্যাকেট তৈরি করা হলেও গবেষকেরা বলেছেন, একই কাপড় ব্যবহার করে ব্যাকপ্যাক বা পিঠের ব্যাগ বা তাঁবুও তৈরি করা সম্ভব, যা বাতাস থেকে পানি সংগ্রহে বড় সক্ষমতা দেবে।
প্রযুক্তিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে জরুরি পরিস্থিতি ঠেকাতে বা চিকিৎসকদের উদ্ধারকারী দলের জন্য কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
বাণিজ্যিক দিক থেকে চিন্তা করলে, হাইকিং বা পাহাড় চড়া বা রোমাঞ্চকর আউটডোর স্পোর্টসের সরঞ্জাম হিসেবেও বেশ দরকারি হয়ে উঠতে পারে।