Published : 29 Sep 2025, 01:55 PM
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ছিল স্পুটনিক। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়নের স্পুটনিক ছিল পৃথিবীর কক্ষপথে আবর্তিত হওয়া মানুষের তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট। ওই সময় অনেকটাই একাকী ছিল পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ।
এর প্রায় সাত দশক পর পৃথিবীর আশপাশে ঘুরছে এমন প্রায় ৪৫ হাজার মনুষ্যসৃষ্ট বস্তুর মধ্যে এখন হারিয়ে গিয়েছে স্পুটনিক স্যাটেলাইট। মহাকাশে পৃথিবীর আশপাশে ঘোরে এমন বস্তুকে স্যাটেলাইট বললে এ প্রতিটি বস্তুকেই স্যাটেলাইট হিসেবে ধরা যেতে পারে।
তবে এই ৪৫ হাজারটি বস্তুর মধ্যে অনেক বস্তুই স্পেস জাঙ্ক বা মহাকাশে ভাসমান আবর্জনা হিসেবে বিবেচিত, যার মধ্যে ২০২২ সালের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৩২ হাজার ৭৫০টি বস্তুই ট্র্যাক করা হচ্ছিল। তবে এ প্রতিবেদনের আলোচনার বিষয় কেবল স্যাটেলাইট।
জাতিসংঘের আউটার স্পেস অ্যাফেয়ার্স অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর কক্ষপথে মোট ১৩ হাজার ৭২৭টি স্যাটেলাইট রয়েছে। এসব স্যাটেলাইট ৮২টি বিভিন্ন রাষ্ট্র বা সংস্থার মালিকানাধীন। যার মধ্যে চীনের রয়েছে ১ হাজার ১২১টি, রাশিয়ার ১ হাজার ৪৭১টি এবং যুক্তরাজ্যের ৭২২টি স্যাটেলাইট।
তবে স্যাটেলাইট সংখ্যার দিক থেকে অনেক এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে তাদের ৯ হাজার ২০৩টি স্যাটেলাইট রয়েছে, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাশিয়ার ছয় গুণেরও বেশি।
স্যাটেলাইটের ব্যবহার যেভাবে দ্রুত বাড়ছে এই সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। ২০২৪ সালে কেবল এক বছরেই রেকর্ডসংখ্যক ২ হাজার ৬৯৫টি নতুন স্যাটেলাইট পৃথিবীর কক্ষপথে যোগ হয়েছে, যেখানে ২০২০ সালে ছিল কেবল ৩ হাজার ৩৭১টি স্যাটেলাইট।
সামরিক স্যাটেলাইটের সংখ্যার দিক থেকে ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে রয়েছে, তাদের মোট ২৪৭টি সামরিক স্যাটেলাইট কক্ষপথে রয়েছে। এরপর ১৫৭টি স্যাটেলাইট নিয়ে চীন, ১১০টি নিয়ে রাশিয়া ও ১৭টি নিয়ে ফ্রান্স।
এ ছাড়া ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও লুক্সেমবার্গের মতো দেশগুলোরও পৃথিবীর কক্ষপথে সামরিক স্যাটেলাইট রয়েছে।

এসব স্যাটেলাইটের কাজ কী
আমাদের জীবনযাত্রার ধরন বদলে দিয়েছে স্যাটেলাইটের ব্যবহার। ‘স্যাটন্যাভ’ জিপিএস থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট পর্যন্ত, আধুনিক বিশ্ব বিভিন্ন কারণে স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, টেলিভিশন ও ফোন সিগনাল পাঠানো বা ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট পরিষেবার মতো সুপরিচিত বিভিন্ন পরিষেবা সম্ভবত বেশিরভাগ মানুষের মনে প্রথমেই আসে।
তবে পৃথিবীর আশপাশে ঘুরতে থাকা প্রায় ১৪ হাজার স্যাটেলাইট অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। যেমন– আর্থিক লেনদেনও কখনো কখনো স্যাটেলাইট লিংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কেউ যখন ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পিৎজা অর্ডার করেন তখন আপনার পেমেন্ট সিগনালটি হয়ত কোনো স্যাটেলাইট থেকেই ফিরে এসেছে।
স্যাটেলাইটের কম পরিচিত ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নজরদারি, মহাকাশভিত্তিক টেলিস্কোপ যেমন হাবল পরিচালনা, মহাসাগরের স্রোতের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মতো বিষয়। সামরিক কাজেও স্যাটেলাইট ব্যবহার বেড়েছে। এগুলো বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়, যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা, আগাম সতর্কতা প্রদান, জিপিএস, ও রিয়াল-টাইম নজরদারি।
স্পুটনিক যখন একা একা পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে তার সেই বিখ্যাত ‘বিপ-বিপ’ শব্দ শোনাচ্ছিল তখন থেকেই শুরু হয়েছিল এক নতুন যুগের, যা আজ, হাজার হাজার স্যাটেলাইটকে আমাদের সঙ্গে সংযোগ করিয়েছে, দিক নির্দেশনা দিচ্ছে ও পর্যবেক্ষণ করছে– এই পুরো যাত্রা ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে আমাদের সমাজকে।
প্রতিদিন মহাকাশে যোগ হচ্ছে প্রায় সাত টন নতুন যন্ত্রপাতি। এ প্রতিযোগিতা থামার কোনো লক্ষণ তো দূরে থাক, বরং প্রতিনিয়ত আরও বেশি গতিশীল হয়ে উঠছে।