Published : 11 Jun 2026, 01:06 PM
তীব্র বিতর্ক ও কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে অবশেষে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেলের নিরাপদ সংস্করণ আনল অ্যানথ্রপিক।
এ নতুন সংস্করণ সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মঙ্গলবার উন্মুক্ত করেছে ‘ক্লড’ নির্মাতা কোম্পানি অ্যানথ্রপিক। কোডিং ও জটিল গবেষণায় এ নতুন মডেল কার্যকর বলে দাবি কোম্পানিটির।
‘ফেবল ৫’ নামের এ মডেলটি কোম্পানির নতুন ‘মিথোস’ শ্রেণির প্রথম কোনো সংস্করণ, যা এখন সবার জন্য উন্মুক্ত হল। কোম্পানিটির সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির এআই মডেল মিথোস, যা এপ্রিলে প্রথম প্রকাশ পেয়েছে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
তবে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে কয়েক মাস ধরে কেবল অল্প কিছু ‘সহযোগী কোম্পানির’ মধ্যেই সীমিত রাখা হয়েছিল এআই মডেলটিকে।
অ্যানথ্রপিক ‘ফেবল ৫’ মডেলটিকে সফটওয়্যারের কোড লেখা ও এর ত্রুটি সংশোধন করা, জটিল সব গবেষণামূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং ছবি বিশ্লেষণের কাজে ‘দারুণ কার্যকরী’ হিসেবে তুলে ধরেছে।
পাশাপাশি, যেসব কোম্পানি ও সংস্থার কাছে এরইমধ্যে এ ক্যাটেগরির মডেলগুলো ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে তাদের জন্য অ্যানথ্রপিক ‘ক্লোড মিথোস ৫’-এর ‘উন্মুক্ত সংস্করণ’ দিচ্ছে। যার মধ্যে তাদের ‘প্রজেক্ট গ্লাসউইং’ কর্মসূচির আওতাভুক্ত সাইবার নিরাপত্তা সহযোগীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশেষ মর্যাদা পাওয়া এ তালিকায় থাকা কোম্পানির সংখ্যা জুনের শুরুতে বাড়িয়ে ১৫টিরও বেশি দেশের প্রায় দুইশোটিতে নেওয়া হয়েছে এবং এ পরিধি সামনে আরও বাড়বে।
ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ও বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’র বিভিন্ন দুর্বলতা দ্রুত শনাক্তের সক্ষমতার কারণে সাইবার নিরাপত্তার অজুহাতে অ্যানথ্রপিক তাদের ‘মিথোস’ মডেলের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
‘প্রজেক্ট গ্লাসউইং’ চালুর সময় কিছু সমালোচক অ্যানথ্রপিককে কেবল ‘মনোযোগ আকর্ষণের জন্য’ এ নিরাপত্তাজনিত হুমকিকে বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগ এনেছিলেন। তবে যেসব কোম্পানি ‘মিথোস’ পরীক্ষা করে দেখেছে তারা পরবর্তীতে এর সক্ষমতার বিষয়টিকে ‘সমর্থন’ করেছে।
এদিকে, অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে মার্কিন সরকারের আইনি বিরোধ চললেও তারা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এ মডেলটি পরীক্ষা করে দেখেছে।
এরপর থেকে হোয়াইট হাউস বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যেখানে শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন এআই কোম্পানির সবচেয়ে শক্তিশালী মডেলগুলো বাজারে আসার আগেই পরীক্ষা’ করে দেখা হবে।
বর্তমানে মার্কিন সরকারের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায় ‘মিথোস ৫’ নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিটি।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, সাইবার নিরাপত্তা বা জীববিজ্ঞান ও রসায়ন সংক্রান্ত বেশিরভাগ জটিল প্রশ্ন ‘ফেবল ৫’-এর কাছে করা হলে সেগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তুলনামূলক ‘নিম্ন-স্তরের’ মডেল ‘ওপাস ৪.৮’-এর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।
ওপাস ৪.৮ মডেলটি মে মাসের শেষদিকে চালু করেছিল এবং তা কম সক্ষমতার বলে বিবেচিত।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, একনায়কতান্ত্রিক দেশগুলোতে প্রতিযোগী এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তাদের এ প্রযুক্তি হাতিয়ে নেওয়ার ‘বড় ধরনের প্রচেষ্টা’ তারা শনাক্ত করেছে। ফলে এ ধরনের সন্দেহজনক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই কম সক্ষমতার মডেল ব্যবহৃত হবে।
কোম্পানিটি আরও বলেছে, এসব নিষেধাজ্ঞা কীভাবে ফাঁকি দেওয়া যায় বা ভাঙা যায় তা খুঁজে বের করতে তারা বাইরের বিশেষজ্ঞদের ভাড়া করেছিল, যারা ১ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়েছেন। প্রযুক্তির ভাষায় এ প্রক্রিয়াকে বলে ‘রেড-টিমিং’।
পাশাপাশি কোম্পানিটি ‘বাগ বাউন্টি’ কর্মসূচিও চালিয়েছিল, যেখানে নিরাপত্তার ত্রুটি খুঁজে বের করার জন্য সাধারণ মানুষকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তবে কেউই এ মডেলের নিরাপত্তাবলয় সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার পথ খুঁজে পায়নি।
বাজারের অন্যান্য মডেলের চেয়ের ‘ফেবল ৫’-এর ব্যবহারের খরচ চড়া, প্রতি ১০ লাখ ইনপুট টোকেনের জন্য ১০ ডলার এবং প্রতি ১০ লাখ আউটপুট টোকেনের জন্য ৫০ ডলার নির্ধারণ করেছে অ্যানথ্রপিক, যা তাদের আগের সংস্করণ ‘ওপাস ৪.৮’-এর দ্বিগুণ।
এআই খাত নিয়ে বাজারে চলমান তীব্র আর্থিক উন্মাদনার মধ্যেই এসব নতুন মডেল বাজারে আনল অ্যানথ্রপিক।
গেল সপ্তাহেই অ্যানথ্রপিক ও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআই উভয় কোম্পানি আইপিও বা শেয়ার বাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার শেয়ার বাজারে অভিষেক ঘটিয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে স্পেসএক্স।