খোঁজ মিলল মহাবিশ্বের উজ্জ্বলতম বস্তুর

কোয়াসারটির ব্ল্যাক হোলের চারপাশে ঘূর্ণায়মান চাকতিটিতে রয়েছে আলোকিত ঘূর্ণায়মান গ্যাস ও ‘খসে যাওয়া’ তারা থেকে বের হওয়া অন্যান্য পদার্থ, যা দেখতে অনেকটা মহাজাগতিক হারিকেনের মতো।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Feb 2024, 07:56 AM
Updated : 22 Feb 2024, 07:56 AM

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন, মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তুটি কী হতে পারে! এটি একটি কোয়াসার। এর মধ্যে থাকা ব্ল্যাক হোলটি এতটাই দ্রুত বড় হচ্ছে যে, দিনে একটা গোটা সূর্যকেই গ্রাস করে ফেলতে পারে এটি।

এই রেকর্ডভাঙা কোয়াসারটি সূর্যের চেয়ে পাঁচশ ট্রিলিয়ন গুণ বেশি উজ্জ্বল। আর পৃথিবী থেকে বহু দূরের এই কোয়াসারটিকে শক্তি দেয় যে ব্ল্যাক হোল, তা আমাদের সূর্যের চেয়েও এক হাজার সাতশ কোটি গুণ বড় বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা দলটি, যা সোমবার প্রকাশ পেয়েছে ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ জার্নালে।

কোয়াসারটির ছবিগুলো নিছকই বিন্দুর মতো। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা বলছে, এটি কোনো ভয়ঙ্কর জায়গাও হতে পারে।

কোয়াসারটির ব্ল্যাক হোলের চারপাশে ঘূর্ণায়মান চাকতিটিতে রয়েছে আলোকিত ঘূর্ণায়মান গ্যাস ও ‘খসে যাওয়া’ তারা থেকে বের হওয়া অন্যান্য পদার্থ, যা দেখতে অনেকটা মহাজাগতিক ঘুর্ণির মতো।

এই গবেষণার প্রধান লেখক ‘অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান উলফ এক ইমেইল বার্তায় ‘টাইম ম্যাগাজিন’কে বলেছেন, “আমরা এখন পর্যন্ত যা জানি তা হল, কোয়াসারটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর স্থান।”

১৯৮০ সালে জার্মানিতে অবস্থিত ‘ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরি’ থেকে আকাশের জরিপ চালানোর সময় ‘জে০৫২৯-৪৩৫১’ নামের বস্তুটি প্রথম দেখা গিয়েছিল। তবে সে সময় একে একটি তারা হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা।

গত বছর পর্যন্তও একে একটি কোয়াসার হিসাবে চিহ্নিত করা যায়নি। পরবর্তীতে, অস্ট্রেলিয়া ও চিলির আতাকামা মরুভূমিতে অবস্থিত এক টেলিস্কোপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে এর ধরন নিশ্চিত করা হয়।

“এই কোয়াসারের রোমাঞ্চকর বিষয় হল, এটি দৃষ্টিসীমার খুব কাছেই লুকিয়ে ছিল। তবে, এর আগে ভুলবশত একে একটি তারা হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়,” ইমেইল বার্তায় বলেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইয়েল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাপক প্রিয়মভাদা নাটরাজন। তবে, তিনি এ গবেষণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

গবেষক দলটির মতে, এর পর্যবেক্ষণ ও কম্পিউটার মডেলিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে, কোয়াসারটি দিনে প্রায় একটি ও বছরে ৩৭০টি সূর্যের জায়গা গিলে খাচ্ছে।

পরবর্তীতে আরও বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্ল্যাক হোলের ভর আমাদের সূর্যের এক হাজার সাতশ কোটি থেকে এক হাজার নয়শ কোটি গুণ বেশি। তবে এর দ্রুত বৃদ্ধির হার বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কোয়াসারটির অবস্থান এক হাজার দুইশ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। পাশাপাশি মহাবিশ্বের প্রাথমিক দিনগুলোতেও এর অস্তিত্ব ছিল। একটি আলোকর্ষের দূরত্ব মূলত নয় লাখ ৩৩ হাজার কোটি কিলোমিটার বা পাঁচ লাখ ৮০ হাজার কোটি মাইল।