নিজেই বিস্ফোরিত হয়েছে স্টারশিপ: স্পেসএক্স

কোম্পানি বলছে, মহাকাশযানটিতে ‘সেইফ কমান্ড ডিসট্র্যাক্ট’ নামের এক কমান্ড ব্যবহৃত হয়েছে, যা নিজে নিজেই একে বিস্ফোরিত হতে সাহায্য করেছে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Nov 2023, 04:36 AM
Updated : 24 Nov 2023, 04:36 AM

সম্প্রতি উৎক্ষেপিত ‘স্টারশিপ’ রকেট নিজে নিজেই বিস্ফোরিত হয়েছে বলে দাবি নির্মাতা কোম্পানি স্পেসএক্স-এর।

গত সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো স্টারশিপ রকেটের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে স্পেসএক্স, যেখানে রকেটটিকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠিয়ে পরবর্তীতে সাগরে অবতরণ করানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিল ইলন মাস্ক মালিকানাধীন কোম্পানিটি। মিশনের প্রথম পর্যায় সফলভাবে উৎরাতে পারলেও উৎক্ষেপণের আট মিনিট পরই সংযোগ হারিয়ে ফেলে রকেটটি।

ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রকেটের বুস্টার চালু হওয়ার দ্বিতীয় পর্যায়ের শেষ মুহূর্তে এসে ফ্লাইটের সকল ডেটা হারিয়ে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্পেসএক্স।

কোম্পানি বলছে, মহাকাশযানটিতে ‘সেইফ কমান্ড ডিসট্র্যাক্ট’ নামের এক কমান্ড ব্যবহৃত হয়েছে, যা নিজে নিজেই একে বিস্ফোরিত হতে সাহায্য করেছে। রকেটে এ কমান্ড রাখার যথার্থ কারণ বলেনি স্পেসএক্স। তবে ইঙ্গিত মিলেছে, রকেটের ‘পারফর্মেন্স ডেটা’র ওপর ভিত্তি করেই এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকে।

স্পেসএক্স আরও বলেছে, এ ঘটনার আগ পর্যন্ত সবকিছুই পরিকল্পনা মাফিক এগোচ্ছিল। উদাহরণ হিসেবে, রকেটের নীচের অংশে থাকা ‘সুপার হেভি বুস্টার’ এই প্রথম ঠিকমতো কাজ করেছে। এ ছাড়া, স্টারশিপের দুটি অংশও সফলভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

স্পেসএক্স-এর তথ্য অনুসারে, রকেটের ওপরের অংশ বিচ্ছিন্ন করার পর বুস্টারকেও সফলভাবে ওল্টানো সম্ভব হয়েছে। তবে, পরবর্তীতে বুস্টারটি আবার জ্বলতে শুরু করলে বিপত্তি ঘটে। আর রকেটটি ‘দ্রুতই বিচ্ছিন্ন হতে’ শুরু করে, যাকে ‘বিস্ফোরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে স্পেসএক্স।

উৎক্ষেপণের সাড়ে তিন মিনিটের মাথায় যখন মহাকাশযানটি মেক্সিকো উপসাগরে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৯০ কিলোমিটার উপরে ছিল, তখনই এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে স্পেসএক্স।

কোম্পানি বলেছে, এ ধরনের বিস্ফোরণ ভবিষ্যতে স্টারশিপ রকেট তৈরির বেলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। উৎক্ষেপণের আগে স্পেসএক্স বলেছিল, এ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে ভুল হওয়ার ঝুঁকি আছে।

তবে স্পেসএক্স ক্রমাগতই বলে আসছে, ‘এ উৎক্ষেপণ কোন গবেষণাগার বা পরীক্ষামূলক লঞ্চপ্যাডে না ঘটলেও এটি নিশ্চিতভাবেই একটি পরীক্ষা’।

“এমন পরীক্ষা থেকে শেখার মাধ্যমে সাফল্য আসে। আর এটি স্টারশিপের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতেও সাহায্য করবে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হল একাধিক গ্রহে জীবনধারণের সুবিধা দেওয়া।” -- বলেছে স্পেসএস।

“পরবর্তী উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে আমরা এর ডেটা নিয়ে পর্যালোচনা করছি। স্টারবেইজ দল এরইমধ্যে স্টারশিপের তৃতীয় পরীক্ষামূলক মহাকাশযান নিয়ে কাজ করছে। আর এতে থাকতে পারে ‘শিপ অ্যান্ড বুস্টার’ নামের স্ট্যাটিক ফায়ার ব্যবস্থা।”