Published : 12 Aug 2025, 03:27 PM
ব্রিটেনের ঘরবাড়িতে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চাইছে ইলন মাস্কের কোম্পানি টেসলা। এজন্য দেশটির সরকারের কাছে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে মার্কিন কোম্পানিটি।
যুক্তরাজ্যের ‘অফজেম’ নামের বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ আবেদন অনুমোদন করলে ব্রিটেনে বড় বড় বিভিন্ন বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে টেসলা। পাশাপাশি আগামী বছর থেকেই ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের বাড়ি ও ব্যবসায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
বিশ্বের অন্যতম বড় ইলেকট্রিক বা বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা হিসেবে পরিচিত টেসলা। পাশাপাশি সৌরশক্তি ও ব্যাটারি বানানোর কাজও করে কোম্পানিটি।
তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসির অনুরোধে সাড়া দেয়নি টেসলা। টেসলার বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইসেন্সের আবেদন পর্যালোচনা করতে সর্বোচ্চ নয় মাস সময় নিতে পারে অফজেম।
এরইমধ্যে টেক্সাসে এক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী হিসাবে কাজ করছে টেসলার ইলেকট্রিক বিভাগ, যেখানে টেসলার ইভি মালিকরা নিজেদের গাড়ি কম খরচে চার্জ করতে পারে এবং বাড়তি বিদ্যুৎ থেকে গেলে সেটি বিক্রি করেও আয় করতে পারে।
ঘরবাড়িতে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের আবেদনটি গত মাসের শেষ দিকে জমা দিয়েছিল টেসলা, যেটিতে সই করেছিলেন টেসলার ইউরোপীয় শক্তি বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু পেইন।
যুক্তরাজ্যে এক লাখ পঞ্চাশ হাজারের বেশি ইলেকট্রিক গাড়ি ও লক্ষাধিক বাড়ির জন্য ব্যাটারি বিক্রি করেছে টেসলা। ফলে কোম্পানিটির জন্য বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে অনেক গ্রাহক পাওয়া সম্ভব।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে টেসলার ইভি বিক্রি কমে যাওয়ার মধ্যেই কোম্পানিটির এ লাইসেন্স আবেদনের খবর প্রকাশ পেল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
শিল্প খাতের তথ্য বলছে, জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে টেসলার গাড়ি নিবন্ধন কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ এবং জার্মানিতে কমেছে ৫৫ শতাংশেরও বেশি। ফলে ওই মাসে ইউরোপের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে টেসলার মোট বিক্রি কমেছে ৪৫ শতাংশ।
টেসলা প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি, বিশেষ করে চীনের ‘বিওয়াইডি’র কাছ থেকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখেও পড়েছে মার্কিন কোম্পানিটি।
বিবিসি লিখেছে, এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে মাস্ককে। তবে এখন প্রকাশ্যে একে অপরের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন তারা।
এদিকে, মাস্কের ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইতালিতে টেসলার কিছু গ্রাহকের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি করেছে।