Published : 27 Apr 2026, 01:43 PM
জন টার্নাসের নেতৃত্বে অ্যাপল এক নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। সাশ্রয়ী দামের ম্যাকবুক নিও বাজারে এনে কোম্পানিটি প্রমাণ করেছে, গুণমান বজায় রেখেও অ্যাপল এখন ঝুঁকি নিতে ও সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছাতে পারে।
দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন টার্নাস কীভাবে অ্যাপলকে নতুনভাবে গড়ে তুলছেন ম্যাকবুক নিও তারই এক ঝলক ছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
অ্যাপল যখন ‘ম্যাকবুক নিও’ বাজারে আনে তখন সবখানেই টার্নাসের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ওই ইভেন্টটি শুরু করেছিলেন টার্নাস এবং ম্যাকবুক নিও’কে অ্যাপলের জন্য যুগান্তকারী এক কম্পিউটার হিসেবে পরিচয়ও করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
ল্যাপটপটি উন্নত গুণমানের হলেও এর কম দাম সাধারণের জন্য কেবল ৫৯৯ ডলার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৯৯ ডলার।
ওই সময় ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’র মতো টিভি অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিতেও দেখা গেছে টার্নাসকে, যেখানে সাধারণত অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক উপস্থিত থাকেন।
এ ছাড়া ইভেন্টে অ্যাপল কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তারাও বারবার টার্নাসের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করছিলেন। এক কথায় বলতে গেলে, ম্যাকবুক নিও’র প্রচার ও প্রসারে টার্নাসই ছিলেন অ্যাপলের প্রধান মুখ।
১ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে জন টার্নাসের অভিষেক হতে যাচ্ছে। ‘ম্যাকবুক নিও’ কেবল তার সাফল্যের মুকুটে একটি নতুন পালকই নয়, বরং ভবিষ্যতে অ্যাপলের পণ্য তৈরির কৌশলে বড় সংকেতই দিয়েছে। এর থেকে ইঙ্গিত মেলে, এখন ঝুঁকি নিতে অ্যাপল আগের চেয়ে বেশি সাহসী।

অ্যাপল সব সময় তাদের দামী ও উন্নত ভাবমূর্তি ধরে রাখার জন্য পরিচিত। তারা এক সময় ‘আইফোন এসই’ বা ৫সি এর মতো সাশ্রয়ী ফোন বানানো বন্ধ করে দিয়েছিল।
বর্তমানে কোম্পানিটির ৫৯৯ ডলারের ‘আইফোন ১৬ই’ বা ১৭ই’ও সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড ফোনের তুলনায় দামী।
সেই জায়গায় পূর্ণাঙ্গ এক কম্পিউটারে মোবাইলের প্রসেসর ব্যবহার করা ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এতে ল্যাপটপটি দুর্বল হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। ম্যাকবুক নিও’তে কেবল ৮ জিবি র্যাম দেওয়ার বিষয়টিও ছিল অনেকটা জুয়া খেলার মতো।
ম্যাকবুক নিও নতুন কোনো ক্যাটেগরির পণ্য না হলেও অ্যাপলের মতো কোম্পানির কাছ থেকে এমন এক বাজেটবান্ধব ল্যাপটপ পাওয়া বেশ বিস্ময়কর ও তাদের প্রথাগত ধারার বাইরের পদক্ষেপ।
টার্নাসের হার্ডওয়্যার পরিচালনা ও অ্যাপলের নিজস্ব সফটওয়্যারের সমন্বয়ে ‘ম্যাকবুক নিও’ বড় সাফল্য পেয়েছে। ৬০০ ডলারের ল্যাপটপের মধ্যে এত ভালো মানের বডি, স্ক্রিন, কিবোর্ড, স্পিকার এবং ট্র্যাকপ্যাড আগে কখনো দেখা যায়নি।
ম্যাকবুক নিও তৈরি করতে অ্যাপলের ঠিক কত খরচ হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও ‘ম্যাকবুক এয়ার’ বা ‘প্রো’ এর তুলনায় নিও বিক্রি করে কোম্পানিটির লাভ নিশ্চিতভাবেই কম হবে।
তবে এ ল্যাপটপটি কেবল লাভের জন্য তৈরি হয়নি। শিশু ও শিক্ষার্থীদের অ্যাপলের ইকোসিস্টেমে নিয়ে আসার বড় এক মাধ্যম ম্যাকবুক নিও। এর চেয়েও বড় কথা, উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের খুব সহজেই অ্যাপলের দিকে আকৃষ্ট করতে পারে এ ল্যাপটপ।
ম্যাকবুক নিও এর সব কৃতিত্ব একা টার্নাসকে দেওয়া যায় না। কারণ, তার অধীনে প্রোডাক্ট ম্যানেজার ও ইঞ্জিনিয়ারদের বড় দল রয়েছে যারা এর নকশা বা ডিজাইনের আসল কাজগুলো করেছেন। তবে কেবল ৬০০ ডলারে এমন একটি ল্যাপটপ তৈরি করা, যা মোটেও নিম্নমানের মনে হয় না তা সত্যিই বড় সাফল্য।
টার্নাসের নেতৃত্বে অ্যাপল কীভাবে পণ্যের মান ও সূক্ষ্ম খুঁটিনাটির দিকে নজর ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও নতুন কিছু আনবে সেটি সত্যিই দেখার মতো বিষয় হবে।
অ্যাপলের এমন একজন বিরল ইঞ্জিনিয়ার টার্নাস যিনি গত ২৫ বছরে প্রায় সব ধরনের পণ্য তৈরির পেছনে ভূমিকা রেখেছেন; তা সে ম্যাক, আইপ্যাড, আইফোন বা অ্যাপল ওয়াচ যাই হোক না কেন।
ফলে অ্যাপল ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে এবং কোম্পানির সক্ষমতাকে কতটুকু এগিয়ে নিতে পারবে সে সম্পর্কে টার্নাসের অনন্য এক ধারণা তৈরি হয়েছে।
ম্যাকবুক নিও’র সাফল্য দেখার পর অ্যাপল ভবিষ্যতে নিজেকে কীভাবে নতুনভাবে গড়ে তোলে সেটি আসলেই দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন…