Published : 22 Jul 2026, 12:55 PM
ইরানের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৭৫০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন।
মার্কিন বাহিনী আবার নতুন করে ইরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করার পর জরুরি তহবিল প্রয়োজন হয়ে পড়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার যুদ্ধ নিয়ে সন্দিহান আইন প্রণেতাদের মুখোমুখি হন হেগসেথ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র ছয় মাস বাকি। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল প্রতিনিধি পরিষদের ও সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হবে বলে জনমত জরিপগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটরা অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখানোর চেষ্টা করছে আর তাতে তারা সফলও হচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। কারণ জনমত জরিপগুলোতে তারা অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে এক শুনানিতে হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের জানান, তিন হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের মধ্যে যুদ্ধের কিছু দিকের আর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রত্যাশিত খরচ অন্তর্ভুক্ত আছে।
রয়টার্স জানায়, পেন্টাগন কীভাবে এই সংখ্যাটিতে পৌঁছেছে তা পরিষ্কার হয়নি। এক সূত্র মার্চে রয়টার্সকে বলেছিল, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনের ব্যয় অন্তত এক হাজার ১৩০ কোটি বলে হিসাব করেছিল।
গত মাসে ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসকে অতিরিক্ত আরও নয় হাজার কোটি ডলার তহবিল মঞ্জুর করতে বলেছিল। এই তহবিলের অধিকাংশই ছিল ইরান যুদ্ধ সম্পর্কিত। এতে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে হতাশ আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বোমাবর্ষণ শুরু করার পর থেকে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলীয় আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করে আসছেন যে, ট্রাম্প ও তার টিম এই যুদ্ধের বিষয়ে তাদের কিছু জানায়নি বা তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কেও কিছু বলেনি।
কংগ্রেসের বরাদ্দ কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য প্যাটি মারি ওই শুনানিতে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট উত্তেজনা বৃদ্ধির ও যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন। আর ধারণা দিচ্ছেন এটি আরেকটি চিরস্থায়ী যুদ্ধ হতে পারে।”
ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বারবার কঠোর সব হুমকি দিয়েছেন। এসবের মধ্যে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার কথাও বলেছেন, যা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে বলে সমালোচকরা বলছেন।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ও উচ্চকক্ষ সেনেটে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এতো কম যে বরাদ্দ বিল পাস করার ক্ষেত্রে সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন লাগে।
আরও পড়ুন: