Published : 15 Dec 2025, 11:50 AM
বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের প্রথম সাবমেরিন কেবল প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে নকিয়া। একে উদ্যোক্তা কনসোর্টিয়াম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে বর্ণনা করেছে।
কক্সবাজার–সিঙ্গাপুর রুটে সাবমেরিন লাইন টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট সরবরাহে নকিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ প্রাইভেট কেবল সিস্টেম বা বিপিসিএস।
রোববার রাতে ঢাকার একটি হোটেলে চুক্তিতে সই করেন কনসোর্টিয়ামের তিন সদস্য প্রতিষ্ঠান মেটাকোর সাবকম, সামিট কমিউনিকেশন্স এবং সিডিনেট কমিউনিকেশন্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা। নকিয়ার পক্ষে চুক্তিতে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির ভারতীয় ও আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগের প্রতিনিধি।
অনুষ্ঠানে স্বাক্ষরকারীদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফিনল্যান্ড ও জাপানের রাষ্ট্রদূতরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিপিসিএস কনসোর্টিয়ামের কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার প্রায় ৯ হাজার গিগাবিট পার সেকেন্ড বা জিবিপিএস। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ চাহিদা বেড়ে প্রায় ২০ হাজার জিবিপিএসে পৌঁছাবে বলে তাদের ধারণা। আর ২০৩০ সালে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ।
এই বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে বেসরকারি খাতের তিনটি সাবমেরিন কেবল প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। তারা বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। আরও ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৬ সালের জুনের পর তিনটি কেবল পেয়ার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক টেরিস্ট্রিয়াল কেবলের মাধ্যমে ভারত থেকে দেশের ৬০ শতাংশের বেশি ব্যান্ডউইথ আসে বলে উল্লেখ করেন কনসোর্টিয়াম কর্মকর্তারা। এতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশটির বাইরে চলে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুর–কক্সবাজার রুটে নতুন এই সাবমেরিন কেবল চালু হলে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ব্যান্ডউইথে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে দেশ এগোবে বলে তাদের আশা।
নকিয়ার এসএলটিই প্রযুক্তি ব্যবহারে কম বিদ্যুৎ খরচে এবং কম জায়গায় ইকুইপমেন্ট বসানো সম্ভব হবে বলে জানানো হয়। এতে ডেটা সেন্টারের জায়গা কম লাগবে এবং নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। কনসোর্টিয়ামের মতে, সার্বিক ব্যয় কমলে ভবিষ্যতে ব্যান্ডউইথের দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
কেবলের দুই প্রান্তেই নকিয়ার এসএলটিই ব্যবহার করা হবে জানিয়ে কর্মকর্তারা বলেন, এতে আন্তর্জাতিক মানের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।