১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রথমবারের মতো সফল ফ্লাইট সম্পন্ন করল নাসার এই সুপারসনিক জেট

এটি এমনভাবে তৈরি, যা সুপারসনিক গতিতে উড়লেও অতীতের সুপারসনিক জেটের মতো জোরালো ‘সনিক বুম’ বা তীব্র বিস্ফোরণধ্বনি তৈরি করে না।

প্রথমবারের মতো সফল ফ্লাইট সম্পন্ন করল নাসার এই সুপারসনিক জেট
‘এক্স-৫৯’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সুপারসনিক উড়ান বা অতিদ্রুত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পথ তৈরি করা। ছবি: লকহিড মার্টিন

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Nov 2025, 03:35 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:35 PM

প্রায় এক দশক আগে লকহিড মার্টিনের সঙ্গে মিলে এক বিশেষ সুপারসনিক জেট তৈরির কাজ শুরু করেছিল নাসা। এখন প্রথমবারের মতো ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে সফলভাবে উড়ান সম্পন্ন করেছে সেই জেটটি।

‘এক্স-৫৯’ নামের প্লেনটি চলে ‘কোয়ায়েট সুপারসনিক টেকনোলজি’তে। এটি এমনভাবে তৈরি, যা সুপারসনিক গতিতে উড়লেও অতীতের সুপারসনিক জেটের মতো জোরালো ‘সনিক বুম’ বা তীব্র বিস্ফোরণধ্বনি তৈরি করে না বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।

পরীক্ষামূলক এ উড়ান সফল হওয়ার পর এখন এ প্লেন নিয়ে আরও কিছু পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছে নাসা এবং মার্কিন অ্যারোস্পেস, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা কোম্পানি ও নাসার ঠিকাদার লকহিড মার্টিন।

এসব পরীক্ষায় ‘এক্স-৫৯’ প্লেনের ‘শব্দের ধরন পরিমাপ ও বিভিন্ন এলাকায় মানুষের প্রতিক্রিয়া যাচাই করবে’ তারা, যাতে ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম শব্দ ও দ্রুতগামী আকাশযাত্রার পথ তৈরি করা যায়।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পামডেলে অবস্থিত ‘ইউএস এয়ার ফোর্স প্ল্যান্ট ৪২’ থেকে শুরু হয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডসে নাসার ‘আর্মস্ট্রং ফ্লাইট রিসার্চ সেন্টার’ পর্যন্ত উড়ান সম্পন্ন করেছে প্লেনটি।

এই মেইডেন ফ্লাইট নিয়ে লকহিড মার্টিন বলেছে, “এক্স-৫৯ পরিকল্পনা অনুসারে নিখুঁতভাবে কাজ করেছে। উড়ানের সময় আমরা প্লেনের প্রাথমিক উড়ান বৈশিষ্ট্য ও বায়ুর তথ্য যাচাই করেছি এবং নিরাপদে এটিকে নতুন ঘাঁটিতে পৌঁছাতে পেরেছি।”

‘এক্স-৫৯’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সুপারসনিক ফ্লাইট বা অতিদ্রুত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পথ তৈরি করা।

সুপারসনিক গতি বলতে বোঝায় ম্যাক ১-এর চেয়েও দ্রুত গতির, অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ৭৬৮ মাইল বেগে চলা। এ গতিতে ভ্রমণে দূরপাল্লার যাত্রা ও মালামাল পরিবহনের সময় অনেক কমে যাবে।

নাসা ও লকহিড মার্টিনের তৈরি ‘কোয়েস্ট’ নকশা অনুসারে, ইঞ্জিনটি প্লেনের ওপরের দিকে বসানো হয়েছে এবং এর নাকটি অতিমাত্রায় সূচালো। এ নকশার ফলে প্লেনটি কেবল দ্রুতই নয়, বরং শব্দ অনেক কম করেও চলতে পারবে।

২০২৩ সালের এক ব্লগ পোস্টে নাসা বলেছিল, “প্লেনের নিচে থাকা মানুষরা যদি কিছু শুনতে পান তবে জোরালো শব্দ নয়, বরং হালকা মৃদু শব্দ শুনতে পাবেন।”

১৯৭৩ সালের ২৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হয় সুপারসনিক উড়ান। ওই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ ছিল, এ ধরনের প্লেনের তৈরি শব্দদূষণ ও নাগরিকদের সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা।

এ নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘ দশক ধরে বহাল ছিল। পরে ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ‘ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-কে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এখন এক্স-৫৯ নিয়ে নাসা ও লকহিড মার্টিনের কাজের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের গবেষণা ও পরীক্ষার ফলাফল ভবিষ্যতে সাহায্য করবে এমন এক মানদণ্ড তৈরিতে, যা ‘স্থলভাগের ওপর দিয়ে বাণিজ্যিক সুপারসনিক প্লেন চালানোর সময় গ্রহণযোগ্য শব্দমাত্রা নির্ধারণে বিজ্ঞাননির্ভর তথ্যভিত্তিক দিকনির্দেশনা দেবে’।