Published : 30 Jun 2026, 03:43 PM
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের আকাশচুম্বী চাহিদাকে কাজে লাগাতে চিপ ও এআই খাতে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
দেশটির শীর্ষ চিপ নির্মাতাদের সঙ্গে যৌথভাবে এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিবেদন লিখেছে বিবিসি।
প্রকল্পটি দক্ষিণ কোরিয়ার ‘থ্রি মেগা প্রজেক্টস’ বা তিনটি বড় প্রকল্পের অংশ; যার উদ্দেশ্য নতুন চিপ উৎপাদন কেন্দ্র, ডেটা সেন্টার ও রোবোটিক্স প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো।
সোমবার দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং বলেছেন, রাজধানী সিউলের বাইরের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এ পরিকল্পনা।
বর্তমানে এআইয়ের ব্যাপক প্রসারের কারণে সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে তাইওয়ান, চীন ও জাপানের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা চিপ কারখানা ও অন্যান্য প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের সময়ই দক্ষিণ কোরিয়া এমন বড় পদক্ষেপ নিল।
প্রেসিডেন্ট লি বলেছেন, “আমাদের অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে দ্রুত এআইয়ের মূল বিভিন্ন উপাদান সুরক্ষিত করতে হবে। সেমিকন্ডাক্টর, ফিজিক্যাল এআই ও এআই ডেটা সেন্টার হচ্ছে বড় অগ্রযাত্রার ত্রিমুখী অক্ষ।”
দেশটির শীর্ষ দুই চিপ নির্মাতা কোম্পানি স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স-এর প্রধানদের সঙ্গে নিয়ে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট লি।
এসব কোম্পানি যৌথভাবে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ উৎপাদন হাব তৈরি করবে।
প্রেসিডেন্ট লি রাজধানী সিউলের বাইরে অন্যান্য এআই অবকাঠামো হাব বা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে দেশটির বেশিরভাগ উন্নত ও আধুনিক বিভিন্ন কারখানা সিউলেই রয়েছে।
এর আগে, এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট লি বলেছিলেন, সিউলে বিভিন্ন শিল্পকারখানার অতিরিক্ত ঘনত্বের কারণে গ্রামীণ অঞ্চলগুলোর যে অবনতি ঘটছে তা ঠেকানো দেশের জন্য ‘টিকে থাকারই’ লড়াই।
“এখন আমাদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও প্রান্তিকীকরণের চক্রটি ভেঙে ফেলতে হবে, কেবল ন্যায়বিচার ও সাম্যের স্বার্থেই নয়, বরং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতের জন্যও এমনটা জরুরি।”
স্যামসাং ও এসকে গ্রুপের গ্রাহক তালিকায় মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া’র মতো শীর্ষস্থানীয় এআই চিপ জায়ান্ট রয়েছে। এআই অবকাঠামো খাতে খরচের এ ব্যাপক বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়া কোম্পানির মধ্যে অন্যতম স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স।
গুগল, অ্যামাজন ও মেটাসহ মার্কিন বিভিন্ন প্রযুক্তি জায়ান্টরা বলেছে, তারা এ বছরেই এআই প্রযুক্তিতে ৬৫ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করবে।
এআই ডেটা সেন্টারের অভাবনীয় প্রসারের ওপর ভর করে মে মাসেই শেয়ারবাজারে এসকে হাইনিক্সের মূল্যায়ন ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
এআই’কে শক্তিশালী করার জন্য চিপের এ আকাশচুম্বী চাহিদা বিশ্বজুড়ে চিপের ঘাটতি তৈরি করেছে, যার ফলে এর দামও বেড়েছে। যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গেল সপ্তাহেই অ্যাপল ও মাইক্রোসফট তাদের বেশ কিছু ডিভাইসের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
তবে এআই খাতে যেভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালা হচ্ছে তা নিয়ে কিছু বিনিয়োগকারী উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন, যার জেরে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছু কোম্পানির শেয়ারের দামেও পতন ঘটেছে।