Published : 26 Feb 2026, 02:20 PM
বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এবার নিজ দেশেই পণ্য উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে অ্যাপল। এ বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির জন্য ম্যাক মিনি দেশের ভেতরে তৈরি করবে আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি।
মার্কিন বাণিজ্য দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’কে নিজেদের হিউস্টন কারখানাটি ঘুরিয়ে দেখিয়েছে কোম্পানিটি, যেখানে বর্তমানে ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’-এর জন্য সার্ভার তৈরি করছে তাইওয়ানভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বড় ঠিকাদার কোম্পানি ফক্সকন।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, এ সফরের সময় একটি খালি গুদামঘর দেখিয়ে অ্যাপল বলেছে, এ জায়গাটিকে ২ লাখ ২০ হাজার বর্গফুটের এক বিশাল কারখানায় রূপান্তরিত করবে তারা। ছোট আকারের ডেস্কটপ কম্পিউটার বা ম্যাক মিনি তৈরি করতেই এ উদ্যোগ।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়ভাবে বিক্রির জন্য ম্যাক মিনি উৎপাদনের এ সিদ্ধান্তটি অ্যাপলের গত বছরের এক প্রতিশ্রুতিরই অংশ, যেখানে কোম্পানিটি বলেছিল, আগামী চার বছরে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে টিম কুকের বৈঠকের পরই অ্যাপল ঘোষণা করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও কর্মী নিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়াবে কোম্পানিটি।
ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, আমদানি শুল্ক এড়াতেই কোম্পানিটি তাদের দেশীয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তবে এর আগে ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময়ও একইরকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল অ্যাপল।
কোম্পানিটি বলেছিল, পরবর্তী পাঁচ বছরে অভ্যন্তরীণভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৩ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিবেদনে লিখেছে, এর আগে টেক্সাসের এক কারখানায় ম্যাক প্রো তৈরি করছে অ্যাপল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে পণ্য উৎপাদন অনেক কমেছে।
অ্যাপলের চিফ অপারেটিং অফিসার সাবিহ খান বলেছেন, ম্যাক মিনির দীর্ঘমেয়াদী চাহিদার বিষয়ে কোম্পানি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। পাশাপাশি, অ্যাপলের মোট বিক্রির তুলনায় এ মডেলটির ভাগ খুবই সামান্য। কোম্পানি যদি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়াতে চায় তবে ম্যাক মিনিই তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প। কারণ, আইফোনের মতো ব্যাপক চাহিদার কোনো পণ্যের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনা কঠিন।
চীনে বর্তমানে যেসব কোম্পানি আইফোন তৈরি ও সংযোজন করছে তাদের কাছে এ সেরা বিক্রিত ডিভাইসটি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত কারখানা ও দক্ষ জনবল উভয়ই রয়েছে।
খান বলেছেন, উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হিউস্টনের এ কারখানাটি স্থানীয় চাহিদা মেটাতে পারবে, যা থেকে আভাস মেলে, শুরুতে হয়ত উৎপাদন খুব ছোট পরিসরে শুরু হবে।
এ ছাড়া, বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাজারের জন্য নিজেদের ম্যাক মিনি উৎপাদন এশিয়াতেই অব্যাহত রাখবে অ্যাপল।