Published : 25 Apr 2026, 02:10 PM
দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় এক ঘটকালি কোম্পানির ডেটাবেইস থেকে চার লাখ ২০ হাজারেরও বেশি সদস্যের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ ও তথ্য সংরক্ষণে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করায় ‘ডুও’ নামের ওই কোম্পানিটিকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করেছে দেশটির ‘পার্সোনাল ইনফরমেশন প্রটেকশন কমিশন’ বা তথ্য সুরক্ষা সংস্থা।
বৃহস্পতিবার কমিশন বলেছে, কোম্পানিটি থেকে সদস্যদের ওজন, রক্তের গ্রুপ ও আগে বিয়ে হয়েছিল কি না এমন সব সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে এ ব্যবস্থা নিয়েছে তারা।
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ডুও’ কোম্পানিটি তাদের সদস্যদের ডেটাবেইস সুরক্ষিত রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের পর পদক্ষেপ নিতেও অনেক দেরি করেছিল ডুও।
‘ডুও’কে ৮ লাখ ১৫ হাজার ৪০০ ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ চুরির ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বলেছে।
সংস্থাটি বলেছে, গেল বছরের জানুয়ারিতে হ্যাকাররা অবৈধভাবে কোম্পানির ডেটাবেইসে প্রবেশ করে এবং বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে ৪ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য ডাউনলোড করে নেয়। এসব তথ্যের মধ্যে ফোন নম্বর, ঠিকানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কমিশন আরও বলেছে, নাগরিক পরিচয়পত্র নম্বর ও পাসওয়ার্ডের মতো ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নিয়মাবলিও লঙ্ঘন করেছে ডুও। পাঁচ বছরের বেশি সময় আগে সংগ্রহ করা প্রায় তিন লাখ সদস্যের তথ্য মুছে ফেলার যে আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল তা পালনেও ব্যর্থ হয়েছে কোম্পানিটি।
দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কোনো না কোনোভাবে ম্যাচমেকিং সার্ভিসের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে অন্যতম সুপরিচিত এক কোম্পানি ডুও।
এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে সম্মান জানায় তারা এবং ‘সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য পর্যাপ্তভাবে রক্ষা করতে না পারায় গভীরভাবে অনুতপ্ত।’ এসব তথ্য চুরি হয়েছে এমন এক হ্যাকিং হামলার মাধ্যমে, যা ‘শনাক্ত করা বা ঠেকানো কঠিন ছিল’।
ডুও দাবি করেছে, তাদের সেবার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৩ হাজারেরও বেশি বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং গড়ে প্রতিদিন সাত দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। এ সপ্তাহ পর্যন্ত তাদের সদস্য সংখ্যা ৩৬ হাজার জন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বেশ কিছু কোম্পানি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সম্প্রতি হ্যাকিং বা কর্মীদের অপেশাদার আচরণের কারণে গ্রাহক তথ্য ফাঁসের শিকার হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনায় জনরোষ তৈরি হওয়ায় সরকার এখন দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।