Published : 01 Jul 2026, 12:49 AM
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বিবাদী পক্ষ— দুই দিক থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
এই সাজাকে ‘অপ্রতুল’ আখ্যা দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে আসামিপক্ষ এই রায়কে ন্যায়বিচারের পরিপন্থি অভিহিত করে উচ্চ আদালতে খালাসের আবেদন করবে বলে জানিয়েছে।
জুলাই আন্দোলন দমন করতে নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার দায়ে মঙ্গলবার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেয়। এতে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাকি পাঁচটি অভিযোগে তিনি খালাস পেয়েছেন।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রধান কৌশুলি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে মোটেই সন্তুষ্ট নয়।”
তিনি আরো বলেন, “যে রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করার মতো, সেটা আমরা অবশ্যই সন্তুষ্টি প্রকাশ করি। যে রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হই না সে রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করার কোনো সুযোগ নাই।
“প্রমাণিত তিনটি অভিযোগে দেওয়া শাস্তি অপ্রতুল। যেসব অভিযোগ থেকে ইনুকে অব্যাহতি বা খালাস দেওয়া হয়েছে, সেগুলোসহ সাজা বৃদ্ধির জন্য রায়ের কপি পাওয়া সাপেক্ষে যথাসময়ে আপিল করা হবে।”
হাসানুল হক ইনুর অপরাধের বিবরণ তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাসদের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হিসেবে ইনু জোটের বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।
“ওই বৈঠকে কারফিউ জারি, দেখামাত্র গুলির নির্দেশ এবং আন্দোলন দমনে জামায়াত ও বিএনপিকে নির্মূল করার যে অপরাধমূলক সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তাতে তিনি অন্যতম নেতা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন।”
ইনুকে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম কুশীলব আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে ইনু যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার জন্যও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেওয়া হয়েছে।
এই রায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা এবং নাশকতা বৈধতা পেল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো জাতির এক বীর সন্তানকে এই রায়ের মাধ্যমে অপমানিত করা হয়েছে।”
রাষ্ট্রপক্ষ সাজা ‘অপ্রতুল’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছে, সে বিষয়ে শুভ বলেন, “এটি প্রসিকিউশনের নিজস্ব মতামত। আসামিপক্ষ মনে করে, ইনুর বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মতো কোনো বিষয়বস্তু বা অপরাধের উপাদান এই মামলায় ছিল না।”
আসামি পক্ষ পুরোপুরি খালাস প্রত্যাশা করেছিলেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আপিলে যাওয়ার বিষয়ে আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, “পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো হাতে পাওয়া যায়নি। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর এর পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা আপিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এদিকে রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে জাসদ নেতা হাসনুল হক ইনুর স্ত্রী আফরোজা হক রীনা সাংবাদিকদের বলেন, “রায়ে তারা অসন্তুষ্ট, ক্ষুব্ধ। ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য যে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল, ইউনূস সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই ট্রাইব্যুনালকে উল্টে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করেছে।”
আপিল করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পরিবার, দল ও আইনজীবীদের সঙ্গে বসে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন