Published : 06 Mar 2026, 12:04 PM
গত ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের অভ্যন্তরীণ গঠনে এমন কিছু সূক্ষ্ম ও রহস্যময় পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন, যা আগে বোঝা যায়নি।
গবেষণা বলছে, সূর্য এমন কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যা এর আগে পুরোপুরি বুঝতে পারেননি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সূর্যের ওপর সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এর অভ্যন্তরীণ গঠন প্রতিটি চক্রের সঙ্গে সঙ্গে সামান্য পরিবর্তিত হয়।
ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, প্রতি ১১ বছর পর পর সূর্য একটি চক্র সম্পন্ন করে, যেখানে প্রচণ্ড সক্রিয় অবস্থা থেকে শান্ত অবস্থায় ফিরে আসে সূর্য। এ শান্ত সময়ে সূর্যের গায়ে সানস্পট বা সৌর কলঙ্ক কম থাকে, চৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এর উপরিভাগ অনেকটা মসৃণ বা অভিন্ন দেখায়।
তবে গবেষণায় উঠে এসেছে, সূর্যের প্রতিটি শান্ত সময় বা ‘মিনিমাম’ পিরিয়ড আসলে আগের বারের চেয়ে কিছুটা আলাদা। সূর্যের উপরিভাগের সামান্যতম পরিবর্তনও এর ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
এ গবেষণায় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের ভেতরে তৈরি সূক্ষ্ম কম্পন বা সরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন, যা আটকে পড়া শব্দতরঙ্গের মাধ্যমে তৈরি হয়। এসব কম্পন বিশ্লেষণ করে সূর্যের পৃষ্ঠতলের ভেতরে কী ঘটছে তা বোঝা সম্ভব।
গবেষকরা বিশেষ এক ধরনের ‘গ্লিচ বা ত্রুটি’ খুঁজছিলেন, যা সূর্যের ভেতরে হিলিয়াম গ্যাস ‘ডাবল আয়নাইজড’ বা দ্বি-আয়নিত হয়ে গেলে শব্দতরঙ্গে তৈরি হয়। এর ফলে শব্দের গতিতেও পরিবর্তন আসে।
সূর্যের চারটি ভিন্ন চক্র পরীক্ষা করে গবেষকরা বলছেন, ২০০৮ ও ২০০৯ সালের চরম শান্ত সময়ে (যা ছিল ২৩ ও ২৪ নম্বর চক্রের মধ্যবর্তী সময়) সূর্যের ভেতরের অবস্থা ছিল আলাদা।
গবেষকরা বলছেন, অন্য তিনটি সময়ের তুলনায় হিলিয়াম ‘ত্রুটি’-এর সময় আকারে অনেক বড় ও সূর্যের ভেতরে শব্দের গতি ছিল বেশি এবং এর চৌম্বক ক্ষেত্র ছিল তুলনামূলক দুর্বল।
‘ইউনিভার্সিটি অফ বার্মিংহাম’-এর অধ্যাপক বিল চ্যাপলিন বলেছেন, “এবারই প্রথম আমরা স্পষ্টভাবে পরিমাপ করতে পেরেছি, একটি সৌর চক্রের শান্ত সময় থেকে পরবর্তী চক্রে সূর্যের অভ্যন্তরীণ গঠন কীভাবে পরিবর্তিত হয়। সূর্যের বাইরের বিভিন্ন স্তর প্রতিটি চক্রে সূক্ষ্মভাবে বদলে যায় এবং সূর্যের চরম শান্ত সময়গুলো এর ভেতরে একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ছাপ রেখে যায়।”
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এ গবেষণা সূর্য ও ‘সৌর আবহাওয়া’ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ করবে। সৌর আবহাওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে, যা পৃথিবীর জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।
এ সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দিতে ও মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
‘ইয়েল ইউনিভার্সিটি’র সর্বাণী বসু বলেছেন, “এ শান্ত সময়গুলোতে সূর্যের পৃষ্ঠতলের নিচে আসলে কী ঘটে তা উন্মোচন করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময়ের আচরণই নির্ধারণ করে দেয়, সূর্যের পরবর্তী বিভিন্ন চক্রে সৌর কর্মকাণ্ডের মাত্রা কতটা তীব্র হবে।”
‘সিসমিক ডাইভারসিটি অফ ফোর সাকসেসিভ সোলার সাইকেল মিনিমা অ্যাজ অবজার্ভড বাই দ্য বার্মিংহাম সোলার অসিলেশন নেটওয়ার্ক’ শিরোনামে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘মান্থলি নোটিশেস অফ দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’তে।