Published : 28 Jun 2026, 07:33 AM
বিশ্বকাপে টিকে থাকতে জিততেই হবে- এমন সমীকরণে মাঠে নেমে শুরুতেই গোল খেয়ে বসল ডিআর কঙ্গো। অনেকটা সময় পর্যন্ত পিছিয়ে থাকায় তাদের সম্ভাবনাও ফিকে হয়ে আসছিল একটু করে। তবে ১০ মিনিটের এক ঝড়ে বদলে গেল চিত্র। দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নকআউট পর্বে উঠল আফ্রিকার দলটি।
গ্রুপের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে ডিআর কঙ্গো। তৃতীয় সেরা দলগুলোর একটি হয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে তারা।
বিশ্বকাপে তাদের প্রথম জয় এটিই।
আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রোববার সকালের ম্যাচে ৬৭ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল কঙ্গো। পরের মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা টানেন ইয়োয়ান উইসা, নতুন করে জাগে আশা। ৭৮তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা ফিস্টন মায়েলি। যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোলে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন উইসা।
ডিআর কঙ্গো হিসেবে এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে তারা। এর আগে অবশ্য একবার বিশ্বকাপ খেলেছিল দেশটি, ১৯৭৪ আসরে। সেই সময় দেশটির নাম ছিল জায়ার। ওই আসরে তিন ম্যাচের সবকটি তারা হেরেছিল, স্কোরলাইন ছিল ১৪-০।
এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করে চমক দেখায় ডিআর কঙ্গো। পরের ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে হেরে যায় তারা একমাত্র গোলে। এবার স্মরণীয় এক জয়ে পা রাখল নকআউটে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘কে’ গ্রুপে তৃতীয় কঙ্গো। নবাগত উজবেকিস্তান প্রথম জয়ের আশা জাগিয়েও পারল না, তিন ম্যাচের সবকটি হেরে শেষ হলো তাদের অভিযান।
একই সময়ে গ্রুপের আরেক ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছে কলম্বিয়া ও পর্তুগাল। ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা কলম্বিয়া, ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ পর্তুগাল।
প্রথম মিনিটে এল্দর শমুরদভ কঙ্গোর জালে জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল পায়নি উজবেকিস্তান। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি তাদের। দশম মিনিটে অধিনায়কের চমৎকার গোলে এগিয়ে যায় তারা।
উড়ে আসা ক্রস বক্সের বাইরে থেকে ব্যাকহিল ফ্লিকে ভেতরে দেন আব্বোসবেক। কঙ্গো গোলরক্ষক একটু এগিয়ে ছিলেন, ছুটে গিয়ে দুরূহ কোণ থেকে তার মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান উজবেকিস্তানের রেকর্ড গোলস্কোরার শমুরদভ।
বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের দ্বিতীয় গোল এটি।
অষ্টাদশ মিনিটে দারুণ নৈপুণ্যে উজবেকিস্তানের জালে বল পাঠান কঙ্গোর এমবুকু। কিন্তু তাদের সেই উচ্ছ্বাস মাটি হয়ে যায়। ভিএআর পর্যালোচনার ভিত্তিতে মনিটরে দেখে গোল বাতিল করেন রেফারি। বিল্ডআপের সময় মাঝমাঠে হাত দিয়ে উজবেকিস্তানের এক খেলোয়াড়ের মুখে আঘাত করেছিলেন এমবুকু নিজেই, ফাউল।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলের কেউ আর উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলছিল। কিন্তু দুই পাশে গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিতে পারছিল না কেউ।
৬৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা টেনে কঙ্গোর আশা জাগিয়ে তোলেন উইসা। বক্সে তিনি নিজেই ফাউলের শিকার হলে এই পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি।
৭৮তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন মায়েলি। বক্সের বাইরে থেকে কঙ্গোর একজনের শট প্রতিপক্ষের পা ছুঁয়ে যায়, আর গোলরক্ষকের সামনে থেকে পায়ের টোকায় বল জালে পাঠান ৩২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে দলের জয় ও নকআউট পর্বের টিকেট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন উইসা। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা দল।