Published : 22 Dec 2025, 12:01 PM
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ নিয়ে চিন্তিত ব্যক্তিদের জন্য এ আশার আলো দেখিয়েছেন ‘ইয়েল স্কুল অফ মেডিসিন’-এর গবেষকরা।
নতুন গবেষণায় ডিমেনশিয়ার দুটি প্রধান ঝুঁকির কারণ খতিয়ে দেখেছেন তারা, যার একটি বংশগতি বা জিন ও অন্যটি মস্তিষ্কের রক্তনালীর ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকরা বোঝার চেষ্টা করেছেন, কীভাবে বংশগত বৈশিষ্ট্য ও মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
এ দুটি ঝুঁকির কারণ একসঙ্গে থাকলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে গবেষকরা বলছেন, বংশগতি বা জিন আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে মস্তিষ্কের রক্তনালীর ক্ষতি ঠেকাতে ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।
‘অ্যানালস অফ নিউরোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এ গবেষণায় কারো বংশগত ঝুঁকি ও রক্তনালীর সমস্যা উভয়ই থাকলে তাদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় কি না গবেষকরা তা খতিয়ে দেখেছেন বলে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ।
বংশগত বা জেনেটিক কারণটি মূলত ‘এপিওই’ নামের এক জিনের সঙ্গে জড়িত, বিশেষ করে এর ‘এপসিলন ৪’ ভ্যারিয়েন্ট বা সংস্করণটির সঙ্গে। যাদের শরীরে এই জিনটি রয়েছে তাদের অ্যালঝেইমার্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, যা ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে পরিচিত একটি ধরন।
দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে ‘হোয়াইট ম্যাটার হাইপারইনটেনসিটি’ বা সংক্ষেপে ‘ডব্লিউএমএইচ’। এগুলো মস্তিষ্কের ভেতরের কিছু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ, যা এমআরআই স্ক্যানে উজ্জ্বল দাগ হিসেবে দেখা যায়। সাধারণত মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো না হলে এমনটি ঘটে। যারা উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছেন তাদের বেলায় এ ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেশি।
এ কাজে ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস রিস্ক ইন কমিউনিটিজ’ ও ‘ইউকে বায়োব্যাংক’-এর করা বড় দুটি গবেষণার তথ্য ব্যবহার করেছেন গবেষকরা। কতজন মানুষের মস্তিষ্কে রক্তনালীর ক্ষতি রয়েছে, কতজন ‘এপিওই’-এর ‘এপসিলন ৪’ জিনের অধিকারী বা কতজনের মধ্যে এ দুটি সমস্যাই আছে তা দেখেছেন গবেষকরা। এরপর তাদের মধ্যে কতজন শেষ পর্যন্ত ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করেছেন তারা।
গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে, যাদের শরীরে এ দুটি ঝুঁকির কারণই রয়েছে তাদের ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি। তবে ভালো খবর, এসব ঝুঁকি ‘অ্যাডিটিভ’ বা যোগফলীয় ও ‘মাল্টিপ্লিকেটিভ’ বা গুণিতক নয়।
সহজভাবে বললে, প্রতিটি কারণ নিজের মতো করে মোট ঝুঁকির পরিমাণ বাড়ায়। তবে তারা একে অপরকে আরও ভয়াবহ করে তোলে না। অন্যভাবে বললে, ঝুঁকিপূর্ণ জিনটি থাকার কারণে রক্তনালীর ক্ষতির প্রভাব দ্বিগুণ হয়ে যায় না, আবার রক্তনালীর সমস্যার কারণে জিনের প্রভাবও বাড়ে না।
গবেষণার ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ রক্তনালীর সমস্যাকে ঠেকানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও নিয়মিত ব্যায়ামের মতো বিভিন্ন অভ্যাস মস্তিষ্ককে এই ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
এ গবেষণার প্রধান লেখক ড অ্যাডাম ডি হ্যাভেনন বলেছেন, এ গবেষণার ফলাফল মানুষকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ দেখিয়েছে। কারো শরীরে বংশগত ‘এপিওই’-এর ‘এপসিলন ৪’ জিন থাকলেও নিশ্চিত নয় যে তার ডিমেনশিয়া হবেই। হৃদরোগ ও রক্তনালীর স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়ে এ ঝুঁকি কমিয়ে আনতে ও সম্ভবত রোগটি ঠেকাতে পারেন তারা।