Published : 06 Jan 2026, 03:08 PM
নারী ও শিশুদের যৌন উত্তেজক ছবি তৈরির কারণে ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রক-এর বিরুদ্ধে ফ্রান্স ও ভারতের সঙ্গে সুর মিলিয়ে এখন ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে মালয়েশিয়াসহ তিনটি দেশ।
মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ব্যবহারকারীদের নির্দেশের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশুদের ছবি থেকে ডিজিটালভাবে পোশাক সরিয়ে তাদের বিকিনি পরা অবস্থায় উপস্থাপন করছে গ্রক।
চ্যাটবটটির তৈরি পোশাকবিহীন ছবি ও ব্যবহারকারীদের অভিযোগ অনুসারে, গত কয়েক দিন ধরে ডিজিটাল উপায়ে এই পোশাক সরিয়ে ফেলার হিড়িক শুরু হয়েছে এক্স-এ।
গেল বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো এক্স-এ বিষয়টি সামনে আসে। নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ‘এডিট ইমেজ’ বাটন চালুর পর থেকে এ ধারা শুরু হয়েছে। এ বাটনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা যে কোনো ছবি পরিবর্তনের সুযোগ পান।
এক্স প্লাটফর্মে মানুষের প্রায় নগ্ন ছবির এই ঢল গোটা বিশ্বে ভয়ের ঘণ্টা বা বিপদের সংকেত বাজিয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।
গত সপ্তাহান্তে মালয়েশিয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে তারা। গ্রক ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের ছবি বিকৃত করে ‘অশালীন বা ক্ষতিকর’ কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে– এমন অভিযোগ পাওয়ার পর এ পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি।
মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশন সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি বা ছড়িয়ে দেওয়া মালয়েশিয়ার আইন অনুসারে অপরাধ।
কমিশন বলেছে, দেশটির আইন লঙ্ঘনকারী এক্স ব্যবহারকারীদের তদন্ত ও কোম্পানিটির প্রতিনিধিদের তলব করবে গণমাধ্যম তদারক করা সংস্থাটি।
“এক্স বর্তমানে মালয়েশিয়ার লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো কোম্পানি না হলেও প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কোনো কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো তাদের দায়িত্ব।”
নিউ স্ট্রেইটস টাইমস-এর রিপোর্ট অনুসারে, চ্যাটবটটি কেবল নারীদের বিকিনি পরা ছবিই তৈরি করেনি, বরং মালয়েশিয়ান নারীদের মাথা থেকে হিজাব বা ওড়না সরিয়ে দেওয়া বিকৃত ছবিও তৈরি করেছে।
শুক্রবার ভোরের দিকে এই বিতর্ক নিয়ে যেন উপহাসই করেছেন মাস্ক। নিজের ও অন্যান্য বিখ্যাত ব্যক্তিদের বিকিনি পরা এআই দিয়ে তৈরি ছবির প্রতিক্রিয়ায় ‘হাসি-কান্নার’ ইমোজি পোস্ট করেছেন তিনি।
একজন এক্স’ ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, তার সামাজিক মাধ্যম ফিড এখন বিকিনি পরা নারীর ছবিতে ঠাসা কোনো বারের মতো মনে হচ্ছে। এ পোস্টে আবারও নিজের সেই ‘হাসি-কান্নার’ ইমোজি দিয়ে সাড়া দিয়েছেন মাস্ক।
তবে সমালোচনা ও ক্ষোভ বাড়তে থাকায় রোববার মাস্ক বলেছেন, অবৈধ কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে তার প্ল্যাটফর্ম। যার মধ্যে শিশুসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পোস্ট সরিয়ে ফেলা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাকাউন্টকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধও করা হচ্ছে।
এক পোস্টে মাস্ক বলেছেন, “কেউ যদি অবৈধ কনটেন্ট তৈরির জন্য গ্রক ব্যবহার করে তবে তাকে অবৈধ কনটেন্ট আপলোডের পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
শুক্রবার এক্স’কে একটি চিঠি পাঠিয়ে এআই চ্যাটবটটি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এ কঠোর নির্দেশনার মাধ্যমে ভারত এক্সকে নিশ্চিত করতে বলেছে, প্লাটফর্মটির মাধ্যমে যেন কেউ ‘নগ্নতা, যৌনতা, যৌনউস্কানিমূলক বা অন্য কোনো বেআইনি কনটেন্ট তৈরি করতে না পারে’।
প্ল্যাটফর্মটিকে ভারত সরকারের নির্দেশ, এ সমস্যা সমাধানে তারা কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। একইসঙ্গে দিল্লি সতর্ক করে বলেছে, এ নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে প্লাটফর্মটির বিরুদ্ধে দেশটির ফৌজদারি ও আইটি আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ভারত সরকার আরও বলেছে, এআই দিয়ে তৈরি আপত্তিকর কনটেন্টের কারণে সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা বিবেচনা করতে পারে তারা।
তবে এক্স-এ শিশুদের যৌনতাপূর্ণ ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে মাস্কের এআই স্টার্টআপ ও গ্রক চ্যাটবট নির্মাতা ‘এক্সএআই’ বলেছে, লিগ্যাসি মিডিয়া বা মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো ‘আসলে মিথ্যা বলে’।
এক্স-এর ওপর গ্রক-এর মাধ্যমে মানুষের সম্মতি ছাড়াই ‘পরিষ্কার অবৈধ’ যৌন কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ এনেছে ফ্রান্সও। দেশটি বলেছে, গ্রকের তৈরি এসব ছবি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ নামের আইন লঙ্ঘন করতে পারে।
এদিকে, প্যারিসের পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় এক্স-এর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে। এতে নতুন অভিযোগ এনে কার্যালয় বলেছে, গ্রক-কে শিশু নির্যাতনের কনটেন্ট তৈরি ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন…