Published : 09 Apr 2026, 11:56 AM
অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত ফোল্ডএবল আইফোন বাজারে আসা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, প্রাথমিক উৎপাদন পরীক্ষার সময় ডিসপ্লে ও স্থায়িত্ব সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেওয়ায় ফোনটি ২০২৬ সালের নির্ধারিত সময়ে আসবে নাকি আরও দেরি হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই প্রতিবেদনে লিখেছে, অ্যাপল তাদের ভাঁজ করা যায় এমন বা ফোল্ডএবল আইফোন তৈরি করতে গিয়ে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সমস্যার মুখে পড়েছে। ফলে ফোনটি বাজারে আসার সময় পিছিয়ে যেতে পারে।
এ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত একাধিক সূত্র বলেছে, ফোনের প্রাথমিক উৎপাদন পরীক্ষার সময় কিছু প্রকৌশলগত জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রথম চালানের সরবরাহ কয়েক মাস দেরি হতে পারে।
তবে মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে নিক্কেইয়ের এমন দাবিকে অস্বীকার করা হয়েছে।
নিক্কেইয়ের সূত্র বলেছে, “বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ফোনটির ব্যাপক উৎপাদনের সময়সীমা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এপ্রিল মাসটি ফোনের ইঞ্জিনিয়ারিং ভেরিফিকেশন টেস্ট যা কারিগরি বিষয়াদি যাচাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ এবং এ মাস থেকে মে মাসের শুরু পর্যন্ত সময়টি খুবই নাজুক।”
যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী বিভিন্ন কোম্পানিকে এরইমধ্যে উৎপাদন পিছিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে এবং অ্যাপল এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে বলেও প্রতিবদনে লিখেছে নিক্কেই।
তবে ব্লুমবার্গ বলছে, ডিভাইসটির উন্নয়ন এখনও ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসার লক্ষ্য ঠিক রেখেই এগোচ্ছে।
“পরিকল্পনাটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা বলেছেন, কোম্পানিটি সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স-এর পাশাপাশি তাদের এ ফোল্ডএবল মডেলটি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
তবে, প্রতিবেদনে ব্লুমবার্গ এটাও লিখেছে, ফোল্ডএবল আইফোনের ডিসপ্লে ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের জটিলতার কারণে ‘প্রথম কয়েক সপ্তাহ এর সরবরাহ সীমিত থাকতে পারে’।
অ্যাপল সম্ভবত পরিকল্পনা করছে প্রচলিত সিরিজের বিভিন্ন আইফোন মডেলের সঙ্গে বা এর ঠিক পরপরই ফোল্ডএবল ফোন বাজারে ছাড়ার। এই সময়সীমা এখনও চূড়ান্ত নয় এবং উৎপাদন শুরু হওয়ার আগে আরও নতুন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নিক্কেই বা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বিষয়ে এনগ্যাজেটের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি অ্যাপল।
২০১৭ সাল থেকেই ফোল্ডএবল আইফোন নিয়ে গুঞ্জন চলছে, যেখানে অ্যাপলের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং তাদের প্রথম ভাঁজ করা ফোন বাজারে এনেছে সেই ২০১৯ সালে।
একাধিক সূত্রের মতে, অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডএবল আইফোন ২০২৬ সালের শেষদিকে আইফোন ১৮-এর সঙ্গে বাজারে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল।
তবে গেল মাসে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানা গেছে, “অ্যাপল যদি উৎপাদন বা স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো সমস্যার মুখে পড়ে, বিশেষ করে ফোনের ডিসপ্লে নিয়ে তবে এই প্রকল্প ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।”
নিক্কেইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, আইফোনের মোট উৎপাদনের তুলনায় এ ফোল্ডএবল ফোনটির উৎপাদন সংখ্যা ১০ শতাংশের কম হতে পারে।
এরপরও অ্যাপলের জন্য ফোনটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হতে যাচ্ছে, যা আইফোনের পুরো রেঞ্জের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেবে।
অ্যাপল প্রাথমিকভাবে ৭০ থেকে ৮০ লাখ ডিভাইস তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে এখন পর্যন্ত অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে এ ডিভাইসটি নিয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।