Published : 10 Feb 2026, 10:42 AM
একে স্পর্শ করলে মানুষের মতো উষ্ণতা মেলে, মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে হাসে, শরীরের ভেতরে পাঁজরের খাঁচাও রয়েছে। অথচ এটি একটি রোবট।
চীনের সাংহাইয়ের একটি স্টার্টআপের দেখানো রোবটটি এতটাই মানুষের আদলে তৈরি যে, একে দেখে একদিকে যেমন বিস্ময় জাগে তেমনই জাগে অস্বস্তি বা ভয়!
প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার প্রতিবেদনে লিখেছে, অনেক রোবট নির্মাতাই নিজেদের বিভিন্ন মেশিনকে ‘মানুষের মতো দেখতে’ বানাতে চায় না। কারণ রোবটের মুখ বা চামড়া যত বেশি মানুষের মতো হয় তা দেখতে ততই অদ্ভুত লাগে। বিষয়টিকে বলে ‘আঙ্কানি ভ্যালি ইফেক্ট’। সম্ভবত এ কারণেই বর্তমানের অনেক হিউম্যানয়েড রোবট কোম্পানি, যেমন বস্টন ডায়নামিক্স নিজেদের বিভিন্ন রোবটকে প্লাস্টিক ও ধাতব আবরণে রাখতেই পছন্দ করেছে।
তবে এই প্রথা মানতে নারাজ সাংহাইভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ড্রয়েডআপ’। সম্প্রতি সাংহাইয়ের ঝাংজিয়াং রোবটিক্স ভ্যালিতে ‘মোয়া’ নামের এক হিউম্যানয়েড রোবট দেখিয়েছে কোম্পানিটি। রোবটিক্স ভ্যালিটি এমন এক শিল্প পার্ক, যাকে চীনের জাতীয় পর্যায়ের এক রোবটিক্স হাব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, সেখানে ১৫০টিরও বেশি কোম্পানি কাজ করছে, যার অন্যতম ‘ড্রয়েডআপ’।
এ নতুন রোবট ‘মোয়া’কে ‘বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বায়োনিক এমবডেড ইন্টেলিজেন্ট রোবট’ বলে বর্ণনা করেছে ড্রয়েডআপ। এসব কথা শুনতে জটিল মনে হলেও এর সহজ অর্থ হচ্ছে, এসব রোবট এমনভাবে তৈরি যেন তা দেখতে, নড়াচড়া করতে ও অনুভব করতে পারে একদম মানুষের মতোই।
গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইওয়ালা রোবট তৈরিতে অভাবনীয় উন্নতি করেছে চীন। দেশটির সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মোয়া হাসছে, মাথা নাড়াছে ও সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চোখের দিকে তাকাচ্ছে।
মানুষের অজান্তেই ঘটে যাওয়া সূক্ষ্ম সব অঙ্গভঙ্গি, যেমন ভ্রু সামান্য উঁচানো বা ঠোঁটের কোণা কাঁপানোর মতো বিষয়ও রোবটি অবলীলায় করছে। রোবটের ভেতরে থাকা ক্যামেরা সিস্টেম ও এআই প্রযুক্তির সমন্বয়ে এমনটি সম্ভব হয়েছে।

শারীরিকভাবে রক্ত-মাংসের মানুষের মতোই উষ্ণ এসব রোবট
মোয়া বানানোর ক্ষেত্রে এর শারীরিক খুঁটিনাটি তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছে ড্রয়েডআপ। এর উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি, যা একজন গড়পড়তা পূর্ণবয়স্ক মানুষের সমান এবং ওজন প্রায় ৩২ কেজি। এর দেহ একটি ‘মডিউলার প্ল্যাটফর্ম’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে কোম্পানিটি চাইলে ভেতরের হার্ডওয়্যার একই রেখে এর বাইরের রূপে পরিবর্তন ও প্রয়োজন অনুযায়ী একে নারী বা পুরুষ হিসেবেও সাজাতে পারে।
পাশাপাশি, এর সিলিকনের আবরণের নিচে এমন কিছু স্তর রয়েছে, যা মানুষের দেহের টিস্যুর মতো, যেমন নরম প্যাডিং, যা আমাদের ত্বকের নিচের অংশের মতো কাজ করে। এর দেহের ভেতরে পাঁজরের খাঁচাও রয়েছে।
রোবটির গা ছমছমে বা অস্বস্তিকর বিষয় হচ্ছে, এর শরীর উষ্ণ, যা রোবটটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো মাধুর্যের বিষয় নয়, বরং আক্ষরিক অর্থেই এর দেহ উষ্ণ।
মোয়ার ত্বক এমনভাবে তৈরি, যাতে এর তাপমাত্রা ৯০থেকে ৯৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকে। ফলে একে স্পর্শ করলে তা ব্যবহারকারীদের কাছে জ্যান্ত মানুষের মতোই উষ্ণ মনে হবে।
ড্রয়েডআপের প্রতিষ্ঠাতা লি কিংডু বলেছেন, এর পেছনে বিশেষ এক কারণ রয়েছে।
“রোবটটি আসলে মানুষের সেবায় কাজ করবে। একে উষ্ণ হতে হবে, যা অনেকটা জ্যান্ত প্রাণীর মতো, যার সঙ্গে মানুষ একাত্ম হতে পারবেন।”
কোম্পানিটির দাবি, মোয়া ৯২ শতাংশ মানুষের মতো নিখুঁতভাবে হাঁটতে পারে। তবে বিভিন্ন ভিডিও দেখলে বোঝা যায়, রোবটি এখনও ত্রুটিমুক্ত নয়। এর হাঁটার মধ্যে কিছুটা আড়ষ্টতা রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এসব রোবট আসলে কারা কিনবে? স্বাস্থ্যসেবা, একাকী মানুষের সঙ্গী হিসেবে ও ব্যবসায়িক কাজের জন্য মোয়াকে বাজারে আনছে ড্রয়েডআপ।
২০২৬ সালের শেষদিকে রোবটটি বাজারে আসবে। এর প্রাথমিক দাম প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার ডলার হতে পারে।