Published : 05 Jun 2026, 10:11 AM
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলার পুরনো বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৮ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত ৭ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন ভৈরব বাজার রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম দখল করে স্টেশনমাস্টারের কক্ষসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়।
এ ঘটনায় ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রেলপথে প্রায় ৫ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। আশপাশের স্টেশনে আটকা পড়ে পাঁচটি ট্রেন।

সংঘর্ষ থামাতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, রেলপুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় শতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর রাত দেড়টায় আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয় বলে ভৈরব বাজার স্টেশনের মাস্টার মো. ইউছুফ জানান। তিনি বলেন, হামলা ও ভাঙচুরে স্টেশনের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহ দুই আগে ভৈরব পৌর এলাকার পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুরের তরুণদের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ হয়েছিল। সেদিন খেলার মধ্যে দুই গ্রামের ছেলেদের তর্কাতর্কি থেকে ঝগড়া হয়।

সেই ঝগড়ার জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথপুরের সোহেল মিয়ার ছেলে লিয়ামকে (১৭) পঞ্চবটীর ছেলেরা মারধর করে।
সেই খবর জগন্নাথপুর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে ভৈরব রেলস্টেশনে ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দখল করে ২ গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
খবর পেয়ে প্রথমে রেলপুলিশ, পরে ভৈরব থানা পুলিশ, ভৈরব ক্যাম্পের র্যাব, ভৈরব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সর্বশেষ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

এসময় ওই পথে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে কয়েকটি ট্রেন।
চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর গোধূলি, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা পারাবত এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্ধুর গোধূলি, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ভৈরবগামী নরসিংদী কমিউটার ট্রেন রাত ১টা পর্যন্ত আটকে থাকে।
এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সংঘর্ষের সময় ভৈরব বাজার রেলস্টেশনে শত শত যাত্রী দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি আবু সাইদ জানান, দীর্ঘসময় চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ভৈরবের ইউএনও এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, “আমরা ধৈর্য ধারণ করে যাত্রী ও জানমালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এগিয়েছি। তাতে সময় লেগেছে।”