Published : 06 Jun 2026, 12:59 PM
দেশের জার্সিতে প্রথম গোল করার এক সপ্তাহও হয়নি এখনও। সামনে বিশ্বকাপ খেলার হাতছানি। স্বপ্নের ঘোরেই ছিলেন লেনার্ট কার্ল। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের মঞ্চে এসেই হৃদয় ভাঙার যন্ত্রণা। পেশির চোটে মাঠের বাইরে ছিটকে গেলেন তিনি। তরুণ প্রতিভাবান এই ফুটবলারকে বিশ্বকাপে পাচ্ছে না জার্মানি।
শিকাগোতে শুক্রবার অনুশীলনের সময় কার্লের বাম উরুর মাংসপেশি ছিঁড়ে যায় এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে জানা যায় দুঃসংবাদ।
বায়ার্ন মিউনিখের বিস্ময়-বালকের পরিবর্তে জার্মানির স্কোয়াডে সুযোগ পাচ্ছেন লাইপজিগের মিডফিল্ডার আসান ওয়েদহাওগো।
জার্মানির উঠতি ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময়দের একজন মনে করা হয় কার্লকে। এবারের মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে দারুণ ঝলক দেখিয়ে অবদান রেখেছেন ক্লাবের ঘরোয়া ট্রেবল জয়ে। উল্কার মতো আবির্ভুত হয়ে নজর কাড়েন তিনি দ্রুতই।
গত মার্চে জাতীয় দলে ডাক পেয়ে যান ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার। এরপর জায়গা করে নেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও। গত রোববার প্রথম গোলের স্বাদও পেয়ে যান ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে।
কার্লকে হারিয়ে হাহাকার ফুটে উঠল জার্মানির কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের কণ্ঠে।
“লেনির জন্য আমার প্রচণ্ড খারাপ লাগছে। প্রাণবন্ত উপস্থিতি, সৃজনশীলতা, গতি এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে সে দলের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছিল।”
“সে যে বিশ্বকাপ খেলতে পারবে না, এটা তার জন্য এবং আমাদের সবার জন্য বিরাট এক ধাক্কা। সামান্য সান্ত্বনার ব্যাপার যে, তার বয়স খুবই কম এবং তার সামনে এখনও অনেক টুর্নামেন্ট বাকি আছে।”
কার্লের বদলে সুযোগ পাওয়া ওয়েদহাওগোর ওপরও অবশ্য ভরসা রাখছেন কোচ।
"আসান ওয়েদহাওগোর মধ্যে আমরা এখন এমন একজন ফুটবলারকে পাচ্ছি, যে লেনির মতোই আমাদের হয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছিল। সেও অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং সাহসিকতায় ও স্বাধীনভাবে খেলার জন্যই তার জন্ম।”
বিশ্বকাপের জন্য গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে জার্মানি। চারবারের চ্যাম্পিয়নরা গত দুটি আসরেই মুখ থুবড়ে পড়েছে গ্রুপ পর্বেই। এবার ব্যর্থতার ধারা ভাঙার লক্ষ্য তাদের। ‘ই’ গ্রুপে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তারা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৪ জুন।
প্রস্তুতি ম্যাচে শনিবার নাগেলমানের দল লড়বে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে।